সিরিয়ার কুর্দি অধ্যুষিত উত্তরাঞ্চলে তুরস্কের সামরিক অভিযানের মুখে চাপে পড়া কুর্দিরা প্রেসিডেন্ট বাশার আল আসাদের সরকারের সঙ্গে সমঝোতা করেছে বলে জানা গেছে।

সিরিয়ার উত্তরাঞ্চলীয় সীমান্তে তাদের বিরুদ্ধে চলা তুরস্কের সামরিক অভিযান রুখতে সেখানে সেনাবাহিনী পাঠাতে আসাদ সরকার সম্মত হয়েছে বলে জানিয়েছে কুর্দিরা।

এর আগে সিরিয়ার রাষ্ট্রীয় গণমাধ্যম উত্তরাঞ্চলে সরকারি বাহিনী মোতায়েনের খবর দিয়েছে বলে জানিয়েছেন বিবিসি।

ওই এলাকার পরিস্থিতি ‘অসমর্থনযোগ্য’ হয়ে পড়েছে জানিয়ে যুক্তরাষ্ট্র সেখান থেকে অবশিষ্ট সেনা প্রত্যাহার করার পর সিরিয়ার সরকারি বাহিনী ওই এলাকায় গেল। এই এলাকা নিয়ন্ত্রণকারী কুর্দিদের নেতৃত্বাধীন সিরিয়ান ডেমোক্রেটিক ফোর্সেস (এসডিএফ) যুক্তরাষ্ট্রের প্রধান মিত্র।

কুর্দিরা এই এলাকায় দীর্ঘদিনের অংশীদার যুক্তরাষ্ট্রের সামরিক সুরক্ষা হারানোর পর মিত্রপক্ষ পরিবর্তনের পদক্ষেপ নিয়েছে, এই সমঝোতা চুক্তি থেকে এমন ইঙ্গিতই পাওয়া যাচ্ছে বলে মনে করছেন বিশ্লেষকরা ।

তবে সিরীয় সরকার কুর্দিদের কী প্রতিশ্রুতি দিয়েছে তা এখনো জানা যায়নি বলে জানিয়েছে বিবিসি।

তুরস্ক নিজের সীমান্ত সংলগ্ন এলাকাগুলো থেকে কুর্দি বাহিনীগুলোকে হটিয়ে দিতে গত সপ্তাহ থেকে সিরিয়ায় উত্তরাঞ্চলে সামরিক অভিযান শুরু করেছে। আঙ্কারা সমর্থিত সিরিয়ার বিদ্রোহী বাহিনীগুলোও তুরস্কের এই অভিযানের অংশ হয়েছে।

ইতোমধ্যে সিরিয়ার উত্তরাঞ্চলে (এসডিএফ) নিয়ন্ত্রিত এলাকাগুলোতে তুরস্কের বাহিনীগুলো ব্যাপক গোলা ও বোমাবর্ষণ করেছে। প্রধান দুটি সীমান্ত শহরে তুর্কি বাহিনী অগ্রগতিও অর্জন করেছে। দুপক্ষের লড়াইয়ে বহু বেসামরিক ও উভয় পক্ষের বহু যোদ্ধা নিহত হয়েছেন।

উত্তর সিরিয়ার কুর্দি নেতৃত্বাধীন প্রশাসন জানিয়েছে, সমঝোতার অংশ হিসেবে পুরো সীমান্তজুড়ে সিরিয়ার সেনাবাহিনী মোতায়েন করার কথা রয়েছে।

সিরীয় সেনারা তুরস্কের ‘আগ্রাসান প্রতিরোধে’ এসডিএফকে সহযোগিতা করবে বলে এক বিবৃতিতে জানিয়েছে তারা।

এই পদক্ষেপ ‘আফ্রিনের মতো তুরস্কের বাহিনীর দখল করে রাখা অবশিষ্ট সিরীয় শহরগুলো মুক্ত করার পথও দেখাবে’ বলে বিবৃতিতে বলা হয়েছে।

২০১৮ সালে দুই মাসের এক অভিযানে তুরস্কের সামরিক বাহিনী ও তুরস্কপন্থি সিরীয় বিদ্রোহীরা কুর্দি যোদ্ধাদের হটিয়ে আফ্রিন দখল করে নেয়।

মন্তব্য লিখুন (ফেসবুকে লগ-ইন থাকতে হবে)

মন্তব্য