ইরাক জুড়ে সরকারবিরোধী বিক্ষোভে গত দুই দিনে ৬৩ জন নিহত হয়েছে। এ নিয়ে গত এক মাস ধরে চলা বিক্ষোভে দেশটিতে নিহতের সংখ্যা বেড়ে দাঁড়াল ২২০। খবর রয়টার্স, এনডিটিভি ও বিবিসির।

শুক্রবার রাজধানী বাগদাদের সুরক্ষিত গ্রিন জোনসহ বিভিন্ন শহরে পুলিশ ও ইরান-সমর্থিত মিলিশিয়া বাহিনীর সঙ্গে বিক্ষোভকারীদের তুমুল সংঘর্ষ বাধে। এদিনেই ৪২ জন নিহতের ঘটনা ঘটে।

ইরাকের মানবাধিকার হাইকমিশন (আইএইচসিএইচআর) ও মেডিক্যাল সূত্রগুলো জানিয়েছে, এই বিক্ষোভে দেশব্যাপী ২ হাজারেরও বেশি লোক আহত হয়েছে।

দক্ষিণাঞ্চলীয় আমারা শহরে সংঘর্ষে সরকারের এক গোয়েন্দা কর্মকর্তা ও প্রভাবশালী আসাইব আহল আল-হক মিলিশিয়া বাহিনীর এক সদস্যও নিহত হয়েছেন বলে পুলিশ নিশ্চিত করেছে।

বাগদাদের তাহরির স্কয়ারে বিক্ষোভকালে এক কিশোর আন্দোলনকারী বলেন, ‘আমরা সবাই চাকরি, পানি, বিদ্যুত্ ও নিরাপত্তা চাই। এগুলো আমাদের বেঁচে থাকার জন্য অত্যন্ত প্রয়োজন। সরকার আমাদের ন্যূনতম চাহিদা মেটাতে ব্যর্থ হয়েছে। তাই আমরা রাজপথে নামতে বাধ্য হয়েছি।’

পুলিশের কাঁদানে গ্যাস থেকে বাঁচতে ১৬ বছর বয়সি এই কিশোরের মুখমণ্ডল ছিল একটি টি-শার্টে ঢাকা। এদিন এই কিশোরের মতো আরো অনেক তরুণের ভাষা ছিল একই রকম। তাদের মুখে স্লোগান ছিল গগনবিদারী।

কেউ কেউ বলেন, ‘প্রাণের ইরাক রক্ত দিয়ে রক্ষা করব।’ আর এর পরপরই নিরাপত্তা বাহিনী তাদের ওপর চড়াও হতে থাকে। আইএইচসিএইচআর জানিয়েছে, ঐ দিন কেবল বাগদাদেই পুলিশের ছোড়া কাঁদানে গ্যাসের ক্যানিস্টারে পাঁচ বিক্ষোভকারীসহ অন্তত আট জন নিহত হয়েছে।

যুদ্ধবিধ্বস্ত ইরাকের স্বাভাবিক অবস্থা ফিরিয়ে আনতে এবং জনগণের ন্যূনতম চাহিদা পূরণে তারা এই বিক্ষোভ করছেন। বিক্ষোভকারীরা বলছেন, সরকার তাদের মৌলিক চাহিদা পূরণে ব্যর্থ হয়েছে। এ কারণে তেলসমৃদ্ধ দেশটি বর্তমানে চরম রাজনৈতিক সংকটের মুখে পড়েছে।

এক দিন আগে দেশটির প্রধানমন্ত্রী আবদুল মাহাদি তার ভাষণে কঠোর ভাষায় বলেছিলেন, কোনো ধরনের সহিংসতা বরদাশত করা হবে না। আর এর এক দিন পরেই এই হতাহতের ঘটনা ঘটল।

মন্তব্য লিখুন (ফেসবুকে লগ-ইন থাকতে হবে)

মন্তব্য