বাংলাদেশের উত্তরের জনপদ ঠাকুরগাঁও একটি প্রত্যন্ত অঞ্চল। এ অঞ্চলে বিনোদনের জায়গা দিন দিন কমছে। তাই এ অঞ্চলের মানুষেরা নিজ উদ্যোগে ১৯ দশকের আরও আগে থেকে নিয়মিত আয়োজন করে আসছে যাত্রাপালা, জারি গান ও লক্ষীর ধামের আসর। কিন্তু কালের পরিবর্তনের সাথে ধীরে ধীরে বিলুপ্ত হয়ে যাচ্ছে গ্রাম বাংলার ঐত্যহ্যবাহী ধামের গানসহ এসব উৎসব। এ আয়োজনে ব্যয়বহুল হওয়ার কারনে এমটা হচ্ছে বলে জানান সংশ্লিষ্টরা। এছাড়াও বর্তমানে আধুনিকায়নের যুগে সামাজিক যোগাযোগ মাধ্যম, ইন্টারনেটের কারনেও হারিয়ে যাচ্ছে এসব আয়োজন।

তবে গ্রামাঞ্জলে এখনো প্রবীন মানুষদের বিনোদনের কেন্দ্রে রয়েছে বছরের বা আধা বছরে ধামের গানের আয়োজনের অপেক্ষা। এরই ধারাবাহিকতায় গত বুধবার রাতে সদর উপজেলার আকচা কাশিডাঙ্গায় অনুষ্ঠিত হলো ধামের গান “জুলুম ডাঙ্গুয়া হাউসালি সরী”। জেলার রানীশংকৈল উপজেলার রাতের গ্রামের একটি ধামের গান পরিবেশনকারী দল এটি পরিচালনা করে। সেখানে ভিলেনের অট্ট্র হাসি, নায়িকাদের ড্যান্স, নায়িকার মুচকি হাঁসি, জোকারের উন্মাদনা ভালই উভযোগ করলো স্থানীয়রা। ধামের গান উপভোগে বিভিন্ন বয়সীদের মধ্যে বৃদ্ধদের বেশি দেখা গেলেও তরুনদের উপস্থিতি কম ছিল।

এ ব্যাপারে নাট্য ব্যক্তিত্ব দেবকুমার গুহ ঠাকুরতা করি জানান, ধামের গান এ অঞ্চলের গ্রাম বাংলার বিনোদনের খোরাক। তবে সঠিক পারিশ্রমিক দিতে না পারা ও সরকারি বেসরকারী সহযোগিতার অভাবে দিন দিন এটি হারিয়ে যাচ্ছে। এর সাথে জড়িতরা এটিকে ভালবাসে বিধায় নিজে থেকে এ জাতীয আয়োজনের সাথে নিজেকে জড়িয়ে রেখেছেন।

বিশিষ্ট শিক্ষাবিদ প্রফেসর মনতোষ কুমার দে জানান, গ্রাম গঞ্জে ধামের গানের আসর এখন অনেক জমে। বিশেষ করে হিন্দু ধর্মালম্বীদের লক্ষীপুজাকে লক্ষ্য করে ধামের গানের আসর বসানো হয়। বিভিন্ন বয়সী মানুষের ঢল নামে এসব আয়োজনে। ধামের গান বাংলার সংস্কৃতিতে একটি ঐতিহ্য। এই ঐতিহ্য টিকিয়ে রাখতে সরকারী বেসরকারী সহযোগিতা প্রয়োজন। তাহলে টিকিয়ে রাখা যাবে এই ঐতিহ্যকে।

সদর উপজেলার আকচা ইউপি চেয়ারম্যান সুব্রত কুমার বর্মন জানান, লক্ষীপূজা উপলক্ষে প্রতি বছর আকচা কাশিডাঙ্গাসহ ইউনিয়নের বিভিন্ন স্থানে নিয়মিত আয়োজন করা হয় ধাম। বিশেষ করে সন্ধার পর বসে ধামের গানের আসর। আসরে বিভিন্ন বয়সী নারী-পুরুষ ধামের গানের আসরে আসেন গান উপভোগ করতে।

এ ধামের গান ঠাকুরগাঁওয়ের ঐতিহ্যবাহী একটি আয়োজন। এ আয়োজনকে টিকিয়ে রাখতে প্রয়োজন সরকারী-বেসরকারী সহযোগিতা। সহযোগিতায় ধামের গানের আয়োজনকারী দলগুলো সামনের দিনে ঐতিহ্য টিকিয়ে রাখবে এমনটাই প্রত্যাশা সকলের।

মন্তব্য লিখুন (ফেসবুকে লগ-ইন থাকতে হবে)

মন্তব্য