মোঃ জাকির হোসেন, সৈয়দপুর (নীলফামারী) সংবাদদাতা ॥ নীলফামারীর সৈয়দপুর থেকে প্রকাশিত সাপ্তাহিক কাগজ ‘আলপন’ এ সৈয়দপুর পৌর পরিষদকে জড়িয়ে প্রতিহিংসা মূলক মিথ্যে সংবাদ প্রকাশের প্রতিবাদে পৌর পরিষদ সংবাদ সম্মেলন করেছে। ১২ অক্টোবর শনিবার দুুপুরে পৌরসভার অধিবেশন কক্ষে অনুষ্ঠিত সংবাদ সম্মেলনে সভাপতিত্ব করেন পৌর প্যানেল মেয়র-১ জিয়াউল হক।

এসময় অন্যান্যের মধ্যে উপস্থিত ছিলেন প্যানেল মেয়র-২ শাহিন আক্তার শাহিন, প্যানেল মেয়র-৩ কাজী জাহানারা পারভীন, কাউন্সিলর আবিদ হোসেন লাড্ডান, আল-মামুন সরকার, জোবায়দুল ইসলাম মিন্টু, শেখ মোহন, শাহিনুর ইসলাম মিঠু, গোলাম মোস্তফা, আজগার আলী, জোসনা বেগম, সাবিয়া বেগম, মিনারা বেগম, সৈয়দ মঞ্জুর আলম, আব্দুল খালেক সাবু, নির্বাহী প্রকৌশলী আইয়ুব আলী, হিসাব রক্ষক আবু তাহের, প্রধান হিসাব রক্ষণ কর্মকর্তা শাহাদত হোসেন, সুজন শাহ প্রমুখ।

প্যানেল মেয়রের পক্ষে লিখিত বক্তব্য পাঠ করেন সাবেক সচিব আশীষ কুমার সরকার। এরপর পৌরসভার মেয়র অধ্যক্ষ মোঃ আমজাদ হোসেন সরকার মুঠোফোনে সংবাদ সম্মেলনে বক্তব্য পেশ করেন। এতে তিনি বলেন, সাংবাদিকতা হল একটি মহান পেশা। কিন্তু কেউ কেউ এই পেশাকে নিজের ব্যক্তিগত স্বার্থে ব্যবহার করেন এবং পেশা দারিত্বের উর্ধ্বে উঠে নিজের আখের গোছাতে তৎপর থাকেন। একারণে প্রতিহিংসা পরায়ন হয়ে ব্যক্তি থেকে শুরু করে প্রতিষ্ঠানের বিরুদ্ধে মনগড়া সংবাদ পরিবেশন করে বিষোদগার করার মাধ্যমে নিজের সাংবাদিকত্ব জাহির করার অপচেষ্টা চালিয়ে যান।

এরই অন্যতম উদাহরণ হচ্ছে আমিনুল হকের সম্পাদনা ও প্রকাশনায় সৈয়দপুর থেকে প্রকাশিত সাপ্তাহিক আলাপন পত্রিকায় গত ১১ অক্টোবর শুক্রবার সৈয়দপুর পৌরসভাকে ‘খাওয়া ভবন’ আখ্যা দিয়ে করা সংবাদ শিরোনামটি। এতে পুরো পৌর পরিষদ তথা সমগ্র সৈয়দপুরবাসীকে কটাক্ষ ও হেয় প্রতিপন্ন করা হয়েছে। অথচ সংবাদটিতে শিরোনামের সাথে সামঞ্জস্যপূর্ণ কোন তথ্য দেওয়া হয়নি। বরং বিভিন্ন সময় পৌর পরিষদ কর্তৃক জাতীয় ও গুরুত্বপূর্ণ দিবস কেন্দ্রিক প্রোগ্রামসহ দেশী-বিদেশী সংস্থা ও প্রতিষ্ঠানের দায়িত্বশীল ব্যক্তিদের নিয়ে আয়োজিত অনুষ্ঠান সমুহ যা পৌরবাসীর স্বার্থে প্রয়োজন। এসকল অনুষ্ঠানে আপ্যায়নের বিষয়টিকে হীন দৃষ্টিতে উপাস্থপন করা হয়েছে। যা একমাত্র তার দ্বারাই সম্ভব। কারণ তিনি আজ পর্যন্ত কাউকে আপ্যায়ন করার মত উদারতা প্রকাশে চরম কৃপণতার পরিচয় দিয়েছেন।

অথচ এই ব্যক্তিটিই কিনা পৌর পরিষদের আপ্যায়ন সহ সকল সুযোগ সুবিধা সবচেয়ে বেশি গ্রহণ করেছেন এবং নিজের আখের গুছিয়েছেন। একজন মানুষ কতটা অকৃতজ্ঞ ও বিবেক বর্জিত হলে এমন হেয় মানসিকতা প্রকাশ করতে পারে তা ভেবে পাওয়া যায়না। তিনি বলেন, এতদিন তিনি এককভাবে প্রেসক্লাবকে কুক্ষিগত করে সকল সুবিধা ব্যক্তিগতভাবে ভোগ করেছেন। সানফ্লাওয়ার স্কুলসহ বিভিন্ন প্রতিষ্ঠানের মাধ্যমে নিজের স্বার্থ সিদ্ধি করে আর্থিকভাবে লাভবান হয়েছেন। এখন তার গোমর ফাঁস হয়ে পড়ায় সর্বস্ব হারানোর ভয়ে একটি দলের লেজুরবৃত্তি করে অপসাংবাদিকতায় মেতেছেন। যা কারও জন্যই মঙ্গলকর নয়। পৌর পরিষদ সব সময় সাংবাদিকদের পাশে ছিলো, আগামীতেও তাদের পাশে থাকতে চাই। তিনি সকলের সুস্থতা ও সার্বিক সাফল্য কামনা করে বক্তব্য শেষ করেন।

পরে সাংবাদিকদের প্রশ্নের উত্তরে পৌর প্যানেল মেয়র-২ শাহিন আক্তার শাহিন বলেন, সারা জীবন সাংবাদিকদের মাথা বিক্রি করে যে আয় করেছেন তা রক্ষায় এখন তিনি কাতর। তাই উল্টাপাল্টা কথা বলে পত্রিকার মাধ্যমে বাজার গরম করার চেষ্টা করছেন। যা সাংবাদিকতার নীতিমালার পরিপন্থি। আমরা অচিরেই এ ব্যাপারে আইনগত পদক্ষেপ গ্রহণ করবো।

সভাপতির বক্তব্যে প্যানেল মেয়র-১ জিয়াউল হক বলেন, তিনি নিজেকে একাই সাংবাদিক মনে করেন। অথচ এখন কোন দৈনিক পত্রিকায় আশ্রয় নেই। ইতিপূর্বে তিনি প্রেসক্লাবকে কুক্ষিগত করে অন্য কোন সাংবাদিককে সদস্য করার ক্ষেত্রে প্রতিবন্ধকতা তৈরী করেছেন সব সময়। এভাবে সাংবাদিকদের জন্য দেয়া পৌর পরিষদসহ অন্যান্য প্রতিষ্ঠান ও ব্যক্তি বিশেষের সকল সুবিধা তিনি একাই ভোগ করেছেন। এখন তার সকল ষড়যন্ত্র ধরা পড়ে গেছে। তাই শেষ সম্বলটুকু যাতে না হারায় তাই দিশেহারা হয়ে আবোল তাবোল বকছেন। কিন্তু তিনি ব্যক্তির বিরুদ্ধে নয় এবার প্রতিষ্ঠানকে আঘাত করেছেন অন্যায়ভাবে। এর জবাব অবশ্যই দেয়া হবে, তবে তা নিয়মতান্ত্রিকভাবে।

এ সংবাদের প্রতিবাদ তার পত্রিকায় প্রকাশের জন্য লিখিতভাবে প্রেরণ করা হবে। তা যদি আগামী সংখ্যায় ছাপা না হয় তাহলে পৌর পরিষদের পক্ষ থেকে মানহানী মামলা করা হবে। এজন্য সকল প্রকৃত সাংবাদিকদের পৌর পরিষদের সাথে থাকার আহ্বান জানান তিনি।

মন্তব্য লিখুন (ফেসবুকে লগ-ইন থাকতে হবে)

মন্তব্য