মাসুদ রানা পলক,ঠাকুরগাঁওঃ মিথ্যা অভিযোগে চাকরিচ্যুত হওয়ার ভয়ে ইঁদুর মারা বিষ খেয়ে গৃহবধূ আয়েশা বেগম (৩৫) আত্মহত্যার ঘটনায় ঠাকুরগাঁওয়ের বালিয়াডাঙ্গী থানায় মামলা দায়ের করেছেন তার স্বামী।

স্ত্রীকে আত্মহত্যা করতে বাধ্য করা হয়েছে এমন অভিযোগ এনে রবিবার (২৭ অক্টোবর) রাত সাড়ে ১১টায় গৃহবধূর স্বামী মোজাম্মেল হক বাদী হয়ে ১৬ জনের নাম উল্লেখসহ আরও অজ্ঞাত ২০ থেকে ২২ জনের বিরুদ্ধে মামলা দায়ের করেছেন।

সোমবার (২৮ অক্টোবর) বিকালে আমাদের প্রতিনিধিকে বিষয়টি নিশ্চিত করেছেন বালিয়াডাঙ্গী থানার ওসি মোসাব্বেরুল হক।

গৃহবধূ আয়েশা বেগম ঠাকুরগাঁওয়ের বালিয়াডাঙ্গী উপজেলার দুওসুও ইউনিয়নের লালাপুর ডাঙ্গীপাড়া গ্রামের রিকশা চালক মোজাম্মেল হকের স্ত্রী।

মামলার আসামিরা হলেন- জেলার বালিয়াডাঙ্গী উপজেলার দুওসুও ইউনিয়নের লালাপুর ডাঙ্গীপাড়া গ্রামের খলিলুর রহমান (৬০), ফারুহ হোসেন (২৮), এলাহি (২০), খাইরুল ইসলাম (২৭), দেলোয়ার হোসেন (৩২), মাহাফুজ (২২), সলিম উদ্দীন (৪৫), সহিদুল ইসলাম (৩৭), আনোয়ার হোসেন (২২), মকবুল হোসেন (৩৬), মিন্টু মিয়া (২২), বাবলাহ (২৩), বাবুল ইসলাম (৬০), রেজিয়া পারভীন (৫৫), রফিক (৩৭) ও কালমেঘ বারঢালী গ্রামের ফারুক হোসেনসহ (৫৫) আরও অজ্ঞাত ২০ থেকে ২২ জন।

গৃহবধূর স্বামী ও মামলার বরাত দিয়ে ওসি জানান, বালিয়াডাঙ্গী উপজেলা পরিষদে মাস্টাররোলে আয়া পদে কর্মরত ছিলেন আয়েশা বেগম। গত ২৪ অক্টোবর স্থানীয় একটি ফুটবল খেলাকে কেন্দ্র করে রাত সাড়ে ১১টায় গৃহবধূর বাড়ি সীমানার বেড়া ভাঙচুরসহ আয়েশাকে গালিগালাজ করে আসামিরা। এর প্রতিবাদ করতে গেলে আয়েশাকে উপজেলা পরিষদের চাকরিচ্যুত করার হুমকি দেন তারা। স্থানীয় ইউপি সদস্য ফজলুর রহমান বিষয়টি মীমাংসা করে দিলেও মেনে নেননি আসামিরা।

তিনি আরও বলেন, গতকাল রবিবার গৃহবধূর বিরুদ্ধে উপজেলা পরিষদে মিথ্যা অভিযোগ দায়ের হয়েছে শুনে বালিয়াডাঙ্গী চৌরাস্তা বাজারে এসে ইঁদুর মারা বিষ (গ্যাস টেবলেট) খেয়ে আত্মহত্যার চেষ্টা চালায়। খবর পেয়ে স্থানীয়রা তাকে উদ্ধার করে বালিয়াডাঙ্গী উপজেলা স্বাস্থ্য কমপ্লেক্সে নিয়ে যায়। এ সময় গৃহবধূর অবস্থা আশঙ্কাজনক দেখে তাকে ঠাকুরগাঁও আধুনিক সদর হাসপাতালে স্থানান্তর করা হয়।

গৃহবধূর স্বামী মোজাম্মেল হক জানান, ঠাকুরগাঁও আধুনিক সদর হাসপাতালে নেওয়ার পথে ভেলাজান নামক স্থানে তার মৃত্যু হয়। আমার স্ত্রীকে আত্মহত্যা করতে বাধ্য করেছে আসামিরা। আমি এর দৃষ্টান্তমূলক শাস্তি দাবি জানাচ্ছি।

বালিয়াডাঙ্গী থানার উপ পরিদর্শক রাশিদুল ইসলাম চৌধুরী জানান, গৃহবধূকে আত্মহত্যা করতে বাধ্য করেছে আসামি পক্ষের লোকজন। প্রাথমিক তদন্তে এমন প্রমাণ পাওয়া গেছে। বিষয়টি পুলিশ তদন্তের পাশাপাশি আসামিদের গ্রেফতারে তৎপর অভিযান চালাচ্ছে।

তবে উপজেলা পরিষদের চেয়ারম্যান আলী আসলাম জুয়েল জানান, আমার দপ্তরে আয়েশার বিরুদ্ধে কোনো লিখিত অভিযোগ আসেনি। একটি অনুষ্ঠানে ওই এলাকার কিছু লোক তার বিষয়ে মৌখিক অভিযোগ করেছিল। বিষয়টি লিখিত ভাবে জানানোর জন্য আমি বলেছিলাম। আয়েশার এমন মৃত্যুতে শোক প্রকাশের পাশাপাশি গৃহবধূর পরিবারকে সহায়তার আশ্বাস জানান তিনি।

এলাকায় খোঁজ নিয়ে দেখা গেছে, গৃহবধূর মৃত্যুর পর এলাকা ফাঁকা হয়ে গেছে। আসামিদের বাড়িতে গিয়ে কাউকে খুঁজে পাওয়া সম্ভব হয়নি। গৃহবধূর মৃত্যুর খবরে আসামিরা এলাকা ছেড়েছে বলে জানিয়েছেন স্থানীয়রা।

মন্তব্য লিখুন (ফেসবুকে লগ-ইন থাকতে হবে)

মন্তব্য