সিরিয়ার উত্তরাঞ্চলে কুর্দি যোদ্ধাদের বিরুদ্ধে শুরু করা সামরিক অভিযান নিয়ে নয় দিন আগে তুরস্কের ওপর আরোপ করা নিষেধাজ্ঞাগুলো তুলে নিয়েছে যুক্তরাষ্ট্র।

বুধবার যুক্তরাষ্ট্রের প্রেসিডেন্ট ডনাল্ড ট্রাম্প নিষেধাজ্ঞা তুলে নেওয়া কথা জানিয়েছেন বলে বিবিসির প্রতিবেদনে বলা হয়েছে।

সিরিয়ার উত্তর সীমান্ত অঞ্চলে তুরস্ক ও কুর্দিদের মধ্যে চলমান অস্ত্রবিরতি বজায় রাখতে রাশিয়া ওই অঞ্চলে সেনা মোতায়েন করবে, আঙ্কারার সঙ্গে মস্কো এমন সমঝোতায় আসার পর ট্রাম্প এ সিদ্ধান্ত নিলেন।

হোয়াইট হাউস থেকে দেওয়া টেলিভিশনে সম্প্রচারিত এক বক্তৃতায় ট্রাম্প বলেন, “দীর্ঘদিন ধরে রক্তাক্ত হওয়া এই বালিতে এবার অন্য কাউকে লড়াই করতে দিন। আমরা নাখোশ হই এমন কিছু না হওয়া পর্যন্ত এই নিষেধাজ্ঞাগুলো তোলাই থাকবে।”

তুরস্ক সিরিয়ার উত্তরাঞ্চলে লড়াই বন্ধ রাখতে এবং সাম্প্রতিক অস্ত্রবিরতিকে স্থায়ী করার বিষয়ে তাকে নিশ্চিত করেছে বলে জানান ট্রাম্প।

পরে মার্কিন অর্থ মন্ত্রণালয় জানায়, ১৪ অক্টোবর তুরস্কের প্রতিরক্ষা ও জ্বালানি মন্ত্রণালয় এবং তিন মন্ত্রীর বিরুদ্ধে আরোপ করা নিষেধাজ্ঞাগুলো তুলে নেওয়া হয়েছে।

একই দিন ট্রাম্প আরও জানান, সিরিয়ার তেল স্থাপনাগুলোর সুরক্ষার জন্য দেশটির কয়েকটি অংশে ‘অল্প সংখ্যক’ মার্কিন সেনা রেখে দিবেন তিনি।

বন্দি আইএস জঙ্গিদের কঠোর নজরদারিতে রাখার বিষয়েও তুরস্ককে প্রতিশ্রুতিবদ্ধ থাকার ও জঙ্গি গোষ্ঠীটি যেন ফের সিরিয়ার কোনো এলাকা নিজেদের নিয়ন্ত্রণে না নিতে পারে তা নিশ্চিত করার আহ্বানও জানিয়েছেন ট্রাম্প।

এর আগে যুক্তরাষ্ট্র পররাষ্ট্র মন্ত্রণালয়ের এক ঊর্ধ্বতন কর্মকর্তা জানিয়েছিলেন, তুরস্কের অভিযান শুরু হওয়ার পর বিশৃঙ্খল পরিস্থিতির সুযোগ নিয়ে শতাধিক আইএস বন্দি পালিয়ে গিয়েছে এবং এ পর্যন্ত তাদের অবস্থান শনাক্ত করা যায়নি।

চলতি মাসের প্রথমদিকে ট্রাম্প অপ্রত্যাশিতভাবে সিরিয়ার উত্তরাঞ্চল থেকে মার্কিন সেনাদের সরিয়ে নেওয়ার পর ওই অঞ্চলের কুর্দি যোদ্ধাদের বিরুদ্ধে অভিযান শুরু করে তুরস্ক।

ওই অঞ্চলে ইসলামিক স্টেটের (আইএস) বিরুদ্ধে লড়াইয়ে যুক্তরাষ্ট্রের প্রধান মিত্র ছিল কুর্দিরা। আকস্মিকভাবে তাদের ছেড়ে আসায় এবং এরপর কুর্দিরা তুরস্কের অভিযানের লক্ষ্যস্থল হওয়ায় দেশে-বিদেশে ব্যাপক সমালোচনার মুখে পড়েন ট্রাম্প।

এই পরিস্থিতিতে নিজ দল রিপাবলিকান ও বিরোধী ডেমোক্রেটদের চাপে পড়ে তুরস্কের বিরুদ্ধে নিষেধাজ্ঞা আরোপ করে ট্রাম্প প্রশাসন। গত সপ্তাহে যুক্তরাষ্ট্রের মধ্যস্থতায় কুর্দিদের বিরুদ্ধে অভিযানে পাঁচ দিনের অস্ত্রবিরতিতে রাজি হয় তুরস্ক। এই অস্ত্রবিরতি চলাকালে কুর্দি যোদ্ধারা সিরিয়ার তুরস্ক সীমান্ত থেকে শুরু করে ভিতর দিকে ৩০ কিলোমিটার পর্যন্ত এলাকা ছেড়ে যাবে বলে শর্ত দিয়েছিল আঙ্কারা।

তুরস্কের কুর্দি বিদ্রোহীদের সঙ্গে সিরিয়ার কুর্দিস পিপলস প্রটেকশন ইউনিট (ওয়াইপিজি) গেরিলাদের যোগাযোগ আছে এমন সন্দেহে আঙ্কারা ওয়াইপিজিকে সন্ত্রাসী সংগঠন হিসেবে দাবি করে আসছে। সীমান্ত অঞ্চল থেকে এই ওয়াইপিজি গেরিলাদের সরিয়ে দিতেই সিরিয়ার উত্তরাঞ্চলে ৯ অক্টোবর থেকে সামরিক অভিযান শুরু করেছিল তুরস্ক।

মন্তব্য লিখুন (ফেসবুকে লগ-ইন থাকতে হবে)

মন্তব্য