মার্কিন নিষেধাজ্ঞাকে উপেক্ষা করে ইরানের কাছ থেকে জ্বালানি তেল কেনা অব্যাহত রেখেছে চীন। চীনের এমন আচরণে যুক্তরাষ্ট্র উদ্বিগ্ন বলে ট্রাম্প প্রশাসনের এক শীর্ষ কর্মকর্তার বরাত দিয়ে জানিয়েছে ইরানি সংবাদমাধ্যম পার্সটুডে।

প্রেসিডেন্ট হিসেবে ট্রাম্প দায়িত্ব গ্রহণের পর থেকেই যুক্তরাষ্ট্র-চীন বাণিজ্য যুদ্ধ নতুন মাত্রা পায়। চীনকে দমাতে হোয়াইট হাউজ অস্ত্র হিসেবে চীনা পণ্যে অতিরিক্ত শুল্ক আরোপ, বিভিন্ন কোম্পানির ওপর নিষেধাজ্ঞা আরোপসহ নানা পথ করেছে। ইরানের সঙ্গে পরমাণু চুক্তি থেকে বেরিয়ে আসার পর যুক্তরাষ্ট্র বারবার চীনকে ইরানের সঙ্গে বাণিজ্য বন্ধের জন্য সতর্ক করে আসছে।

গত মাসে আমেরিকা চীনের পাঁচজন ব্যবসায়ী এবং ছয়টি প্রতিষ্ঠানের ওপরে নিষেধাজ্ঞা আরোপ করে ট্রাম্প প্রশাসন। এর মধ্যে চীনের কস্কো শিপিং কর্পোরেশনের দুটি শাখা রয়েছে। এসব ব্যক্তি ও প্রতিষ্ঠানের বিরুদ্ধে মার্কিন সরকারের অভিযোগ তারা আমেরিকার নিষেধাজ্ঞা উপেক্ষা করে ইরানের সঙ্গে বাণিজ্যিক লেনদেন পরিচালনা করছে।

তাছাড়া গত মে মাসে চীনা কোম্পানি হুয়াওয়ের ওপর আনুষ্ঠানিকভাবে জোরালো নিষেধাজ্ঞা চাপিয়েছিল ট্রাম্প প্রশাসন। এতে হুয়াইয়ে ও তাদের ৭০টি সহযোগী কোম্পানির সরঞ্জাম যুক্তরাষ্ট্রে কেনাবেচা বন্ধ হয়ে যায়।

এতো কিছুর পরও বশ মানছে না চীন। বেইজিং বলছে, এর মাধ্যমে আমেরিকা নিজেদের সিদ্ধান্ত চাপিয়ে দিয়েছে। কিন্তু ইরানের সঙ্গে বাণিজ্য করা চীনের বৈধ ও আইনগত অধিকার।

চীনের এ রকম আচরণ মার্কিন প্রশাসনে চিন্তার ভাঁজ ফেলেছে বলে জানিয়েছেন উচ্চ পর্যায়ের এক মার্কিন কর্মকর্তা। তিনি বলেন, চীন তাদের জাহাজগুলোর ট্রান্সপন্ডার বন্ধ রেখে ইরানের সঙ্গে তেল বাণিজ্য চালিয়ে যাচ্ছে। ফলে জাহাজের অবস্থান জানা যাচ্ছে না। এমন আচরণে যুক্তরাষ্ট্র খুবই উদ্বিগ্ন। এটা চলতে থাকলে ফল ভালো হবে না বলেও তিনি হুশিয়ারি দেন।

মন্তব্য লিখুন (ফেসবুকে লগ-ইন থাকতে হবে)

মন্তব্য