দিনাজপুরের ঘোড়াঘাটে কুচেরপাড়া আদিবাসী সরকারি প্রাথমিক বিদ্যালয়ে ২ লক্ষ টাকার ক্ষুদ্র মেরামত কাজের অনিয়মের কারণে রেজুলেশন ও চেকে প্রধান শিক্ষিকা স্বাক্ষর না করায় বিভিন্ন অভিযোগ এনে পাল্টাপাল্টি অভিযোগ দাখিল করেছে।

জানা গেছে, ২০১৮-১৯ অর্থ বছরে উপজেলা কুচেরপাড়া আদিবাসী সরকারি প্রাথমিক বিদ্যালয়ে ক্ষুদ্র মেরামত কাজের জন্য ২ লক্ষ টাকা বরাদ্দ আসে।

বরাদ্দকৃত টাকা ম্যানেজিং কমিটি ও শিক্ষক প্রতিনিধি প্রধান শিক্ষিকাকে বাদ দিয়ে কোন রেজুলেশন ছাড়াই ম্যানেজিং কমিটির সদস্য মফিজল হোসেনের মাধ্যমে শিক্ষক প্রতিনিধি কাজগুলো সম্পন্ন করেন। কিন্তু কাজে ব্যাপক অনিয়ম তুলে ধরে প্রধান শিক্ষিকা শিক্ষা অফিস, উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা সহ উপজেলা পরিষদে লিখিত অভিযোগ করে দিনের পর দিন ধর্না দিতে থাকে।

এ দিকে ও ম্যানেজিং কমিটির সদস্য মফিজল হোসেন ও শিক্ষক প্রতিনিধি তার দলীয় প্রভাব খাটিয়ে বিভিন্ন দেন দরবারের মাধ্যমে রেজুলেশন ও চেকে স্বাক্ষর নেয়ার জন্য প্রধান শিক্ষিকাকে দিনের পর দিন চাপ প্রয়োগ করতে থাকে। প্রধান শিক্ষিকা তার অভিযোগ বিচারের আশায় দিনের পর দিন প্রশাসনের হস্তক্ষেপ কামনা করেও কোন বিচার পায়নি।

তবে উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা তার অভিযোগটি তদন্তের জন্য উপজেলা অ্যাকাডেমিক সুপার ভাইজারকে তদন্ত ভার দিলেও অ্যাকাডেমিক সুপার ভাইজার অজ্ঞাত কারণে ২/৩মাসেও অভিযোগটি তদন্ত করেননি। এদিকে প্রধান শিক্ষিকার অভিযোগ ম্যানেজিং কমিটি ও ইউপি সদস্য মফিজল ও শিক্ষক প্রতিনিধি অনুমান ১ লক্ষ টাকার কাজ করে ২ লক্ষ টাকার চেকে ও রেজুলেশনে স্বাক্ষর দেয়ার জন্য চাপ দিতে থাকেন।

গত বৃহস্পতিবার ম্যানেজিং কমিটির সদস্য মফিজল হোসেন তার এলাকার বসবাসকারী কিছু অভিভাবককে নিয়ে বিদ্যালয়ে এসে প্রধান শিক্ষিকার অপসারনের দাবী তোলে। পাশাপাশি বিদ্যালয়ে আগত ছাত্র-ছাত্রীদের নিজ ক্ষমতাবলে ৭দিনের ছুটি দিয়ে দেন। এ ঘটনা প্রধান শিক্ষিকা তাৎক্ষনিক উপজেলা শিক্ষা কর্মকর্তা সহ সংশ্লিষ্ট ইউপি চেয়ারম্যানকে অবগত করেন।

শনিবার প্রধান শিক্ষিকা বিদ্যালয়ে গেলে ছাত্র-ছাত্রী আসতে শুরু করে। ইতোমধ্যে ইউপি সদস্য মফিজল ৩/৪জন লোকসহ বিদ্যালয়ের পার্শ্বে রাস্তায় বসে পুনরায় ছাত্র-ছাত্রীদের স্কুল থেকে বাড়ীতে ফিরিয়ে দিয়েছেন বলে প্রধান শিক্ষিকা জানান। গতকাল সরেজমিনে বিদ্যালয়ে গিয়ে দেখা যায়, বিদ্যালয়ে কোন ছাত্র-ছাত্রী নেই। রাস্তার উপর ইউপি সদস্য ৩/৪জন লোক নিয়ে বসে আছেন।

বিষয়টি উপজেলা শিক্ষা কর্মকর্তা অতুল চন্দ্র রায়ের সাথে মুঠোফোনে কথা হলে তিনি জানান, এটি ম্যানেজিং কমিটির ব্যাপার। ২ লক্ষ টাকার কাজ হয়েছে কি না এমন প্রশ্নে তিনি বলেন, এ উপজেলায় পিআইডিপি-৪ এর সাব কম্পোনেন্ট মেইনটেন্যান্স প্রকল্পের আওতায় ২০১৮-১৯ অর্থ বছরে ২৫টি বিদ্যালয়ে ২ লক্ষ টাকার ও ২৭টিতে দেড় লক্ষ টাকা করে বরাদ্দ পেয়েছে। সব বিদ্যালয়ে তার যাওয়া সম্ভব হয়নি।

তিনি ম্যানেজিং কমিটির সাথে সমঝোতা করে সমাধান করার পরামর্শ দিয়েছেন। এলাকাবাসী মনে করছে উপজেলার সবকটি বরাদ্দকৃত প্রাথমিক বিদ্যালয়ে ঊর্ধ্বতন কর্তৃপক্ষের তদন্ত হলে থলের বিড়াল বেরিয়ে আসবে। এ ব্যাপারে শিক্ষক প্রতিনিধি মশিউর রহমান জানান, বৃহস্পতিবারে প্রধান শিক্ষিকার বিরুদ্ধেও উপজেলা চেয়ারম্যান সহ বিভিন্ন স্থানে অভিযোগ করা হয়েছে। ম্যানেজিং কমিটির সভাপতি সুবাস জানান, শতভাগ কাজ সম্পন্ন করা হয়েছে।

মন্তব্য লিখুন (ফেসবুকে লগ-ইন থাকতে হবে)

মন্তব্য