কর্মক্ষেত্রে চাপ ও উদ্বেগ থাকা স্বাভাবিক। এটা নির্ভর করে কতটা কাজ জমে আছে এবং সহকর্মীদের সঙ্গে প্রতিযোগিতা কেমন তার উপর।

জীবনযাপন-বিষয়ক একটি ওয়েবসাইটে প্রকাশিত প্রতিবেদন অবলম্বনে কর্মক্ষেত্রে মানসিক চাপ কমানোর কয়েকটি উপায় সম্পর্কে জানানো হল।

পরিকল্পনা করে দিন শুরু করা: দিন শুরু করুন সঠিক পরিকল্পনার ভিত্তিতে। কী কী কাজ করা প্রয়োজন তা মাথায় রেখে একটা পরিকল্পনা তৈরি করা ভালো। কাজের সমাধান না হলেও পরিকল্পনা করে কাজ করলে তা ক্রমাগত কাজে ডুবে থাকা থেকে বিরত রাখতে সাহায্য করে। আর সঠিক সময়ে শেষ করতে সহায়তা করে।

সময় ব্যবস্থাপনা করা জরুরি: কাজ ফেলে রাখলে বা অতিরিক্ত কাজ করলে মানসিক চাপ বৃদ্ধি পায়। এই ধরনের চাপ এড়ানোর কার্যকর উপায় হল সময় ভাগ করে কাজ করা। কাজের গুরুত্ব ও জমাদানের তারিখ ভেদে কোন কাজ আগে করতে হবে তা সাজিয়ে নিন। অফিসের কাজ বাড়িতে না নিয়ে যাওয়ার চেষ্টা করুন। এতে মানসিক চাপ বাড়ে এবং পারিবারিক জীবন বিপর্যস্ত হয়। তাই অফিসের সময় অন্য কোনো কাজ না করে অফিসেই নির্দিষ্ট কাজ শেষ করার চেষ্টা করতে হবে।

সহকর্মী ও উচ্চপদস্থদের থেকে সঠিক দূরত্ব বজায় রাখা: কর্মক্ষেত্রে কাজের পরে সহকর্মীরা অনেক বড় একটা বিষয়। এরা আনন্দ বা মানসিক চাপের কারণ হতে পারে। সহকর্মী যতই ভালো বা খারাপ হোক না কেনো, তাদের থেকে প্রয়োজ়নীয় দূরুত্ব বজায় রাখতে হবে। সহকর্মীদের সঙ্গে অনেক বেশি মিশে গেলে নিজের ইচ্ছার বিরুদ্ধেও অনেক কিছু করতে হয়। যার ফলে মানসিক চাপ বৃদ্ধি পায়। আবার কর্মক্ষেত্রে সহকর্মীদের সঙ্গে শীতল সম্পর্কও ভালো নয়। এর ফলে বৈরিভাব ও নিজেকে বিচ্ছিন্ন মনে হতে পারে। ফলে মানসিক ও শারীরিক বিশ্রাম পাওয়া যায় না।

সন্দেহ থাকলে প্রশ্ন করা: নতুন কর্মী হিসেবে কাজ নিয়ে প্রশ্ন জাগলে সহকর্মীকে জিজ্ঞেস করতে দ্বিধা বোধ করা যাবে না। অনেকে আবার বার বার প্রশ্ন করতে দ্বিধা ও লজ্জাবোধ করে। দ্বিধা বাদ দিয়ে মনে কোনো প্রশ্ন আসলে তা সরাসরি বলে ফেললে বরং চাপ কমবে।

বিরতি নিন: কাজের চাপ্ থেকে নিজেকে মুক্ত রাখতে এবং নতুন করে কর্ম উদ্দীপনা যোগাতে ছুটি নেওয়া খুবই ভালো সিদ্ধান্ত। সব সময় অ্যাসাইনমেট এবং প্রোজেক্ট নিয়ে ব্যস্ত থাকলে কর্মক্ষেত্রে ব্যক্তির উৎপাদনশীলতা কমে যায় এবং নির্জীবভাব চলে আসে। তাই মন সতেজ রাখতে এবং প্রাণোজ্জ্বলভাব আনতে কাজের মধ্যে বিরতি নেওয়া ভালো।

ছবি: রয়টার্স।

মন্তব্য লিখুন (ফেসবুকে লগ-ইন থাকতে হবে)

মন্তব্য