সংবাদ সম্মেলনঃ দিনাজপুরের শহরের বড়বন্দরে উচ্ছেদ হওয়া ৪ পরিবারের অসহায় সদস্যরা মাননীয় প্রধানমন্ত্রীর সাহায্য প্রত্যাশা করে উচ্ছেদ ঘটনার বিচার বিভাগীয় তদন্ত এবং জমির মালিকানাসহ ক্ষতিপুরণ দাবী করেছেন।

সকালে দিনাজপুর প্রেসক্লাব মিলনায়তনে আয়োজিত সংবাদ সম্মেলনে উল্লেখিত অভিযোগ করেন বড়বন্দর এলাকার মৃত: মোজাম্মেল হকের পুত্র রমিজুল ইসলাম রঞ্জু।

লিখিত বক্তব্যে তিনি বলেন, ১৯৫০ সালে আমার পিতা মরহুম মোজাম্মেল হক সরকার দিনাজপুর শহরের কোতওয়ালী থানাধীন প্রাননাথপুর মৌজার জেএল নং ৬৩ খতিয়ান এসএ ৭৩,বিএস নং ২৬৭৩ দাগ নং এসএ ৬২৩,৬২৪ বিএস নং ৩১৯৯ বাস্তু ভিটা ৩২ একর জমি সিএস রের্কডের মালিক শ্রী গোবিন্দ লাল ধর গংদের নিকট হতে বায়নামুলে তফশিলী জমি খরিদ করেন। ১৯৫৩ সালে রিকুজিশন কেস নং ৫২/৫৩ মতে ততকালিন সরকার এই বাড়িটি রিকুজিশন করেন।

সরকারের উক্ত সিদ্ধান্তের বিরুদ্ধে মিস কেস করায় বসতবাড়িটি সরকার ডি-রিকুজিশন করে মোজ্জাম্মেল হক সরকারকে মালিকানা প্রদান করে। তখন হতে আমার পিতা পরিবার পরিজন নিয়ে মৃত্যুর পূর্বমূর্হুত পর্যন্ত এ বসতবাড়িতেই বসবাস করেছেন। ১৯৭৯ সালে তার মৃর্ত্যুর পর ওয়ারিশগন ৪ পুত্র কন্যা ও তাদের সন্তানাদি আমরা উক্তস্থানে বসবাসকালিন বাংলাদেশ সেটেলম্যান্ট তাদের নামে সম্পাদন হয় এবং বর্তমান সন পর্যন্ত খাজনা-খারিজ পরিশোধিত রয়েছে।

২০১৯ সালের ২৩ অক্টোবর পর্যন্ত মোজাম্মেল হকের ওয়ারিশগন ওই বাড়িতেই বসবাস করছিলেন। তবে ১৯৭৪ সালে মৃত হেমচন্দ্র দাসের পুত্র রেবুতি রঞ্জন দাস ওই সম্পত্তির মালিকানা দাবী করে দিনাজপুর সদর মুনসেফ কোর্টে ১৬/৭৪ মামলা করেন। এই মামলায় পার্টলি ডিগ্রী হয়। এই জমির বিষয়ে এভাবেই এখন পর্যন্ত সর্বচ্চ আদালতে মামলা-মোকোদ্দমা চলমান রয়েছে।

তিনি বলেন, গত ২৪ অক্টোবর মহামান্য হাইকোর্টের লিভ টু আপিল বিচারাধীন থাকাবস্থায় দিনাজপুর সদরের এসিল্যান্ড মো: আরিফুর রহমান উচ্ছেদের নামে বুলডোজার দিয়ে আমার ঘরবাড়ি ভাংচুরের মাধ্যমে আমার ৪ পরিবারের ২৫জন মানুষকে নি:স্ব করে পথে বসতে বাধ্য করেছে। আমি এবং আমার আইনজীবি তাকে বারং বার বিভিন্ন আদালত এবং মামলা সংক্রান্ত আইনী বিষয়ের কাগজপত্র দেখানোর চেষ্টা করেও দেখাতে ব্যার্থ হয়েছি।

এখন আমি পরিবার পরিজন নিয়ে মানুষের দ্বারে দ্বারে আশ্রয় খুজছি। এসিল্যান্ড এবং পুলিশ বাহিনীর সামনেই আমার বিরোধীপক্ষের গুন্ডাপান্ডারা সোনাদানাসহ সমস্ত মালামাল লুট করে নিয়ে যায়।

তিনি বলেন, আমার দাবী দিনাজপুর সিনিয়র সহকারী জজ আদালতের মামলা নং ১২/১৬,এসিল্যান্ড সদরের মামলা নং ২৭/১৯ এবং সুপ্রীম কোর্টের বিচারাধীন লিভ টু আপিল মামলা নং ১৮৪১/১৮ মামলার রায় না হয় হওয়া পর্যন্ত উচ্ছেদ হওয়া জমিতে বিরোধীয় গনের সকল কার্য্যক্রম বন্ধ, ২৪ অক্টোবর ১৯ ঘৃন্য উচ্ছেদ ঘটনার বিচার বিভাগীয় তদন্ত করে দোষীদের শাস্তির ব্যবস্থা করতে হবে।

সংবাদ সম্মেলনে উপস্থিত ছিলেন,মোছা: রাবেয়া খাতুন,মো: ওয়ারেস আলী সরকার, মো: ময়নুল হক,মো: মুন্না,মোছা: মোসলেমা খাতুন চামেলী প্রমুখ।

মন্তব্য লিখুন (ফেসবুকে লগ-ইন থাকতে হবে)

মন্তব্য