ডেমোক্র্যাট বা রিপাবলিকান পার্টির সমর্থক নন এমন রাজনৈতিক নিরপেক্ষদের মধ্যেও মার্কিন প্রেসিডেন্ট ডনাল্ড ট্রাম্পকে অভিশংসনে সমর্থন বাড়ছে বলে বার্তা সংস্থা রয়টার্স ও জরিপ সংস্থা ইপসসের এক জরিপে দেখা গেছে।

গত সপ্তাহের তুলনায় চলতি সপ্তাহে প্রেসিডেন্টকে অভিশংসনে সমর্থনের পরিমাণ ৩ শতাংশের মতো বেড়েছে; অনেক রিপাবলিকানই বিদেশি হুমকি মোকাবেলায় ট্রাম্পের পদক্ষেপে অসন্তুষ্টির কথাও বলেছেন।

অক্টোবরের ১৮-২২ তারিখ পর্যন্ত চালানো এ জরিপে গত কয়েক সপ্তাহ ধরে মার্কিন গণমাধ্যমে প্রেসিডেন্টের অভিশংসন সংক্রান্ত কংগ্রেসনাল শুনানি ও সিরিয়া থেকে যুক্তরাষ্ট্রের সৈন্য প্রত্যাহারের বিষয়টি প্রাধান্য পেয়েছে। এসব ইস্যুতে মার্কিন প্রশাসনের প্রতি মানুষের অনাস্থার হারও বাড়ছে বলে জরিপে দেখা গেছে।

এবারের জরিপে অংশ নেওয়া ৪ হাজার ৮৩ জন প্রাপ্তবয়স্কের মধ্যে এক হাজার ৭৭৩ জন ডেমোক্রেট, এক হাজার ৫৪২ জন রিপাবলিকান ও ৪৪৭ জন নিরপেক্ষ ছিলেন বলে জানিয়েছে রয়টার্স/ইপসস।

সবমিলিয়ে ৪৬ শতাংশ মার্কিনি প্রেসিডেন্টের অভিশংসন প্রক্রিয়ায় সমর্থন জানিয়েছেন; অন্যদিকে ৪০ শতাংশ বলছেন, তারা এর বিরোধী। রিপাবলিকান ও ডেমোক্রেটদের মধ্যে অভিশংসনের পক্ষে-বিপক্ষে অবস্থান আগের জরিপগুলোর মতো প্রায় একই।

অংশগ্রহণকারীদের মধ্যে যারা নিজেদেরকে ডেমোক্র্যাট বা রিপাবলিকান কোনোটিই বলে পরিচয় দেননি এবং ভোট হলে কোনো পক্ষকেই সমর্থন দেবেন না বলে জানিয়েছেন, জরিপে তাদেরকেই ‘নিরপেক্ষ’ হিসেবে দেখা হয়েছে।

এ নিরপেক্ষদের মধ্যে ৪৫ শতাংশ প্রেসিডেন্টের অভিশংসনের পক্ষে এবং ৩২ শতাংশ বিপক্ষে বলে জরিপে দেখা গেছে। প্রেসিডেন্টের অভিশংসনে নিরপেক্ষদের এ সমর্থনের হার ২০১৮ সালের জুনের পর থেকে হওয়া জরিপগুলোর মধ্যে সবচেয়ে বেশি।

২০১৬ সালের প্রেসিডেন্ট নির্বাচনে নিরপেক্ষদের মধ্যে সমর্থনের সুযোগকে কাজে লাগিয়েই হোয়াইট হাউসের টিকেট বাগিয়ে নিয়েছিলেন ট্রাম্প; আগামী বছরের প্রেসিডেন্ট নির্বাচনেও তার একই সুযোগের দরকার পড়তে পারে বলে মত পর্যবেক্ষকদের।

চলতি বছর জুলাইয়ের শেষ সপ্তাহে ইউক্রেইনের প্রেসিডেন্ট ভ্লদিমির জেলেনস্কির সঙ্গে ফোনালাপে ট্রাম্প ২০২০-র নির্বাচনে তার সম্ভাব্য প্রধান প্রতিদ্বন্দ্বী সাবেক মার্কিন ভাইস প্রেসিডেন্ট জো বাইডেনের দুর্নীতি তদন্তে চাপ দিয়েছিলেন, সরকারি এক ‘হুইসেলব্লোয়ারের’ এমন অভিযোগের অংশবিশেষে মার্কিন প্রশাসনের বেশ কয়েকজন কর্মকর্তার সমর্থনের পর যুক্তরাষ্ট্রের জনগণের মধ্যে প্রেসিডেন্টকে অভিশংসনের পক্ষে-বিপক্ষে তুমুল বিতর্ক চলছে।

‘হুইসেলব্লোয়ারের’ ওই প্রতিবেদনে ট্রাম্প জেলেনস্কির সঙ্গে আলোচনায় দরকষাকষির অংশ হিসেবে ইউক্রেইনে সামরিক সহায়তার অর্থ আটকে দিয়েছিলেন বলেও অভিযোগ করা হয়েছে।

মার্কিন প্রেসিডেন্ট ইউক্রেইনের প্রেসিডেন্টের সঙ্গে ফোনালাপে বাইডেনের দুর্নীতির তদন্ত নিয়ে আলোচনার বিষয়টি স্বীকার করলেও কোনো ধরনের অন্যায় বা দরকষাকষির অংশ হিসেবে সামরিক সহায়তার অর্থ ছাড় আটকে দেয়ার অভিযোগ অস্বীকার করেছেন।

তাকে অভিশংসনে চলমান তদন্তে মার্কিন প্রশাসনের কর্মকর্তাদের সহযোগিতার সুযোগ আটকে দেয়ার পাশাপাশি ট্রাম্প চলতি সপ্তাহে নিজেকে ‘বিচার ছাড়া শাস্তির’ শিকার বলেও অভিহিত করেছেন।

সপ্তাহ দুয়েক আগে মার্কিন প্রেসিডেন্ট সিরিয়ার উত্তরাঞ্চল থেকে সৈন্য সরিয়ে নেয়ার যে সিদ্ধান্ত নিয়েছেন জরিপে তা নিয়ে খোদ রিপাবলিকানদের মধ্যেই অসন্তোষ দেখা গেছে।

ট্রাম্পের ওই সিদ্ধান্তের পরপরই তুরস্ক সিরিয়ায় কুর্দিবিরোধী অভিযান শুরু করে। প্রেসিডেন্টের এ সিদ্ধান্ত মধ্যপ্রাচ্যে যুক্তরাষ্ট্রের প্রভাব কমিয়ে রাশিয়া-ইরানের প্রভাব বাড়াবে বলেও আশঙ্কা পর্যবেক্ষকদের।

জরিপে অংশ নেওয়া রিপাবলিকানদের ৭৩ শতাংশ প্রেসিডেন্টের পররাষ্ট্র নীতি নিয়ে সন্তুষ্টির কথা জানিয়েছেন; অন্যদিকে ৭৫ শতাংশ বলেছেন, তারা মধ্যপ্রাচ্যভিত্তিক জঙ্গিগোষ্ঠী ইসলামিক স্টেট নির্মূলে ট্রাম্পের পদক্ষেপের সমর্থক। এ হার এপ্রিলে করা জরিপের তুলনায় যথাক্রমে ৬ ও ৮ শতাংশ কম, জানিয়েছে রয়টার্স।

মন্তব্য লিখুন (ফেসবুকে লগ-ইন থাকতে হবে)

মন্তব্য