ইউরোপীয় ইউনিয়ন (ইইউ) থেকে ব্রিটেনের বের হয়ে যাওয়া (ব্রেক্সিট) আরও বিলম্বিত করার অনুরোধ জানিয়ে স্বাক্ষরবিহীন একটি চিঠি পাঠিয়েছেন ব্রিটিশ প্রধানমন্ত্রী বরিস জনসন।

পাশাপাশি নিজের সই করা আরেকটি চিঠিতে তিনি এটাও লিখেছেন, ব্রেক্সিট পিছিয়ে দেওয়া হবে একটি ‘ভুল’ পদক্ষেপ।

বার্তা সংস্থা রয়টার্স জানিয়েছে, নিজের করা ব্রেক্সিট চুক্তি শনিবার পার্লামেন্টের ভোটে তুলতে ব্যর্থ হওয়ার পর ইইউয়ের কাছে এসব চিঠি পাঠান জনসন।

ব্রেক্সিটের জন্য নির্ধারিত ৩১ অক্টোবরের চূড়ান্ত সীমা পেছানোর জন্য ‘মরে গেলও’ তিনি কোনো অনুরোধ করতে পারবেন না বলে এর আগে জানিয়েছিলেন জনসন।

কিন্তু গত মাসে পার্লামেন্টে বিরোধীদের পাস করা একটি আইন অনুযায়ী ব্রেক্সিটের চূড়ান্ত সময়সীমা ৩১ জানুয়ারি (২০২০) পর্যন্ত পিছিয়ে দেওয়ার অনুরোধ করে ইইউয়ের কাছে চিঠি পাঠাতে বাধ্য হয়েছেন তিনি।

ইইউয়ের সঙ্গে নিজের করা ‘বিচ্ছেদ’ চুক্তি শনিবার পাস করানোর উদ্যোগ নিয়েছিলেন তিনি, কিন্তু ব্রিটিশ এমপিরা উদ্যোগটি ব্যর্থ করে দেয়।

ইউরোপীয় কাউন্সিলের প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড টাস্কের কাছে জনসন মোট তিনটি চিঠি পাঠিয়েছেন বলে ব্রিটিশ সরকারের একটি সূত্র রয়টার্সকে জানিয়েছে। এরমধ্যে একটি বেন অ্যাক্ট নামের সেই আইনের ফটোকপি যা জনসনকে চিঠি লিখতে বাধ্য করেছে; দ্বিতীয়টি, ব্রিটিশ সরকার শুধু এ আইন অনুযায়ী কাজ করছে এমনটি জানিয়ে ইইউতে নিযুক্ত ব্রিটিশ দূতের পাঠানো একটি নোট এবং তৃতীয় আরেকটি চিঠি যেটিতে জনসন জানিয়েছেন তিনি সময় আর বাড়াতে চান না।

তৃতীয় যে চিঠিটি জনসন পাঠিয়েছেন সেটি টুইটারে প্রকাশ করেছেন ফিনান্সিয়াল টাইমস ব্রাসেলসের প্রতিনিধি।

ওই চিঠিতে জনসন বলেছেন, “প্রধানমন্ত্রী হওয়ার পর থেকেই আমি বলে আসছি এবং আজ পার্লামেন্টকেও বলেছি, আমার দৃষ্টভঙ্গী ও সরকারের অবস্থান হচ্ছে, সময় আরও বাড়ালে যুক্তরাজ্য ও আমাদের ইইউ অংশীদারদের স্বার্থ এবং আমাদের মধ্যে বিদ্যমান সম্পর্ক ক্ষতিগ্রস্ত হতে পারে।”

৩১ অক্টোবরের আগেই ব্রিটিশ পার্লামেন্টের মাধ্যমে ব্রেক্সিট সংক্রান্ত আইনগুলো পুরোপুরি প্রস্তুত করা যাবে, চিঠিতে এ ব্যাপারে নিজের আস্থার কথাও জানিয়েছেন জনসন।

জনসনের অনুরোধ জানানো চিঠি পাওয়ার কথা জানিয়েছেন টাস্ক।

“কীভাবে প্রতিক্রিয়া জানানো হবে তা নিয়ে আমি এখন ইইউ নেতাদের সঙ্গে পরামর্শ করবো,” টুইটারে বলেছেন তিনি।

ব্রেক্সিটে বিলম্ব করার বিষয়ে ‘ইইউয়ের কারো আগ্রহ নেই’, ফ্রান্সের প্রেসিডেন্ট ইমানুয়েল ম্যাক্রোঁ এমন ইঙ্গিত দিয়েছেন বলে তার দপ্তরের এক কর্মকর্তা রয়টার্সকে জানিয়েছেন। কিন্তু তারপরও ২৭ সদস্য রাষ্ট্রের ইইউ ব্রিটেনের অনুরোধ প্রত্যাখ্যান করবে না বলেই মনে করা হচ্ছে।

মন্তব্য লিখুন (ফেসবুকে লগ-ইন থাকতে হবে)

মন্তব্য