মাসুদ রানা পলক,ঠাকুরগাঁও: প্রতি বছরের মতো এবারও ঠাকুরগাঁওয়ের শুক নদীর তীরে বুড়ির বাঁধ এলাকায় হাজার হাজার মানুষের অংশগ্রহণে মাছ ধরা উৎসব চলছে। শনিবার (১৯ অক্টোবর) সকালে ওই এলাকায় নির্মিত বাঁধের গেট খুল দেওয়ার পর এলাকাবাসী মহাসমারোহে মাছ ধরতে নেমেছেন।

সরেজমিনে শুক নদীর তীরে গিয়ে দেখা যায়, মাছ ধরার জন্য গ্রাম ও শহর থেকে আসা শত শত মানুষ ব্যস্ত। কেউ খইয়া জাল, কেউ পলো ও মাছ রাখার পাত্র (খালই) নিয়ে মহা উৎসাহে মাছ শিকার করছেন। আর বাঁধের ওপর দাঁড়িয়ে মাছ শিকারীদের উৎসাহ দিচ্ছেন বন্ধুবান্ধব ও পরিবারের স্বজনেরা। নারী ও শিশুসহ বৃদ্ধরাও রয়েছে এ দলে। সবার হাতে জাল, লাফিজাল দিয়ে সাধ্যমত মাছ শিকার করছেন সকলেই। শুক নদীতে মাছ ধরার উৎসবে পরিণত হয়েছে।

খোঁজ নিয়ে জানা গেছে, বাংলাদেশ পানি উন্নয়ন বোর্ডের বাস্তবায়নে ১৯৫১ সালে শুরু হয় এই বাধ নির্মাণের কাজ। পরে ১৯৫৭ সালের দিকে শেষ হয়ে ১৯৭৮ সালের দিকে সেচ ব্যবস্থার কার্যক্রম শুরু করে। এরপর থেকেই শুষ্ক মৌসুমে এ অঞ্চলের কৃষি জমির সেচ সুবিধার জন্য সদর উপজেলার আকচা ও চিলারং ইউনিয়নের সীমানায় শুক নদীতে বুড়ির বাঁধ নামের একটি জলকপাট নির্মাণ করা হয়।

এই জলকপাটে আটকে থাকা পানিতে প্রতিবছর জেলা মৎস্য অধিদপ্তর বিভিন্ন প্রজাতির মাছের পোনা অবমুক্ত করে থাকে। আর এ পোনাগুলো যাতে কেউ শিকার করতে না পারে তা দেখাশোনার দায়িত্ব পালন করে সংশ্লিষ্ট ইউনিয়ন পরিষদ। এরপর থেকেই প্রতিবার শীতের শুরুতেই এ মাছ সবার জন্য উন্মুক্ত করে দেওয়া হয়। এভাবেই বছরের পর বছর ধরে বুড়ির বাঁধ এলাকায় মাছ ধরার উৎসব চলে আসছে।

সদর উপজেলার দেবীপুর ইউনিয়ন থেকে মাছ ধরতে এসেছেন আবুল কাশেম। তিনি জানান, শুক্রবার (১৮ অক্টোবর) রাতেই এখানে এসেছি। শুনেছিলাম এখানে মাছ মারা হয়। প্রতিবার নাকি এই উৎসবটা হয়। তাই এবারে এসেছি।

তিনি বলেন,পুঁটি মাছ,গুড়া মাছ, রুই মাছসহ বিভিন্ন প্রকারের মাছ জালে আটকা পড়েছে। আমার মতো আরও অনেকেই রাত থেকেই এসেছেন এখানে।

নারগুন এলাকা থেকে মাছ ধরতে এসেছেন মানিক নামে এক ব্যক্তি। তিনি জানান, সকাল থেকেই এখানে মাছ ধরছি। জাল নিয়ে আমরা তিনজন এসেছি। মাছ খুব একটা ধরা পড়ছে না। কারণ এখানে অনেকেই জাল ফেলছে। এরপরেও যা পারছি নিয়ে যাচ্ছি। অনেকেই বিক্রি করছেন।

শহরের হাজীপাড়া এলাকার বাসিন্দা আব্দুল গণি জানান, এখানে মাছ একটু কম দামে পাওয়া যায় তাই প্রতিবারের মতো এবারও এসেছি মাছ কিনতে।

ঠাকুরগাঁও আকচা ইউনিয়নের চেয়ারম্যান সুব্রত কুমার বর্মণ জানান, প্রতিবারের এবারও আমাদের এই ইউনিয়নের এই মাছ ধরার উৎসবটি করা হয়েছে। এখানে শুধু ইউনিয়নবাসীর লোকই মাছ ধরে না। ঠাকুরগাঁও জেলার বিভিন্ন এলাকা থেকে অনেক লোকেই আসেন এখানে। কেউ মাছ ধরতে আসেন কেউবা আসেন মাছ কিনতে। মাছ ধরাকে কেন্দ্র করে এত লোকের সমাগম, দেখতে ভালোই লাগে।

মন্তব্য লিখুন (ফেসবুকে লগ-ইন থাকতে হবে)

মন্তব্য