আরিফ উদ্দিন, গাইবান্ধাঃ একাত্তরের বীর মুক্তিযোদ্ধা আব্দুল খালেক প্রধানের নিজ বাড়ি গাইবান্ধা জেলার গোবিন্দগঞ্জ উপজেলার মহাব্বলপুর তুলশীপাড়া গ্রামে। তার মৃত পিতার নাম ছিফাতুল্যা প্রধান। কিন্তু তিনি নিজভূমিতে এখন পরবাসী। স্থানীয় ভুমিদস্যুদের হামলা-মামলার নৈরাজ্যে দিশেহারা। প্রাণহানীর আশংকায় তিনি ভিটেমাটি ছেড়ে বিভিন্ন মাজারে অনাহারে অর্ধাহারে রাত কাটান। ‘দরবেশ’ নামেও পরিচিতি অর্জন করেন।

অসহায় মানবেতর জীবনযাপনকারী এই বীর মুক্তিযোদ্ধা চিরকুমার নামেও পরিচিত। তার মুক্তিযোদ্ধা গেজেট নং- ১৭১৫। ছাত্র রাজনীতিতে তিনি তৎকালীন পূর্ব পাকিন্তান ছাত্রলীগ থেকেই বিএলএফ মুক্তিযোদ্ধা অংশগ্রহন করেন।

আব্দুল খালেক প্রধান অভিযোগ করেন, তার নিজ গ্রামের জে.এল নং- ২৫৬, সিএস খতিয়ান নং- ১১, আরএস খতিয়ান নং- ০৮, ডিপি খতিয়ান নং- ৫২, সাবেক দাগ নং- ৪৮৫, হাল দাগ নং- ৪৪৯ তফশীলভুক্ত মোট জমির পরিমাণ ৪২ একরের মধ্যে ২০ একর। যার সাবেক দাগ নং- ৪৮৬, হাল দাগ নং- ৪৪৯ ভুক্ত জমির পরিমাণ ০৩.০০০ একর একুনে ২৩ একর জমির নালিশী সম্পত্তি আছে। যা পিতা-মাতা সূত্রে কবলা খরিদা বটে।

উক্ত সম্পত্তির ভোগদখল বহাল থাকাকালে মৌখিকভাবে বন্ধক রাখার সহরৎ দিলে বিবাদী আমিরুল ইসলাম গত ২৬/০৫/২০০৮ইং তারিখ থেকে ৭ বছর মেয়াদী বন্ধক গ্রহণ করে ভোগদখল করতে থাকে। কিন্তু বন্ধকী নেয়া দেয়ার কোন বৈধ প্রমাণ নেই। তদুপরী তফশীল বর্ণিত সম্পত্তির বন্ধকী মেয়াদ ৭ বছর উত্তীর্ণ হওয়া সত্ত্বেও বিবাদী পক্ষ দখল হস্তান্তর না করে স্থানীয় ভূমিদস্যুদের ছত্রছায়ায় অবৈধভাবে জবরদখল করে রাখে।

এ নিয়ে একাধিক মামলা-মোকদ্দমার কারণ ঘটে। নালিশী মোকদ্দমার রায় বাদী পক্ষের অনুকুলে দেয়া এবং বিজ্ঞ আদালতের মাধ্যমে বিবাদী পক্ষকে উচ্ছেদ পূর্বক ঢোল সহরত ও লাল নিশান উড়িয়ে বাদীকে দখল ভোগের অনুমতি দিলেও তা উপেক্ষা করে পর সম্পত্তি লোভী বিবাদী পক্ষ সংঘবদ্ধ ভূমিদস্যুদের ছত্রছায়ায় নালিশী সম্পত্তি বেআইনীভাবে জবরদখলের পায়তারায় লিপ্ত হয়।

এ ঘটনার পাশাপাশি মুক্তিযোদ্ধা পরিবারকে গ্রাম ছাড়া করা, খুন-জখমের ভয়ভীতি প্রদর্শন অব্যাহত রাখার প্রতিবাদে পুলিশ প্রশাসনের একাধিক দপ্তরে লিখিত অভিযোগ পেশ করা হলেও নেই কোন প্রতিকার। পুলিশের লম্বা হাত পর্যন্ত নিষ্ক্রিয় হয়ে পড়ায় বীর মুক্তিযোদ্ধা আব্দুল খালেক চলমান শুদ্ধি অভিযানে প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনার আশু হস্তক্ষেপ দাবি করেছেন। তিনি কলম সৈনিকদের সহায়তাও কামনা করেন।

মন্তব্য লিখুন (ফেসবুকে লগ-ইন থাকতে হবে)

মন্তব্য