চিলিতে সরকারবিরোধী বিক্ষোভের দ্বিতীয় রাতে রাজধানী সান্তিয়াগোর একটি সুপার মার্কেটে লাগা আগুনে তিন জন নিহত হয়েছে বলে দেশটির কর্মকর্তারা নিশ্চিত করেছেন।

অগ্নিকাণ্ডে ঘটনাস্থলেই দুইজনের মৃত্যু হয়; হাসপাতালে নিয়ে যাওয়ার পর আরেকজন মারা যান বলে সাংবাদিকদের জানিয়েছেন সান্তিয়াগোর মেয়র কার্লা রুবিলা।

মেট্রোর ভাড়া বৃদ্ধির প্রতিবাদে শুক্রবার থেকে দক্ষিণ আমেরিকার এ দেশটিতে ব্যাপক বিক্ষোভ ও সহিংসতা শুরু হয়।

প্রেসিডেন্ট সেবাস্তিয়ান পিনেরা ওই ভাড়াবৃদ্ধির সিদ্ধান্ত স্থগিত ঘোষণা করলেও বিক্ষোভকারীদের শান্ত করা যায়নি বলে জানিয়েছে বিবিসি।

পরিস্থিতি মোকাবেলায় সরকার জরুরি অবস্থা ও রাত্রিকালীন কারফিউ জারি করে রাজধানীর সড়কগুলোতে সেনাসদস্য ও ট্যাঙ্ক মোতায়েন করে।

১৯৯০ সালে অগাস্তো পিনোশের স্বৈরশাসনের অবসান ও গণতন্ত্রে ‍উত্তরণের পর এবারই প্রথম সান্তিয়াগোতে সেনা মোতায়েন হল।

ভাড়াবৃদ্ধির প্রতিবাদে শুরু হওয়া বিক্ষোভে এখন লাতিন আমেরিকার সবচেয়ে স্থিতিশীল দেশটিতে জীবনযাত্রার অত্যধিক ব্যয় নিয়ে জনরোষের প্রতিফলন দেখা যাচ্ছে বলে মন্তব্য বিবিসির।

দ্বিতীয় দিনের সহিংস প্রতিবাদে বিক্ষোভকারীদের সড়কে ব্যারিকেড ও বিভিন্ন বাসে আগুন দিতে দেখা গেছে; পুলিশ কাঁদানে গ্যাস ছুঁড়ে ও জলকামান দিয়ে পানি ছিটিয়ে তাদের থামানোর করার চেষ্টা করে।

শহরের কেন্দ্রস্থলে তুমুল সংঘর্ষের পর সান্তিয়াগোর আরেক মেয়র ফেলিপ আলেসান্দ্রি পরিস্থিতিকে ‘বিশৃঙ্খল’ হিসেবে অভিহিত করেছেন।

পুলিশ জানিয়েছে, এখন পর্যন্ত ৩০০রও বেশি বিক্ষোভকারীকে গ্রেপ্তার করা হয়েছে। সংঘর্ষে ১৫৬ জন পুলিশ ও ১১ জন বেসামরিক আহত হয়েছেন বলে, জানিয়েছে তারা।

টেলিভিশনে দেওয়া ভাষণে প্রেসিডেন্ট পিনেরা বলেছেন, তিনি জীবনযাত্রার ব্যয় নিয়ে অসন্তোষে ‘দেশবাসীর কণ্ঠস্বর’ শুনতে পেয়েছেন।

জরুরি অবস্থায় সান্তিয়াগোর নিরাপত্তার দায়িত্বপ্রাপ্ত জেনারেল জাভিয়ের ইতুরিয়েজ দেল ক্যাম্পো শনিবার রাত ১০টা থেকে পরদিন ভোর ৭টা পর্যন্ত রাজধানী ও এর আশপাশের এলাকায় কারফিউ জারির বিষয়টি নিশ্চিত করেছেন।

সরকারের জারি করা ১৫ দিনের এ জরুরি অবস্থায় কর্তৃপক্ষকে জনগণের চলাচলের স্বাধীনতা ও সভা-সমাবেশের অধিকার খর্বের অনুমতি দেওয়া হয়েছে; সেনাবাহিনী এ সময় পুলিশের টহল কার্যক্রমে সহায়তা করবে।

শহরটির বিভিন্ন সাংস্কৃতিক ও ক্রীড়া অনুষ্ঠান বাতিল করা হয়েছে। দোকানপাট বন্ধ রয়েছে। বিক্ষোভে ১৩৬টি স্টেশনের মধ্যে ৪১টি ক্ষতিগ্রস্ত হওয়ায় ভূগর্ভস্থ মেট্রো পরিবহন ব্যবস্থা সোমবার পর্যন্ত বন্ধ রাখার নির্দেশ দেওয়া হয়েছে।

রাজধানীর পাশাপাশি কনসেপসিওন, রাঙ্কাগুয়া, পুন্তা আরেনাস, ভালপারাইজো, ইকুইক, আন্তোফাগাস্তা, কুইলোতা ও তালকা শহরেও বিক্ষোভের খবর পাওয়া গেছে বলে জানিয়েছে স্থানীয় সংবাদ মাধ্যম এল মারকিউরিও।

মন্তব্য লিখুন (ফেসবুকে লগ-ইন থাকতে হবে)

মন্তব্য