রাম জন্মভূমি-বাবরি মসজিদ ভূমি নিয়ে বিরোধ মামলার শেষ পর্বের শুনানি সোমবার থেকে শুরু হচ্ছে। মামলার রায় নিয়ে যেকোনো ধরনের অপ্রীতিকর ঘটনা এড়াতে ভারতের অযোধ্যা শহরে ১৪৪ ধারা জারি করেছে স্থানীয় প্রশাসন।

এনডিটিভি জানায়, রোববার প্রথম প্রহর থেকেই কারফিউ কার্যকর হয়েছে। আগামী ১০ ডিসেম্বর পর্যন্ত যা টানা বহাল থাকবে।

দশেরা উৎসবের জন্য প্রায় এক সপ্তাহ ছুটি থাকার পর সোমবার ভারতের সুপ্রিম কোর্টে এই মামলার শুনানি কার্যক্রম পুনরায় শুরু হচ্ছে। আগামী ১৭ নভেম্বরের মধ্যে রায় আসতে পারে বলে ধারণা করা হচ্ছে। কারণ, ওই দিন ভারতের প্রধান বিচারপতি রঞ্জন গোগৈর মেয়াদ শেষ হবে।

এক টুইটে ফৈজাবাদ জেলা ম্যাজিস্ট্রেট অনুজ কুমার ঝা বলেন, “অযোধ্যা ভূমি বিরোধ মামলার রায় হতে পারে বিবেচনায় আগামী ১০ ডিসেম্বর পর্যন্ত পুরো জেলায় ১৪৪ ধারা জারি করা হয়েছে। আসন্ন উৎসবের কথা বিবেচনা করেই কারফিউ জারির এই সিদ্ধান্ত নেওয়া হয়েছে।”

“অযোধ্যার বাসিন্দা এবং যারা এখানে বেড়াতে আসেন সরকার তাদের নিরাপত্তার বিষয়টি সবচেয়ে বেশি গুরুত্বের সঙ্গে বিবেচনা করে ওই আদেশ জারি করেছে।”

১৪৪ ধারা জারি করে একসঙ্গে চারজন বা তার বেশি মানুষ জমায়েত হওয়া নিষিদ্ধ করা হয়েছে। এছাড়া ওই সময়ে কেউ কোনো ধরনের ড্রোন উড়াতে পারবেন না।

সরকারের এই সিদ্ধান্তে হতাশা প্রকাশ করেছে বিশ্ব হিন্দু পরিষদ (ভিএইচপি)। তারা দীপাবলি উৎসবে বিরোধপূর্ণ জমিতে প্রদীপ প্রজ্বলনের অনুমতি চেয়েছে।

অন্যদিকে, বাবরি মসজিদ অ্যাকশন কমিটি বলেছে, যদি ভিএইচপিকে ওই জমিতে প্রদীপ প্রজ্বলনের অনুমতি দেওয়া হয় তবে তারাও সেখানে নামাজ পড়ার অনুমতি চাইবে।

দশকের পর দশক ধরে চলা বিতর্কিত অযোধ্য ভূমি বিরোধ মামলার সমঝোতায় গত মার্চে ভারতের সুপ্রিম কোর্ট তিন সদস্যের একটি মধ্যস্থতা কমিটি গঠন করে দিয়েছিল।

কিন্তু উভয় পক্ষের সঙ্গে কয়েক দফা বৈঠক এবং নানা দেনদরবারের পরও কমিটি কোনো সমঝোতায় পৌঁছাতে ব্যর্থ হলে গত ৬ অগাস্ট থেকে প্রধান বিচারপতি নেতৃত্বাধীন সুপ্রিম কোর্টের একটি বেঞ্জ প্রতিদিন এই মামলার শুনানির আয়োজন্ শুরু করে।

এনডিটিভি জানায়, এ মাসের শুরুতে আদালত থেকে মামলার কাজ প্রায় গুছিয়ে আনার এবং শিগগির রায় ঘোষণার ইঙ্গিত দেওয়া হয়।

ভারতীয় উপমহাদেশে প্রথম মুঘল সম্রাট বাবরের আমলে ১৫২৮ সালে উত্তর প্রদেশের ফৈজাবাদ জেলার অযোধ্য শহরের রামকোট হিলে বাবরি মসজিদ নির্মাণ করা হয়েছিল।

হিন্দু দলগুলোর দাবি, সেখানে আগে একটি মন্দির ছিল। সম্রাট বাবর সেটি ভেঙ্গে বাবরি মসজিদ নির্মাণ করেন।

১৯৯২ সালে উগ্র হিন্দুত্ববাদীরা বাবরি মসজিদ ভেঙ্গে ফেললে দেশজুড়ে হিন্দু-মুসলমান সাম্প্রদায়িক দাঙ্গা ছড়িয়ে পড়ে।

দাঙ্গায় প্রায় দুই হাজার মানুষ প্রাণ হারায়, যা সাতচল্লিশের দেশভাগের পর ভারতে সবচেয়ে রক্তক্ষয়ী দাঙ্গার একটিতে পরিণত হয়।

হিন্দুদের দেবতা রামের জন্মভূমি হিসেবে হিন্দু দলগুলো ধ্বংস করা বারবি মসজিদের স্থানে রামমন্দির নির্মাণ করতে চাইছে। গত তিন দশক ধরে বিশ্ব হিন্দু পরিষদ এর আন্দোলন ও প্রচার চালিয়ে আসছে।

২০১০ সালে এলাহাবাদ হাই কোর্ট বিরোধপূর্ণ দুই দশমিক ৭৭ একর জমি মামলার তিন পক্ষ সুন্নি ওয়াকফা বোর্ড, নির্মোহী আখড়া এবং রাম লিলার মধ্যে ভাগ করে দেওয়ার রায় দেয়।

ওই রায়ের বিরুদ্ধে ১৪টি আপিল আবেদন জমা পড়েছে।

মন্তব্য লিখুন (ফেসবুকে লগ-ইন থাকতে হবে)

মন্তব্য