বিশ্বের প্রথম দেশ হিসেবে চিনিযুক্ত সব ধরনের কোমল পানীয়ের বিজ্ঞাপন নিষিদ্ধ করার ঘোষণা দিয়েছে সিঙ্গাপুর।

দেশটি বলছে, ডায়াবেটিসের বিরুদ্ধে ‘চলমান যুদ্ধের’ অংশ হিসেবে এই পদক্ষেপ নেওয়া হচ্ছে।

চিনিযুক্ত বেভারেজও এই নিষেধাজ্ঞার আওতায় পড়বে জানিয়ে সিঙ্গাপুরের স্বাস্থ্য প্রতিমন্ত্রী এডউইন টং বলেছেন, সম্প্রচারমাধ্যম, মুদ্রিত ও অনলাইন সংবাদপত্রসহ সব ধরনের মিডিয়া প্ল্যাটফর্মে এই বিজ্ঞাপন প্রচারে নিষেধাজ্ঞা থাকবে।

জরিপের মাধ্যমে নেওয়া ‘জনগণের মতামতের’ ভিত্তিতে এই সিদ্ধান্ত নেওয়া হয়েছে বলে বৃহস্পতিবার এক সংবাদ সম্মেলনে জানান তিনি।

কোমল পানীয়, জুস, ইয়োগার্ট ড্রিংকস ও ইনস্ট্যান্ট কফি- সব কিছুর বিজ্ঞাপনই নিষেধাজ্ঞার আওতায় পড়বে বলে এক সংবাদ বিজ্ঞপ্তিতে জানিয়েছে সিঙ্গাপুরের স্বাস্থ্য মন্ত্রণালয়।

আগামী বছর এই সিদ্ধান্ত বাস্তবায়ন সামনে রেখে আগামী কয়েক মাস গ্রাহক এবং এই খাতের উদ্যোক্তাদের মতামত নেওয়া হবে বলে জানিয়েছে তারা।

বিজ্ঞাপন নিষিদ্ধের পাশপাশি চিনিযুক্ত পানীয় প্রদর্শনেও কিছু নিয়ম বেঁধে দেওয়া হচ্ছে। চিনির পরিমাণ সম্পর্কে গ্রাহককে ধারণা দিতে প্যাকেট ও বোতলের গায়ে ভিন্ন ভিন্ন রংয়ের ব্যবহার এবং মোড়কে সামনের অংশে পুষ্টিতথ্য ও চিনির পরিমাণ উল্লেখ করতে হবে।

সংবাদ সম্মেলনে সিঙ্গাপুরের স্বাস্থ্য প্রতিমন্ত্রী বলেন, ডায়াবেটিস মোকাবেলার প্রচেষ্টার প্রথম পদক্ষেপ হিসেবে এই দুই ব্যবস্থা নেওয়া হচ্ছে।

এছাড়া উচ্চ পরিমাণে চিনিযুক্ত পানীয়ের উপর আবগারি শুল্ক আরোপ বা তা একেবারেই নিষিদ্ধ করাসহ দুটি প্রস্তাব এখনও আলোচনার টেবিলে রয়েছে বলে জানান তিনি।

এডউইন টং বলেন, “আমরা আরও সতর্কতার সঙ্গে বিষয়টি পর্যালোচনা করতে চাই। আমরা এমন উদ্যোগ নিতে চাই যা দীর্ঘমেয়াদে কার্যকর হয় এবং যাতে ভোক্তার আচরণ বদলের সঙ্গে সঙ্গে পণ্য সরবরাহকারীদেরও উৎপাদন প্রক্রিয়ায় বদল ঘটায়।”

স্বাস্থ্য মন্ত্রণালয়ের পক্ষ থেকে কোমল পানীয় প্রস্তুতকারী প্রতিষ্ঠানগুলোর প্রতি স্বাদ অক্ষুণ্ন রেখে স্বাস্থ্যকর পণ্য তৈরির পদ্ধতিতে যাওয়ার আহ্বান জানানো হয়েছে।

সিঙ্গাপুর সরকারের নেওয়া এই সিদ্ধান্তকে স্বাগত জানিয়েছে কোমল পানীয় প্রস্তুতকারী প্রতিষ্ঠান কোকা-কোলা, সিঙ্গাপুর।

এক বিবৃতিতে তারা বলেছে, “কম চিনিযুক্ত এবং চিনিবিহীন পানীয় বাজারে আনার লক্ষ্যে আমরা কাজ করছি। পরিমাণ মতো চিনি ঠিক আছে, তবে অধিক মাত্রায় চিনি কারও জন্যই ভালো নয় বলে আমরাও মনে করি।”

অধিক পরিমাণে চিনিযুক্ত পানীয় পানের সঙ্গে স্থূলতার সম্পর্ক রয়েছে এবং তা ডায়াবেটিস ও হৃদরোগের ঝুঁকি তৈরি করে। বিশ্ব স্বাস্থ্য সংস্থার তথ্য অনুযায়ী, যারা প্রতিদিন এক থেকে দুই ক্যান চিনিযুক্ত পানীয় পান করেন তাদের টাইপ-২ ডায়াবেটিস হওয়ার ঝুঁকি যারা খুব একটা এটা পান করেন না তাদের চেয়ে ২৬ শতাংশ বেশি।

অধিকন্তু বিশ্বব্যাপী স্থূলতা ১৯৭৫ সাল থেকে তিন গুণ বেড়েছে বলেও সিএনএনের এক প্রতিবেদনে বলা হয়েছে।

এতে বলা হয়, আন্তর্জাতিক বাণিজ্যের অন্যতম কেন্দ্র সিঙ্গাপুরকে এখন বয়স্ক জনসংখ্যার চ্যালেঞ্জ মোকাবেলা করতে হচ্ছে, যাতে দেশটির সরকারকে স্বাস্থ্য সেবার ‘বোঝা’ কমানোর পথ খুঁজতে হচ্ছে।

নব্বইয়ের দশক থেকে সিঙ্গাপুরে স্থুলতার হার বেড়েছে। ইন্টারন্যাশনাল ডায়াবেটিস ফাউন্ডেশনের তথ্য মতে, ২০১৭ সালে দেশটির মোট পূর্ণ বয়স্ক মানুষের প্রায় প্রতি সাতজনে একজন ডায়াবেটিস আক্রান্ত ছিল।

চিনিযুক্ত পানীয় থেকে আসক্তি কমাতে গত বছর জনমত জরিপ করে সিঙ্গাপুরের স্বাস্থ্য মন্ত্রণালয়। ওই জরিপে অংশগ্রহণকারীদের ৭০ শতাংশই বিজ্ঞাপনের উপর বিধিনিষেধ আরোপের পক্ষে মত দেন।

মন্তব্য লিখুন (ফেসবুকে লগ-ইন থাকতে হবে)

মন্তব্য