দীর্ঘ টানাপড়েন আর অনিশ্চয়তার পর ব্রেক্সিট চুক্তির বিষয়ে ইউরোপীয় ইউনিয়নের সঙ্গে একটি সমঝোতায় পৌঁছল যুক্তরাজ্য।

বৃহস্পতিবার ব্রাসেলসে ইউরোপীয় নেতাদের এক বৈঠকের আগে দুই পক্ষের প্রতিনিধিরা চুক্তির বিষয়ে সমঝোতায় পৌঁছান।

বিবিসির খবরে বলা হয়, দুই পক্ষের প্রতিনিধিরা এখন ওই আইনি দিকগুলো নিয়ে কাজ করছেন। তবে চূড়ান্ত চুক্তি হওয়ার আগে তাতে ব্রিটিশ পার্লামেন্ট ও ইউরোপীয় পার্লামেন্টের অনুমোদন নিতে হবে।

ব্রিটিশ প্রধানমন্ত্রী বরিস জনসন এক টুইটে সেই ঘোষণা দিয়ে বলেন, “দারুণ একটা সমঝোতায় আমরা পৌঁছেছি, পরিস্থিতির ওপর নিয়ন্ত্রণও ফিরেছে।”

৩১ অক্টোবরে প্রক্রিয়ামাফিক ব্রেক্সিট শেষ করার পথ সুগম করতে শনিবারই ব্রিটিশ পার্লামেন্টের বিশেষ অধিবেশনে চুক্তির বিষয়ে অনুমোদন পাওয়ার আশা করছেন জনসন।

ইউরোপীয় কমিশনের প্রেসিডেন্ট জ্যঁ ক্লদে জাঙ্কার এক চিঠিতে বলেছেন, ইইউ এর ২৭ সদস্যরাষ্ট্রকে চুক্তিতে অনুমোদন দেওয়ার সুপারিশ করবেন তিনি। কারণ তিনি বলেন, ব্রেক্সিট প্রক্রিয়া সম্পন্ন করার শেষ সময় এখনই।

তবে উত্তর আয়ারল্যান্ডের ডেমোক্র্যাটিক ইউনিয়নিস্ট পার্টি (ডিইউপি) নতুন ব্রেক্সিট চুক্তি সমর্থন করবে না বলে জানিয়েছেন বিবিসি’র রাজনীতি বিষয়ক প্রধান সংবাদদাতা ভিকি ইয়াং।

তিনি বলেন, ঊর্ধ্বতন ডিইউপি এমপি’রা ব্রিটিশ পার্লামেন্টের নিম্নকক্ষ হাউজ অব কমন্সে চুক্তি নিয়ে আলোচনার জন্য বৈঠক করেছেন। কিন্তু এর পক্ষে তারা ভোট দেবেন না।

ওদিকে, বিরোধীদল লেবার পার্টির নেতা বলেছেন, আগের প্রধানমন্ত্রী টেরিজা মে যে ব্রেক্সিট চুক্তি করেছিলেন নতুন চুক্তি তার চেয়েও বেশি খারাপ। ফলে এমপি’দের এটি প্রত্যাখ্যান করা উচিত।

তবে ইউরোপীয় কমিশনের প্রেসিডেন্ট জাঙ্কার বলছেন, নতুন চুক্তি “সুষ্ঠু এবং ভারসাম্যপূর্ণ”। জাঙ্কার এবং ব্রিটিশ প্রধানমন্ত্রী জনসন দুইজনই নিজ নিজ পার্লামেন্টকে চুক্তিতে সমর্থন দেওয়ার আহ্বান জানিয়েছেন।

বিবিসি জানিয়েছে, পরবর্তী পদক্ষেপে কি করা হবে তা নিয়ে আলোচনা করতে হাউজ অব কমন্সে শনিবার বাড়তি কোনো অধিবেশন বসবে কিনা সে প্রশ্নে ব্রিটিশ এমপি’রা পরে ভোটাভুটি করবেন।

অধিবেশন বসার বিষয়টি ভোটে অনুমোদন পেলে সরকার তখন চুক্তির ওপর ভোট অনুষ্ঠান করতে পারবে বলে জানিয়েছেন কেবিনেট অফিস মিনিস্টার মাইকেল গভ।

মন্তব্য লিখুন (ফেসবুকে লগ-ইন থাকতে হবে)

মন্তব্য