ঋতু পরিবর্তন, দূষণ বা অস্বাস্থ্যকর খাবার- হাঁপানির সমস্যা আরও বাড়িয়ে দিতে পারে।

গাড়ির ধোঁয়া, দূষণ, ধুলাবালি ইত্যাদি যা কিছু একজন হাঁপানি রোগীর দম বন্ধ করে আনতে পারে তার সবকিছুই আছে এই শহরের প্রতিটি কোণায়। আর এই শহরের পথেই দিনের একটি বড় সময় কাটাতে হয় সিংহভাগ মানুষকে। সেই সঙ্গে রয়েছে আবহাওয়া পরিবর্তনের হাওয়া। আর অস্বাস্থ্যকর খাবার তো ঘরে বাইরে সবসময় আমাদের নিত্যসঙ্গী।

সবকিছু মিলিয়ে শুধু হাঁপানি রোগীর নয়, শ্বাসতন্ত্রের অন্য যেকোনো রোগে আক্রান্ত মানুষগুলো প্রতিটি ‍মুহূর্ত কাটান মারাত্বক ঝুঁকির মধ্যে।

তাই স্বাস্থ্যবিষয়ক একটি ওয়েবসাইটে প্রকাশিত প্রতিবেদন থেকে সংগ্রহ করা তথ্যের আলোকে এমন মানুষগুলোর প্রয়োজনীয় কিছু পরামর্শ জানানো হল।

ওষুধ: চিকিৎসকের দেওয়া ওষুধ পরামর্শ মাফিক নিয়মিত গ্রহণ করতে হবে। ঘরের বাইরে যাওয়ার সময় অবশ্যই হাতের কাছে ‘ইনহেলার’ থাকতে হবে।

কুসুম গরম পানি পান: প্রতিদিন সকালে ঘুম থেকে উঠে খালি পেটে একগ্লাস কুসুম গরম পানি পান করতে হবে। পাশাপাশি কুসুম গরম পানি দিয়ে কুলকুচি করতে হবে। যেকোনো কিছু খাওয়ার আগে কমপক্ষে আধা ঘণ্টা অপেক্ষা করতে হবে।

খাবারের পরিমাণ নিয়ন্ত্রণ: প্রতিটি প্রিয় খাবার খাওয়ার সময় কী পরিমাণ খাচ্ছেন তার দিকে কড়া নজর রাখতে হবে। যাদের গলা ব্যথার সমস্যা আছে তাদের সমস্যা তীব্রতর হতে পারে অতিরিক্ত তৈলাক্ত ও ভাজাপোড়া ধরনের খাবার খেলে। এতে দম বন্ধ হয়ে আসতে পারে এবং প্রচণ্ড অস্বস্তি হতে পারে।

ঘুমানোর আগে কুসুম গরম পানি: রাতে ঘুমানোর আগে এক কাপ কুসুম গরম পানি পান করতে হবে। এটি হজমে সহায়ক হবে এবং শ্বাসতন্ত্র থেকে বিষাক্ত উপাদান অপসারণ করবে।

দূষণ থেকে দুরে থাকা: যেসকল এলাকায় অতিরিক্ত ধুলাবালি থাকে সেসব এলাকা যথাসম্ভব এড়িয়ে চলাই হবে মঙ্গল। নাকে-মুখে ‘মাস্ক’ ব্যবহার করা, ধুলাবালি ও অতিরিক্ত ধোঁয়াযুক্ত স্থানে নাকে-মুখে রুমাল চেপে চলাফেরা করার অভ্যাস করতে হবে।

ভাপ নেওয়া: শ্বাস নিতে প্রায়শই অস্বস্তি লাগলে নিয়মিত পরিষ্কার পানির ভাপ নিতে পারেন। দিনে একাধিকবার পানির বাষ্প শ্বাস-প্রশ্বাসের সঙ্গে গ্রহণ করতে পারেন। মনে রাখতে হবে, পানিতে কোনো কিছু মেশানো যাবে না।

গরম পানির ব্যাগ: শ্বাস নিতে সমস্যা হলে বুকের ওপর কুসুম গরম পানির ব্যাগ চাপিয়ে রাখলে আরাম পাওয়া যায়।

হলদি দুধ: মাঝেসাঝে হলুদ মেশানো দুধ পান করার অভ্যাস গড়ে তোলাটা শ্বাস-প্রশ্বাসের সমস্যায় বেশ উপকারী। হলদি দুধ রোগ প্রতিরোধ ক্ষমতা বাড়ায় এবং নিঃশ্বাস চলাচল সহজ করে।

সকালে হাঁটতে যাওয়া মানা: খুব ভোরে কিংবা সন্ধ্যায় নিরিবিলি কোথাও হাঁটা বা জগিং আপাতদৃষ্টিতে স্বাস্থ্যকর মনে হতে পারে। তবে এসময় কুয়াশা কিংবা বাতাসের ধুলার আস্তর নিচের দিকে নেমে আসে। ফলে শ্বাস-প্রশ্বাসের সমস্যা আরও বাড়ে।

যোগব্যায়াম: হাঁপানির অস্বস্তি নিয়ন্ত্রণ করতে যোগব্যায়াম অত্যন্ত কার্যকর। আগে থেকে জানা না থাকলে বিশেষজ্ঞের তত্ত্বাবধানে যোগব্যায়াম শিখে নিতে হবে।

পানীয়: হাঁপানির সমস্যা মৃদুমাত্রায় দেখা দিতে শুরু করলে ‘ব্ল্যাক কফি’, আদা চা কিংবা ‘গ্রিন টি’ পান করলে আরাম পাওয়া যায়।

ধূমপান-মদ্যপান নিষিদ্ধ: এটা নতুন করে বলার প্রয়োজন নেই। শ্বাস-প্রশ্বাসের সমস্যা থাকুক আর নাই থাকুক, এই দুটিসহ যেকোনো মাদকদ্রব্য স্বাস্থ্যে জন্য ক্ষতিকর।

জাদুকরি গুড়: অ্যালার্জিরোধক উপাদান থাকে গুড়ে। এছাড়াও শ্বাসতন্ত্রের পেশিগুলোকে বিষাক্ত উপাদান মু্ক্ত করে শিথিল করে গুড়। ফলে গলায় জমা অতিরিক্ত ‘মিউকাস’ দূর হয়ে শ্বাসতন্ত্র বাধা মুক্ত হয়।

মন্তব্য লিখুন (ফেসবুকে লগ-ইন থাকতে হবে)

মন্তব্য