দিনাজপুর সংবাদাতাঃ রাস্তা দিয়ে র‌্যালী নিয়ে ছুটে চলছে একদল মানুষ। আর রাস্তার যাকেই পাচ্ছে, সে হোক হিন্দু, মুসলীম, বৌদ্ধ, খ্রীষ্টান কিংবা হোক না পুরুষ-কিংবা নারী সবাইকে পরিয়ে দেয়া হচ্ছে রাখি। সবাইকে সম্প্রীতির বন্ধনে আবদ্ধ করতে এবং মানুষের মধ্যে দুরত্ব কমিয়ে হৃদ্যতা বৃদ্ধিতে এমনই আয়োজন হয়েছে দিনাজপুরে।

দিনাজপুরে অন্যরকম রাখিবন্ধন উৎসব -Dinajpur, Dinajpurnews, Dinajpur news, দিনাজপুর, দিনাজপুরনিউজ, দিনাজপুর নিউজ বাংলা, বাংলানিউজ bangle, banglanews, Bangladesh, বাংলাদেশ I+আয়োজনে ছিল হিন্দু-মুসলিম কিংবা নারী-পুরুষ ভেদাভেদ ভুলে রাখির মাধ্যমে সকলকে সম্প্রীতির বন্ধনে বাধা, আলোচনা সভা, সাংস্কৃতিক অনুষ্ঠান। সাংস্কৃতিক ব্যক্তি ও আয়োজকরা মনে করেন- নিজ সহপাঠীদের হাতে শিক্ষার্থী হত্যা, সাম্প্রদায়িকতা, নৈরাজ্য ও মানুষে মানুষে ভেদাভেদ দুর করতে সম্প্রীতির এই আয়োজন।

দিনাজপুর প্রেসক্লাবে এই অনুষ্ঠানের উদ্বোধন করেন ভারতের লেখক ও রবীন্দ্র গবেষক শ্যামল সেন গুপ্ত। এ সময় সম্প্রীতির বন্ধন উদযাপন পরিষদের আহ্বায়ক স্বরুপ বকসী বাচ্চু, সদস্য সচিব ড. মাসুদুল হক, জেলা শিল্পকলা একাডেমীর সংস্কৃতিক কর্মকর্তা মীন আরা পারভীন, উদীচীর সভাপতি রেজাউর রহমান রেজু নাট্যকার ও বাংলাদেশ গ্রুপ থিয়েটারের সাংগঠনিক সম্পাদক তারেকুজ্জামান তারেক প্রমুখ বক্তব্য রাখেন। পরে প্রেসক্লাব থেকে একটি সম্প্রীতির বন্ধন র‌্যালী বের হয় এবং র‌্যালীতে অংশগ্রহনকারীরা রাস্তার মানুষজনকে রাখি পড়িয়ে দেয়।

দিনাজপুরে অন্যরকম রাখিবন্ধন উৎসব -Dinajpur, Dinajpurnews, Dinajpur news, দিনাজপুর, দিনাজপুরনিউজ, দিনাজপুর নিউজ বাংলা, বাংলানিউজ bangle, banglanews, Bangladesh, বাংলাদেশ I+আয়োজকরা জানায়, নিজ সহপাঠীদের হাতে শিক্ষার্থী হত্যা, সাম্প্রদায়িকতা, ধর্মীয় বিভেদসহ নানান নৈরাজ্য ও চলমান অস্থিতিশীল অবস্থা থেকে মুক্তি পেতে রাখিবন্ধন দিবস উপলক্ষ্যে রাখিবন্ধন ও সম্প্রীতির শোভাযাত্রা। জেলা শহর প্রদক্ষিন থেকে রাস্তার সকল মানুষকেই রাখি বেধে দেয়া হয়। উদ্দেশ্য সকল মানুষের সাথে হৃদ্যতা বৃদ্ধি করা, সকলকে আপন করে নেয়া। আগেও এমন আয়োজন হলে এবারে ছিল রাস্তায় রাস্তায় ঘুরে এক অন্যরকম আয়োজন। সকলকে আপন করে নেয়ার এমন আয়োজনে অংশগ্রহন করে অন্যরকম অনুভুতির কথা জানিয়েছে অংশগ্রহনকারীরা। তাদের চাওয়া- সকল মানুষের সম্প্রীতির এই বন্ধন সারা দেশে ছড়িয়ে পড়বে।

ভারতীয় লেখক ও রবীন্দ্র গবেষক শ্যামল সেন গুপ্ত বলেন, ১৯০৫ সালের হিন্দু-মুসলিমদের মধ্যে ভ্রাতৃত্ববোধ জাগিয়ে তুলতে এবং ব্রিটিশদের বঙ্গভঙ্গের বিরুদ্ধে প্রতিরোধ গড়ে তুলতে বিশ্বকবি রবীন্দ্রনাথ ঠাকুর রাখি বন্ধন উৎসব পালন করেছিলেন। আর সকলের একতাই ১৯১১ সালে বঙ্গভঙ্গ রদও হয়েছিল।

দিনাজপুরে অন্যরকম রাখিবন্ধন উৎসব -Dinajpur, Dinajpurnews, Dinajpur news, দিনাজপুর, দিনাজপুরনিউজ, দিনাজপুর নিউজ বাংলা, বাংলানিউজ bangle, banglanews, Bangladesh, বাংলাদেশ I+জেলা উদীচীর সভাপতি রেজাউর রহমান রেজু বলেন, রবীন্দ্রনাথের এমন বন্ধন আয়োজনের মাধ্যমেই বঙ্গভঙ্গ রদ হয়েছিল। মানুষের মধ্যে ভেদাভেদ দুর করে সম্প্রীতির দেশ গড়ে তুলতে এই ধরনের আয়োজন ভুমিকা রাখবে।

বাংলাদেশ গ্রুপ থিয়েটারের সাংগঠনিক সম্পাদক নাট্যকার তারেকুজ্জামান তারেক বলেন, বাঙ্গালীর হারিয়ে যাওয়া ঐতিহ্য ও সাম্প্রদায়িকতার বিরুদ্ধে এই আয়োজন আগামীতে ব্যাপকভাবে পালিত হবে।

সম্প্রীতির বন্ধন উদযাপন কমিটির সদস্য সচিব ড. মাসুদুল হক বলেন, রবীন্দ্রনাথের পথ ধরে এই ধরনের আয়োজন বর্তমান সময়ে প্রাসঙ্গিক। সম্প্রীতির বন্ধন সমগ্র দেশে ছড়িয়ে দেয়ার চেষ্টার পাশাপাশি এই আয়োজন চলমান থাকবে।

র‌্যালীটি শহরের বিভিন্ন সড়ক প্রদক্ষিণ করে পুনরায় প্রেসক্লাবে শেষ হয়। পরে রাতে সেখানে এক সাংস্কৃতিক অনুষ্ঠানে সম্প্রীতির সঙ্গীত পরিবেশন করেন শিল্পকলা ও উদীচীর শিল্পীরা।

মন্তব্য লিখুন (ফেসবুকে লগ-ইন থাকতে হবে)

মন্তব্য