দক্ষিণ আমেরিকার দেশ চিলিতে সরকারবিরোধী বিক্ষোভের মধ্যে একটি গার্মেন্ট ফ্যাক্টরিতে লুটেরাদের লাগানো আগুনে পুড়ে পাঁচ জন নিহত হয়েছেন।

রোবাবার রাজধানী সান্তিয়াগোর কাছে ঘটনাটি ঘটেছে বলে বিবিসি জানিয়েছে।

বার্তা সংস্থা রয়টার্স জানায়, রাতে সান্তিয়াগোতে এক সংবাদ সম্মেলনে চিলির স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী আন্দ্রেস চ্যাডউইক ওই আগুন নাশকতাসহ বিক্ষোভের সঙ্গে সম্পর্কিত সহিংসতায় এ দিন সাত জন নিহত হয়েছেন বলে জানিয়েছেন; তবে বিস্তারিত আর কিছু জানাননি তিনি।

সামরিক বাহিনী ও পুলিশ দিনভর কাঁদুনে গ্যাস ও জলকামান ব্যবহার করে বিক্ষোভকারীদের দমানোর চেষ্টা করেছে । রাতে প্রধান শহরগুলোতে কারফিউ জারি হয়।

প্রথমে মেট্রোর ভাড়া বৃদ্ধির প্রতিবাদে বিক্ষোভ শুরু হয়েছিল, পরে বর্ধিত ভাড়ার সিদ্ধান্ত স্থগিত করা হলেও বিক্ষোভ থামেনি; আরও ছড়িয়ে পড়ে জীবনযাত্রার ব্যয় ও অসাম্যের বিরুদ্ধে প্রতিবাদের রূপ নিয়েছে।

শুক্রবার দেশের পাঁচটি অঞ্চলে জরুরি অবস্থা জারি করেন প্রেসিডেন্ট সেবাস্তিয়ান পিনইয়েরা। জরুরি অবস্থার ক্ষমতাবলে স্থানীয় কর্তৃপক্ষগুলোকে লোকজনের চলাচল ও সমাবেশ করার অধিকারের ওপর নিয়ন্ত্রণ আরোপ করার কর্তৃত্ব দেওয়া হয়েছে। কিন্তু তারপরও প্রতিবাদ অব্যাহত আছে।

রোববারও লুট ও অগ্নিসংযোগ অব্যাহত ছিল। প্রতিবাদকারীরা বহু বাসে আগুন ধরিয়ে দেয়, মেট্রো স্টেশন ভাংচুর করে ও দাঙ্গা পুলিশের সঙ্গে সংঘর্ষে জড়ায়।

দিনভর দফায় দফায় সংঘর্ষের পর রাতে সান্তিয়াগো, বালপারাইসো ও কোকিম্বো ই বিওবিওর বিভিন্ন এলাকায় কারফিউ বলবৎ করা হয়।

এ দিন সান্তিয়াগোর প্রায় সব গণপরিবহন বন্ধ ছিল, আন্তর্জাতিক বিমানবন্দর থেকে বহির্গামি সব ধরনের ফ্লাইট বাতিল করা হয় এবং শহরটির সব দোকানপাটও বন্ধ ছিল।

১৯৯০ সালে একনায়ক আগুস্তে পিনোশের ক্ষমতা শেষে চিলিতে গণতন্ত্র ফিরে আসার পর এ বারই প্রথম সান্তিয়াগোর রাস্তায় হাজার হাজার সৈন্য ও ট্যাঙ্ক নামানো হয়।

বিক্ষোভ মোকাবেলায় সরকারের নেওয়া পদক্ষেপকে ‘গণতন্ত্র রক্ষার স্বার্থে’ বলে সাফাই গেয়েছেন প্রেসিডেন্ট পিনইয়েরা।

কর্মকর্তারা জানিয়েছেন, দেশজুড়ে এক হাজার ৪০০ জনেরও বেশি লোককে গ্রেপ্তার করা হয়েছে এবং একটি সংঘর্ষের সময় গুলিতে দুই পুলিশ আহত হয়েছেন।

এর আগে শনিবার একটি মার্কেটে লাগানো আগুনে পুড়ে আরও তিন জন নিহত হন।

মন্তব্য লিখুন (ফেসবুকে লগ-ইন থাকতে হবে)

মন্তব্য