আন্তর্জাতিক সংবাদমাধ্যমে গুরুত্বের সঙ্গে প্রকাশ করা হয়েছে নুসরাত হত্যা মামলার রায়ের খবর। এই প্রতিবেদন রচনার সময় ব্রিটিশ সংবাদমাধ্যম বিবিসি-সহ বিশ্বের শীর্ষ সংবাদমাধ্যমগুলোর একাংশ তাদের অনলাইন ভার্সনে প্রধান শিরোনাম হিসেবে রেখেছে বাংলাদেশের এই বহুল আলোচিত হত্যা মামলায় ১৬ জনের মৃত্যুদণ্ডের খবরটিকে।

ফেনীর নারী ও শিশু নির্যাতন দমন বিশেষ ট্রাইব্যুনালের বিচারক মো. মামুনুর রশিদ আজ বৃহস্পতিবার (২৪ অক্টোবর) বেলা ১১টা ২১ মিনিটে ফেনীর সোনাগাজীর মাদ্রাসাছাত্রী নুসরাত জাহান রাফিকে হাত-পা বেঁধে পুড়িয়ে হত্যার মামলায় ১৬ আসামির মৃত্যুদণ্ডের রায় দেন। আসামিদের প্রত্যেককে এক লাখ টাকা করে জরিমানা করা হয়। এই টাকা আদায় করে নুসরাতের পরিবারকে দেওয়ার আদেশ দিয়েছেন আদালত। এরপর বাংলাদেশি সংবাদমাধ্যমের পাশাপাশি বিশ্ব মিডিয়ায়ও স্থান করে নেয় নৃশংস এই হত্যাকাণ্ডের রায়ের খবরটি।

ব্রিটিশ সংবাদমাধ্যম বিবিসি রায় ঘোষণার পরপরই ঘটনাটিকে তাদের অনলাইন সংস্করণে প্রধান সংবাদ করেছে। প্রতিবেদনে বলা হয়, নুসরাত হত্যাকাণ্ড গোটা দেশকে শোকাতুর করে তোলে এবং ন্যায্যবিচারের দাবিতে দেশজুড়ে বেশ কিছু বিক্ষোভ সংঘটিত হয়। বাংলাদেশে এই ধরনের মামলার বিচার প্রক্রিয়া সম্পন্ন করতে যেখানে কয়েক বছর লেগে যায়, সেখানে নুসরাতের মামলা দ্রুততম সময়ে নিষ্পত্তি হওয়া মামলাগুলোর অন্যতম।

কাতারভিত্তিক সংবাদমাধ্যম আলজাজিরা ‘নুসরাত জাহান রাফি হত্যা মামলায় বাংলাদেশে ১৬ জনের মৃত্যুদণ্ড’ শিরোনামে তাদের দ্বিতীয় প্রধান সংবাদ প্রকাশ করেছে। প্রতিবেদনে বলা হয়েছে, নুসরাত হত্যার পর জোরালো বিক্ষোভের মুখে প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনা দ্রুততম সময়ের মধ্যে হত্যাকাণ্ডের বিচার নিশ্চিত করার প্রতিশ্রুতি দিয়েছিলেন।

ব্রিটিশ বার্তা সংস্থা রয়টার্স ‘যৌন হয়রানির মামলায় কিশোরীকে হত্যায় অভিযুক্ত ১৬ জনকে মৃত্যুদণ্ড দিয়েছে বাংলাদেশ’ শিরোনামে প্রতিবেদন প্রকাশ করেছে। ফরাসি বার্তা সংস্থা এএফপি-ও নুসরাত হত্যা মামলার রায় ঘোষণার ঘটনায় একটি প্রতিবেদন প্রকাশ করেছে। ভারতীয় সম্প্রচারমাধ্যম এনডিটিভির প্রতিবেদনে বলা হয়েছে, সাত মাস আগে ঘটা নারকীয় হত্যাকাণ্ডের অভিযুক্তদের মৃত্যুদণ্ড দিলো বাংলাদেশ! তাদের শিরোনাম, ‘ছাত্রীকে জ্যান্ত পুড়িয়ে মারার নারকীয় ঘটনায় ১৬ জনের মৃত্যুদণ্ডের আদেশ দিলো বাংলাদেশ’।

দক্ষিণ এশিয়াভিত্তিক ভারতীয় বার্তা সংস্থা এএনআই একটি প্রতীকী ছবির মধ্য দিয়ে এই খবরটি প্রকাশ করেছে। প্রতিবেদনে বলা হয়েছে, নুসরাত হত্যার পর নারী নিপীড়নের বিরুদ্ধে বেশ কিছু বিক্ষোভ সংঘটিত হয়। তুরস্কের রাষ্ট্রীয় সংবাদমাধ্যম টিআরটি ওয়ার্ল্ডের ওয়েবসাইটে প্রকাশিত এ আন্তর্জাতিক সংবাদমাধ্যমে গুরুত্ব পেয়েছে নুসরাত হত্যা মামলার রায় -Dinajpur, Dinajpurnews, Dinajpur news, দিনাজপুর, দিনাজপুরনিউজ, দিনাজপুর নিউজ বাংলা, বাংলানিউজ bangle, banglanews, Bangladesh, বাংলাদেশ I+সংক্রান্ত প্রতিবেদনে বলা হয়েছে, নুসরাত হত্যার ঘটনা তার গ্রাম থেকে সারাদেশ, অতঃপর বিশ্বজুড়ে ক্ষোভের জন্ম দেয়।

যুক্তরাজ্যের দ্য গার্ডিয়ানের শিরোনাম, ‘১৯ বছরের নারীকে পুড়িয়ে মারায় বাংলাদেশে ১৬ জনের দণ্ড’। জাপান টুডে তাদের আন্তর্জাতিক খবরের প্রধান শিরোনামে লিখেছে, ‘নারীকে জীবন্ত পুড়িয়ে মারায় বাংলাদেশে ১৬ জনের মৃত্যুদণ্ড’।

এছাড়া ফেনীর ওই মাদ্রাসাছাত্রী হত্যাকাণ্ডের রায়ের খবর গুরুত্বের সঙ্গে প্রকাশ করেছে ভারতীয় সংবাদমাধ্যম ইন্ডিয়া টুডে, টাইমস অব ইন্ডিয়া, সিঙ্গাপুরের স্ট্রেইট টাইমস, কানাডার সংবাদমাধ্যম সিটিভি নিউজ, পাকিস্তানের এক্সপ্রেস ট্রিবিউন, যুক্তরাষ্ট্রের নিউইয়র্ক টাইমস, ওয়াশিংটন পোস্ট, ফক্স নিউজ ও বাজফিডসহ বিশ্বের বেশকিছু সংবাদমাধ্যম।

সোনাগাজী ইসলামিয়া ফাজিল মাদ্রাসার আলিম পরীক্ষার্থী ছিলেন নুসরাত জাহান রাফি। তাকে যৌন হয়রানির অভিযোগ ওঠে ওই মাদ্রাসার অধ্যক্ষ সিরাজ-উদ-দৌলার বিরুদ্ধে। এই ঘটনায় নুসরাতের মা শিরিন আক্তার বাদী হয়ে ২৭ মার্চ সোনাগাজী থানায় মামলা দায়ের করেন। এরপর অধ্যক্ষকে গ্রেফতার করে পুলিশ। পরে মামলা তুলে নিতে বিভিন্নভাবে নুসরাতের পরিবারকে হুমকি দেওয়া হয়। গত ৬ এপ্রিল সকাল ৯টার দিকে আলিম পর্যায়ের আরবি প্রথম পত্রের পরীক্ষা দিতে ওই মাদ্রাসার কেন্দ্রে যান নুসরাত। এসময় তাকে পাশের বহুতল ভবনের ছাদে ডেকে নিয়ে গায়ে কেরোসিন ঢেলে আগুন দেওয়া হয়। ১০ এপ্রিল রাত সাড়ে ৯টার দিকে ঢাকা মেডিক্যাল কলেজ হাসপাতালের বার্ন ইউনিটে চিকিৎসাধীন অবস্থায় নুসরাত মারা যান। এই ঘটনায় নুসরাতের বড় ভাই বাদী হয়ে ৮ এপ্রিল সোনাগাজী মডেল থানায় মামলা করেন।

হত্যাকাণ্ডের সাড়ে ছয় মাসের মাথায় এই রায় ঘোষণা করা হলো। দণ্ডপ্রাপ্ত ১৬ আসামি হলো—সোনাগাজী ইসলামিয়া ফাজিল (ডিগ্রি) মাদ্রাসার বরখাস্ত হওয়া অধ্যক্ষ সিরাজ-উদ-দৌলা, সোনাগাজী উপজেলা আওয়ামী লীগের তৎকালীন সভাপতি রুহুল আমিন, সোনাগাজী পৌরসভার কাউন্সিলর মাকসুদুল আলম, মাদ্রাসার শিক্ষক আবদুল কাদের, প্রভাষক আফসার উদ্দিন, মাদ্রাসার ছাত্র নূর উদ্দিন, শাহাদাত হোসেন শামীম, সাইফুর রহমান মোহাম্মদ যোবায়ের, জাবেদ হোসেন ওরফে সাখাওয়াত হোসেন জাবেদ, কামরুন নাহার মণি, উম্মে সুলতানা পপি ওরফে তুহিন, আবদুর রহিম শরিফ, ইফতেখার উদ্দিন রানা, ইমরান হোসেন মামুন, মোহাম্মদ শামীম ও মহি উদ্দিন শাকিল। -বাংলাট্রিবিউন

মন্তব্য লিখুন (ফেসবুকে লগ-ইন থাকতে হবে)

মন্তব্য