উৎপাদন খরচ কম তাই নীলফামারীতে কপি চাষে ঝুঁকে পড়েছেন কৃষকরা। কপি চাষে এবার লাভের আশা করছেন তারা। কপি চাষে অন্যান্য ফসলের চেয়ে খরচ ও খাটুনি দুটোই কম। গত কয়েক বছর ধরে ধানের বাজারদর খারাপ যাচ্ছে। এ কারণে আমন ধান আবাদ থেকে মুখ ফিরিয়ে নিয়েছেন কৃষক। ধানের বদলে আগাম সবজি চাষের দিকে ঝুঁকছেন তারা। সবজির মধ্যে বাঁধাকপি ও ফুলকপি এখন মুখ্য ফসল।

জেলা কৃষি সম্প্রসারণ অধিদফতর সূত্র জানায়, গত ২০১৯-২০ অর্থ বছরে সবজি চাষের লক্ষ্যমাত্রা ধরা হয়েছে পাঁচ হাজার ৮২৪ হেক্টর জমি। আর উৎপাদনের লক্ষ্যমাত্রা রয়েছে এক লাখ ২৫ হাজার ৭৯৮ মেট্রিক টন। এখন পর্যন্ত চাষের লক্ষ্যমাত্রা অর্জিত হয়েছে এক হাজার ৬৪১ হেক্টর।

এই মৌসুমে অনাবাদী ও উঁচু জমিতে আগাম কপি চাষে ব্যস্ত সময় পার করছেন কৃষক। মাচা পদ্ধতির মাধ্যমে ভাদ্র মাসেই তারা চারা তৈরি শুরু করেন। এরপর আশ্বিনের শুরু থেকেই কপির আবাদে ব্যস্ত ছিলেন তারা।

জেলা সদরের লক্ষ্মীচাপ ইউনিয়নের দুর্বাছুড়ি গন্দেয়াবাড়ী গ্রামের সবজি চাষি হোসনে আরা বেগম (৩৫) জানান, চলতি মৌসুমে তিনি কপির চাষ করেছেন তিন বিঘা জমিতে। সরেজমিন তাকে কপির ক্ষেতে লোকজন নিয়ে কাজ করতে দেখা যায়। কিছুদিনের মধ্যে কপিতে ফুল আসবে বলে আশা করেন তিনি। তিনি বলেন, ‘ধান আবাদ করে লাভ তো দূরের কথা, খরচের টাকা তুলতেই হিমশিম খেতে হয়।’

হোসনে আরার মতো অনেকেই আমন ও বোরো ধানের পরিবর্তে সবজি চাষে ব্যস্ত সময় পার করছেন। জেলা সদরের রামনগর, কচুকাটা, লক্ষ্মীচাপ, পলাশবাড়ীসহ জেলার ডোমার উপজেলার, বামুনিয়া, বোড়াগাড়ি, জোড়াবাড়ী, ভোগডাবুড়ি, সোনারায় ও হরিণচোড়া ইউনিয়নে গেলে এমন চিত্র দেখা যায়।

কৃষি বিভাগ বলছে, নীলফামারীর মাটি আগাম সবজি চাষের উপযোগী। এখানকার মাটি উর্বর ও পলিমাখা। তাই কৃষকদের আগাম ফুলকপি ও বাঁধাকপি চাষে উদ্বুদ্ধ করা হচ্ছে।

সদরের লক্ষ্মীচাপ ইউনিয়নের কৃষক রশিদুল ইসলাম, দুলাল চন্দ্র রায় বলেন, ‘বিঘাপ্রতি কপি চাষে খরচ হয় ১৫ হাজার টাকা। আর প্রতি বিঘায় কপি উৎপাদন হয় ৮০ থেকে ৮৭ মণ। প্রতিমণ কপি এক হাজার ৬০০ টাকা দরে বিক্রি হলে মোট বিক্রি হবে এক লাখ ৩৯ হাজার ২০০ টাকা। এতে সার, বীজ, শ্রমিক, হালচাষ, নিড়ানি, পরিবহন খরচ (১৫ হাজার টাকা) বাদে লাভ হবে এক লাখ ২৪ হাজার ২০০ টাকা।

অপরদিকে, কৃষক দুলাল জানান, ভরা মৌসুমে প্রতি পিস কপি ২০ টাকা করে বিক্রি হলে তিন হাজার ৫০০ কপি বিক্রি হয় ৭০ হাজার টাকায়। আর খরচ (১৫ হাজার টাকা) বাদে প্রতি বিঘায় লাভ হয় ৫৫ হাজার টাকা। তিনি বলেন, ‘আবহাওয়া অনুকূলে থাকলে আগাম কপি চাষে লাভবান ও স্বাবলম্বী হতে পারবো। তাহলে ধান চাষ করতে যাবো কেনো।’

সদর উপজেলার লক্ষ্মীচাপ গ্রামের গন্দেয়াবাড়ী ব্লকের উপ-সহকারী কৃষি কর্মকর্তা আবু তালেব ও হরেন্দ্র নাথ রায় বাংলা ট্রিবিউনকে বলেন, ‘প্রদর্শনী প্লট করে কপি চাষে কৃষকদের নানা প্রশিক্ষণসহ পরামর্শ দেওয়া হচ্ছে। ৪৫-৫৫ দিনের মধ্যে কপি ঘরে তোলা যায়। পাশাপাশি আগাম সবজি চাষে বাজারে দামও ভালো পাওয়া যায়।’

নীলফামারী কৃষি সম্প্রসারণ অধিদফতরের উপ-পরিচালক মো. আবুল কাশেম আজাদ বাংলা ট্রিবিউনকে বলেন, ‘গত কয়েক বছরের তুলনায় বিশেষ করে জেলা সদর ও ডোমার উপজেলায় এবার আগাম সবজির ব্যাপক চাষ হয়েছে। ওই এলাকার মাটি সবজি চাষের জন্য উপযোগী। কারণ সেচ, সার, বালাইনাশক ওষুধ খুবই কম লাগে।’

তিনি জানান, দাম ও ফলন দুটোই ভালো হওয়ায় কৃষকদের বাঁধাকপি, ফুলকপি অন্যান্য সবজি চাষে দিন দিন আগ্রহ বাড়ছে। এতে কৃষকের মুখে হাসি ফুটছে।

মন্তব্য লিখুন (ফেসবুকে লগ-ইন থাকতে হবে)

মন্তব্য