যুক্তরাজ্যের এসেক্সে একটি লরির কনটেইনার থেকে ৩৯টি মৃতদেহ উদ্ধারের ঘটনায় চার সন্দেহভাজনকে জিজ্ঞাসাবাদ করছে ব্রিটিশ পুলিশ।

এদের মধ্যে তিনজনকে শুক্রবার আটক করা হয়েছে। লরিটির চালক মো রবিনসনকে পুলিশ বুধবারই গ্রেপ্তার করেছিল।

নিহতদের শণাক্ত ও তাদের পরিচয় উদ্ধারে চেষ্টার মধ্যেই এ সন্দেহভাজনদের গ্রেপ্তার ও জিজ্ঞাসাবাদ চলছে বলে বিবিসির এক প্রতিবেদনে জানানো হয়েছে।

শুক্রবার ওয়ারিংটন থেকে এক দম্পতি এবং স্ট্যানস্ট্যাড বিমানবন্দর থেকে ৪৮ বছর বয়সী নর্দার্ন আয়ারল্যান্ডের এক ব্যক্তিকে আটক করা হয়।

লরিটির ২৫ বছর বয়সী চালক রবিনসনের বাড়িও নর্দার্ন আয়ারল্যান্ডে, আর্মাগ কাউন্টিতে।

ওয়ারিংটন থেকে আটক দম্পতির বাড়িতেও পুলিশ তল্লাশি চালিয়েছে। তাদের দুজনেরই বয়স ৩৮ বলে স্থানীয় গণমাধ্যমগুলো জানিয়েছে।

বুধবার প্রথম প্রহরে এসেক্সের গ্রেইস এলাকার ওয়াটারগ্লেড শিল্প পার্কে লরির হিমশীতল কনটেইনারের ভেতর থেকে ৩১টি পুরুষ ও ৮টি নারীর মৃতদেহ উদ্ধার করা হয়।

ব্রিটিশ গণমাধ্যমগুলো বলছে, কনটেইনারটি বুধবার রাত সাড়ে ১২টার দিকে বেলজিয়ামের জিব্রুগা থেকে টেমসের পারফ্লিট নদীবন্দরে নামে; নর্দার্ন আয়ারল্যান্ড থেকে আসা লরি ওই কনটেইনারটি নিয়ে রাত ১টা ৫ মিনিটের দিকে রওনা দেয়। এরও ৩৫ মিনিট পর ওয়াটারগ্লেড শিল্প পার্কে মৃতদেহগুলো উদ্ধার হয়।

এসেক্স পুলিশ মৃতদেহগুলো চীনা নাগরিকদের বলে ধারণা করলেও এর মধ্যে ভিয়েতনামের নাগরিকরাও থাকতে পারে বলে সন্দেহ করা হচ্ছে।

যুক্তরাজ্যের ভিয়েতনাম সম্প্রদায়ের প্রতিনিধিত্বকারী সংগঠন ভিয়েতহোম লরিটি উদ্ধারের পর থেকে এ পর্যন্ত পরিবারের সদস্যরা ‘নিখোঁজ’ বলছে এমন প্রায় ২০ জনের ছবি পাওয়ার কথা জানিয়েছে।

‘নিখোঁজদের’ প্রত্যেকের বয়স ১৫ থেকে ৪৫ এর মধ্যে, জানিয়েছে তারা।

উদ্ধার মৃতদেহগুলোর মধ্যে ভিয়েতনামের ২৬ বছর বয়সী নারী থি ত্রা মি-ও থাকতে পারে বলে শঙ্কা তার পরিবারের সদস্যদের।

ত্রা মি-র ভাই জানান, তার বোন মঙ্গলবার রাত সাড়ে ১০টার দিকে বাবা-মা’র মোবাইলে শেষ বার্তা পাঠিয়েছিল।

তাতে লেখা ছিল, “মা, বাবা আমি সত্যিই খুব দুঃখিত। আমার বিদেশযাত্রা ব্যর্থ হয়েছে। আমি মারা যাচ্ছি, নিঃশ্বাস নিতে পারছি না। মা, বাবা আমি সত্যিই তোমাদের অনেক ভালোবাসি। দুঃখিত মা।”

ত্রা মি-র পাঠানো এ মেসেজের দুই ঘণ্টা পরই পারফ্লিট নদীবন্দরে কনটেইনারটি নামে, জানিয়েছে বিবিসি।

২০ বছর বয়সী আরেক ভিয়েতনামি নগুয়েন দিন লুয়ংয়ের লাশও ওই কনটেইনারে থাকতে পারে বলে তার আত্মীয়স্বজনরা আশঙ্কা করছেন।

লন্ডনের ভিয়েতনাম দূতাবাস বৃহস্পতিবার থেকেই এসেক্স পুলিশের সঙ্গে যোগাযোগ রক্ষা করে যাচ্ছে বলে দূতাবাসটির এক মুখপাত্র জানিয়েছেন।

যুক্তরাজ্যে চীনের রাষ্ট্রদূত লিউ জিয়াওমিং ‘মানব পাচার রোধে সহযোগিতার মাত্রা বাড়াতে’ আন্তর্জাতিক সম্প্রদায়ের প্রতি আহ্বান জানিয়েছেন।

মন্তব্য লিখুন (ফেসবুকে লগ-ইন থাকতে হবে)

মন্তব্য