নিজের গুরুত্ব নিয়ে হয়তো আত্মপ্রেমিক বা নার্সিসিস্টদের মধ্যে বিশাল ভ্রান্ত ধারণা থাকে এবং তাদের মধ্যে লজ্জাও কিছুটা কম থাকে- কিন্তু মনোবিজ্ঞানীরা বলছেন, বেশিরভাগ মানুষের তুলনায় তারা বেশি সুখী।

কুইন্স ইউনিভার্সিটি বেলফাস্টে চলমান এক গবেষণায় গবেষকরা বলছেন, এ ধরণের মানুষ অনেকের বদমেজাজের কারণ হলেও এরা নিজেরা মানসিক চাপে কম ভোগেন।

মনোবিদ ডাঃ কোস্টাস পাপাজর্জিও বলেন, নার্সিসিজমের প্রতি নেতিবাচকতার কারণে নার্সিসিস্টরা নিজেরা যে সুবিধা ভোগ করে তা অনেক ক্ষেত্রে ঢাকা পড়ে যেতে পারে।

গবেষকরা বোঝার চেষ্টা করছেন যে, “সামাজিকভাবে বিষাক্ত” হলেও আধুনিক সমাজ, রাজনীতি, সামাজিক মাধ্যম এবং সেলিব্রেটি সংস্কৃতিতে কেন এই নার্সিসিজম বা আত্মপ্রেম বেড়েই চলেছে।

খুবই কম লজ্জা বা অপরাধবোধ

নার্সিসিস্টদের যেভাবে বর্ণনা করা হয়, তারা হচ্ছে এমন মানুষ যারা ‘বিপজ্জনক আচরণ করে, নিজেদেরকে অযথাই অন্যের তুলনায় বড় মনে করে, অতিরিক্ত আত্মবিশ্বাসী, অন্যের প্রতি খুব কম সহানুভূতি দেখায় এবং এদের লজ্জা এবং অপরাধবোধ খুব কম কাজ করে’।

এতসব নেতিবাচক বৈশিষ্ট্য থাকার কারণেও গবেষকরা জানার চেষ্টা করছেন যে, নার্সিসিজম এতো বেশি প্রকট কেন এবং একে শাস্তি দেয়ার পরিবর্তে কেন পুরস্কৃত করা হয়।

সাইকোপ্যাথি, ম্যাকিয়াভেলিয়ানিজম এবং স্যাডিজমের পরে নার্সিসিজমকেই মনোবিদরা মানুষের মানসিক দিকের সবচেয়ে ‘কালো বৈশিষ্ট্য’ বা ‘ডার্ক ট্রেইটস’ হিসেবে চিহ্নিত করেছেন।

কিন্তু ডাঃ পাপাজর্জিও’র গবেষণায় ৭০০ জন প্রাপ্তবয়স্ক মানুষ অংশ নিয়েছেন। যা থেকে জানা গেছে যে, এটা সমাজের জন্য খারাপ হলেও একজন ব্যক্তি হিসেবে নার্সিসিস্টের জন্য ভাল।

তাদের মধ্যে অন্যকে ছোট দেখানোর একটা প্রবণতা এবং তাদের সংসর্গে মানসিক ক্ষতির আশঙ্কা থাকলেও এই ব্যক্তিত্ব তাদের নিজেদেরকে খারাপ লাগা প্রতিরোধক করে তোলে।

তাদের মানসিক চাপ কম থাকে এবং তারা জীবনকে চাপযুক্ত মনে করে না। আর এক্ষেত্রে তাদের আত্মবিশ্বাস এবং আত্মগুরুত্বের উচ্চমাত্রা তাদের মধ্যে এক ধরণের ‘সুরক্ষা’ প্রদানকারী গুণের বিকাশ ঘটায়।

ক্ষমতা নিয়ে মগ্ন

বেলফাস্ট টিমের আগের একটি গবেষণা থেকে জানা যায়, পেশাগত এবং সামাজিক জীবনে নার্সিসিস্টদের জয়ী হওয়ার সম্ভাবনা বেশি থাকে। নিজেদের ‘মানসিক দৃঢ়তা’ তাদেরকে প্রত্যাখ্যান এবং হতাশা মোকাবেলায় সাহায্য করে।

ডাঃ পাপাজর্জিও দেখেছেন যে, নার্সিসিজমের ভিন্নতার মাত্রার ভিত্তিতে ভিন্ন ভিন্ন মানসিক পরিণতি তৈরি হয়।

নার্সিসিস্টদের মধ্যে যারা ‘বাগাড়ম্বরপূর্ণ’ স্বভাব থাকে তারা “স্ট্যাটাস এবং ক্ষমতা নিয়ে মগ্ন থাকে” এবং “তাদের মধ্যে নিজেকে অতি গুরুত্বপূর্ণ ভাবা”র বোধ কাজ করে, তিনি বলেন।

তবে ‘দুর্বল’ নার্সিসিস্টদের মধ্যে এক ধরণের রক্ষণাত্মক বা প্রতিরক্ষামূলক আচরণ থাকে এবং এরা অন্যের আচরণকে বিরূপ বা শত্রুভাবাপন্ন মনে করে।

ডাঃ পাপাজর্জিও’র মতে, নিজের কল্যাণ এবং চাপ সামাল দেয়ার ক্ষেত্রে ‘বাগাড়ম্বরপূর্ণ’ স্বভাবের নার্সিসিস্টরা ‘খুব ইতিবাচক’ চরিত্রের হয়।

“নাসির্সিজমের সব দিক অবশ্যই ভাল নয়, কিন্তু কিছু দিক ইতিবাচক ফলাফল বয়ে আনতে পারে,” তিনি বলেন।

এই ধরনের মনস্তাত্ত্বিক বৈশিষ্ট্যগুলিকে “ভাল বা খারাপ হিসাবে বর্ণনা করা ঠিক হবে না। বরং মানবে স্বভাবের বিবর্তন এবং প্রকাশের ফল হিসেবে দেখা যেতে পারে যা পরিস্থিতি অনুসারে সহায়ক বা ক্ষতিকর হতে পারে।

এ বিষয়ে আরো গবেষণা হয়তো এ ধরণের আরো কিছু বৈশিষ্ট্যকে সামনে নিয়ে আসবে। তবে সবার মঙ্গলের উদ্দেশ্যে আচরণের এ ধরণের বৈশিষ্ট্যকে নিরুৎসাহিতই করা হয়।

মন্তব্য লিখুন (ফেসবুকে লগ-ইন থাকতে হবে)

মন্তব্য