বাতাসে ঋতুবদলের স্পষ্ট আভাস টের পাওয়া যাচ্ছে। দিনেরবেলা বাইরে ঘুরলে গরম লাগে বটে, ঘরের মধ্যে এসির ঘেরাটোপ ছাড়াও দিব্যি থাকা যায়। রাতের দিকটা শিরশিরে ঠান্ডা – গায়ে আলতো একটা চাদর টেনে নিলেই আরাম লাগে। আর এই সময়টাতেই ঘরে ঘরে জ্বরজারি, নানা অসুখ-বিসুখ মাথাচাড়া দেয়। আচমকা তাপমাত্রা পরিবর্তনের সঙ্গে খাপ খাওয়াতে পারে না আমাদের শরীর, তাই খুসখুসে কাশি-জ্বর-বুকে সর্দি বসার মতো সমস্যা দেখা দেয়। এই পরিস্থিতিতে ঠিক কী করলে আপনি সুস্থ থাকবেন, তা জানতে চান?

শরীরের কথা শুনুন: আপনি স্নান করবেন কিনা, করলে দিনে ক’বার করবেন, ঠান্ডা জলে করবেন, না ঈষদুষ্ণ জলে শিফট করার সময় এসে গিয়েছে তা নির্ধারণ করবে এক এবং একমাত্র আপনার শরীর। যা করলে নিশ্চিন্ত আরাম পাচ্ছেন, কেবলমাত্র সেটিই আপনার জন্য আদর্শ। স্নানের পর অবশ্যই একেবারে শুকনো করে গা-মাথা মুছে নেবেন। মাঝে-মধ্যে এক-আধটা অয়েল ম্যাসাজও সুস্থ থাকতে সাহায্য করবে। নিয়মিত শ্যাম্পু করতেও ভুলবেন না। তবে চুল খুব বেশি ঘষাঘষি না করাই ভালো।

খাওয়াদাওয়া: মৌসুমি ফল, শাক-সবজি খাওয়ার উপর জোর দিন। বাজারে এই সময়ে তাজা আপেল-ন্যাশপাতি মিলছে। তা অতি অবশ্যই খান। খেতে হবে লেবু, আমলকীর মতো টক ফলও। ভিটামিন সি যেন প্রতিদিনের খাদ্যতালিকায় থাকে, সে বিষয়টি সুনিশ্চিত করুন। প্রতিদিনের খাদ্যতালিকার মাধ্যমেই ভিটামিন, মিনারেল, অ্যান্টিঅক্সিড্যান্টস প্রবেশ করে আপনার শরীরে, আপনি ভিতর থেকে শক্তপোক্ত হয়ে ওঠেন।

আদা-কাঁচা হলুদ-গোলমরিচের অনুপান: আপনার রোজের চায়ে আদা যোগ করতে পারেন। সেই সঙ্গে আদা, কাঁচা হলুদ আর গোলমরিচ বেশ করে ফুটিয়ে ছেঁকে নিয়ে গরম থাকতে থাকতে চায়ের মতো পান করুন দিনে দু’বার। এর মধ্যে অর্ধেকটা লেবুর রস মিশিয়ে দিতে পারলে আরও ভালো হয়।

চা: সাদা, কালো, সবুজ – সব ধরনের চায়েই কেটচিন নামের একটি অ্যান্টিঅক্সিড্যান্ট থাকে তা ঠান্ডা লাগার হাত থেকে আপনাকে বাঁচাতে সক্ষম। তবে চিনি, দুধ দিয়ে কড়া করে ফোটানো চায়ে আপনি সেই সুবিধে পাবেন না। ক্যামোমাইল বা জেসমিনের মতো ফ্লেভার দেওয়া চা-ও পান করতে পারেন।

দুধ: হ্যাঁ, আমাদের ইমিউন সিস্টেমকে আরও শক্তিশালী করে তোলে দুধ। তাই অল্প হলুদ বা দারচিনি মেশানো দুধ রাখুন রোজের খাদ্যতালিকায়। দুধের ভিটামিন ডির প্রভাবে সুস্থ থাকবেন ঋতু পরিবর্তনের সময়েও।

মাছ-মাংস: সামুদ্রিক মাছের ওমেগা থ্রি ফ্যাটি অ্যাসিড শরীরের যে কোনও প্রদাহকেই নিয়ন্ত্রণ করতে পারে। তাই অতি অবশ্যই মাছ, কাঁকড়া, চিংড়ি ইত্যাদি খান। খেতে পারেন মুরগি বা টার্কির মতো সাদা মাংসও।

ডার্ক চকোলেট: খাঁটি কোকোর পলিফেনল বাড়ায় আপনার ইমিউনিটি বা রোগ প্রতিরোধ ক্ষমতা। তবে একগাদা চিনি মেশানো চকোলেটে কিন্তু এই গুণগুলি মিলবে না মোটেই।

সবুজ শাকসবজি: বাজারে যে সব শাকসবজি মেলে, সেগুলি রাখুন রোজের খাদ্যতালিকায়। ক্যাপসিকাম, বাঁধাকপিও খুব ভালো। তবে শাকসবজি সব সময়েই খুব ভালো করে ধুয়ে নিয়ে তবে খাওয়া উচিত।

মন্তব্য লিখুন (ফেসবুকে লগ-ইন থাকতে হবে)

মন্তব্য