সূর্যের অতিবেগুনি রশ্মি ও বায়ু দূষণের কারণে ত্বকে যে খারাপ প্রভাব পড়ে তা দূর করতে চাই বাড়তি যত্ন।

ধুলাবালি ছাড়াও ইলেক্ট্রনিক যন্ত্রের পর্দার থেকে আসা নীল আলোও ত্বকের ক্ষতি করে।

ভারতীয় চর্মরোগ বিশেষজ্ঞ ডা. বাতুল প্যাটেল স্বাস্থ্যবিষয়ক একটি ওয়েবসাইটে প্রকাশিত প্রতিবেদনে জানান, বিভিন্ন ধরনের দূষণের প্রভাবে ত্বকে হতে পারে দাগ, চর্মরোগ। পড়তে পারে বয়সের ছাপ, দেখাতে পারে ক্লান্ত।”

ত্বকের ওপর পড়া এসব দূষণের ক্ষতিকর প্রভাব দূর করতে সচেতনতার পাশাপাশি চাই বিশেষ যত্ন।

ত্বকের দূষণ

সূর্যের অতিবেগুনি রশ্মি ত্বকের জন্য বেশি ক্ষতিকারক। বিশ্ব স্বাস্থ্য সংস্থা অনুযায়ী, অতিবেগুনি রশ্মি ত্বকে উন্মুক্ত রেডিকেলের সৃষ্টি করে। ত্বকের ক্ষতির জন্য সূর্য রশ্মি, মোবাইল ও কম্পিউটারের নীল আলো দায়ী। গবেষণায় দেখা গেছে, দীর্ঘ সময় এই সকল পণ্য ব্যবহারে অকালে বয়সের ছাপ পড়ার সম্ভাবনা থাকে।

ত্বকের সুরক্ষা: ভারতের আরেক চর্মরোগ বিশেষজ্ঞ ডা. সিমাল সোইন পরামর্শ হল, ত্বকের সুরক্ষায় সবচেয়ে ভালো উপাদান হল সানস্ক্রিন। উচ্চ মাত্রার এসপিএফ যুক্ত খনিজ উপাদান সমৃদ্ধ সানস্ক্রিন ব্যবহার করলে ঠেকাতে পারে নীল আলোর ক্ষতিকর প্রভাব। পাশাপাশি এসপিএফ যুক্ত বিবি ক্রিম ব্যবহার করলেও মিলবে সুরক্ষা। যা দিনের বেলায় কয়েকবারই ব্যবহার করা যেতে পারে।

অ্যান্টিঅক্সিডেন্টের মাত্রা বাড়ানো: পুষ্টিবিজ্ঞানের তথ্যানুসারে ভিটামিন ই যুক্ত করলে ভিটামিন সি ভালো কাজ করে। তাই এই দুই উপাদান সমৃদ্ধ প্রসাধনী ব্যবহার করার চেষ্টা করতে হবে। পাশাপাশি ‘অ্যান্টিঅক্সিডেন্ট’ সমৃদ্ধ ‘নাইট ক্রিম’য়ের ব্যবহার ত্বকের ক্ষতি সারাতে সাহায্য করবে। এর মধ্যে ‘রেসভেরাট্রল’ এবং ‘গ্লুটাথিওন’ উপাদান যুক্ত পণ্য থাকলে আরও ভালো।

রাতের পরিচর্যা: রাতে ঘুমাতে যাওয়ার আগে ভালো মতো মুখ পরিষ্কার করে নিতে হবে যেন কোনো ময়লা বা ধুলাবালি না থাকে। ত্বক আর্দ্র রাখে এমন প্রসাধনী ব্যবহার করুন। স্বাস্থ্যকর খাদ্যাভ্যাস ও আর্দ্রতা বিষাক্ত উপাদানের বিরুদ্ধে কাজ করে।

অক্সিডেটিভ চাপ: একটা আপেল যেমন বাতাসের সংস্পর্শে আসলে বাদামি রং ধারণ করে, আমাদের ত্বকও তেমন বাতাসের সংস্পর্শে আসলে উন্মুক্ত রেডিকেলের প্রভাবে কালচে হয়ে যায়। এমনটা হওয়ার মূল কারণ হল ত্বকে অ্যান্টি অক্সিডেন্টয়ের ঘাটতি।

ঘরোয়া সমাধান

– লোমকূপ টানটান করতে ও লালচেভাব কমাতে ত্বকে বরফ ঘষা যেতে পারে।

– আধ কাপ প্রাকৃতিক অ্যালো ভেরার জেলের সঙ্গে কয়েক ফোঁটা টি ট্রি তেল ব্যবহার করুন। মিশ্রণটি ত্বকে মেখে ১০ মিনিট অপেক্ষা করে ধুয়ে ফেলুন। গোপাল জলও ত্বকের জ্বালাভাব কমাতে সাহায্য করে।

– এক টেবিল চামচ চন্দনের গুড়ার সঙ্গে নিম ও তুলসি পাতার গুঁড়া করে মেশান। এতে এক চিমটি হলুদ গুঁড়া ও পানি মিশিয়ে প্যাক তৈরি করে নিন। মিশ্রণটি ত্বকে মেখে ১৫ মিনিট অপেক্ষা করে ধুয়ে ফেলুন।

মন্তব্য লিখুন (ফেসবুকে লগ-ইন থাকতে হবে)

মন্তব্য