সিরিয়ার উত্তরের কুর্দি অধ্যুষিত অঞ্চলে তুরস্কের অভিযানে এক লাখেরও বেশি মানুষ ঘরবাড়ি ছেড়ে পালিয়েছে। শুক্রবার (১১ অক্টোবর) জাতিসংঘের এক প্রতিবেদন থেকে এই তথ্য জানা গেছে। বুধবার অভিযান শুরুর পর এই মানুষেরা পালিয়েছে। ওই সংস্থাকে উদ্ধৃত করে ব্রিটিশ সংবাদমাধ্যম বিবিসি’র প্রতিবেদনে বলা হয়েছে, সামরিক অভিযানের কারণে তাল তামের শহর ও হাসাকেহ নগরীর বিভিন্ন স্থাপনা ও বিদ্যালয়ে অনেক মানুষ আশ্রয় নিয়েছে।

৭ অক্টোবর সিরিয়ায় আইএসবিরোধী অভিযান চালানোর ঘোষণা দেয় তুরস্ক। পরে ৯ অক্টোবরর সিরিয়ার উত্তরাঞ্চলে ‘পিস স্প্রিং অপারেশন’ শুরু করে আঙ্কারা। অভিযানের অংশ হিসেবে তুরস্ক সমর্থিত সিরিয়ান ন্যাশনাল আর্মি ইউফ্রেতাসের পূর্ব দিকে প্রবেশ করে। তুর্কি অভিযানে সহযোগিতার জন্য তারা অগ্রসর হচ্ছে। পরে কুর্দি নিয়ন্ত্রিত সিরিয়ার উত্তরাঞ্চলীয় অভিযানে বিমান হামলা ও স্থল অভিযান জোরালো করে তুরস্ক। এতে তিন শতাধিক ‘জঙ্গি’ নিহত হয়েছে বলে দাবি করেছে আঙ্কারা। মানবাধিকার সংগঠনগুলো জানিয়েছে, এ অভিযানে ১১ বেসামরিক ব্যক্তি নিহত হয়েছে। এ সংখ্যা আরও বাড়তে পারে বলে আশঙ্কা তাদের। দেশটির সেনাবাহিনী জানিয়েছে, এতে এক তুর্কি সেনা নিহত হয়েছে। সেনারা বেশ কিছু লক্ষ্যবস্তু দখল করেছে। এছাড়া সীমান্তের কেন্দ্রীয় অঞ্চলে তুমুল লড়াই চলছে।

সিরিয়ায় শরণার্থী সংকট ক্রমেই তীব্র হচ্ছে। জাতিসংঘের মানবাধিকার বিষয়ক সমন্বয় কার্যালয় (ওসিএইচএ) জানিয়েছে, তুরস্কের অভিযানের ফলে সেখান থেকে লক্ষাধিক বেসামরিক মানুষ ঘরবাড়ি ছেড়ে পালিয়ে যেতে বাধ্য হয়েছে। তবে সহায়তাকারী সংস্থাগুলো বলেছে, এ সংখ্যা সাড়ে চার লাখের অধিক হবে। এদের অধিকাংশই তাল আবিয়াদ থেকে পালিয়েছে। যারা এখন মৃত্যু ভয়ে পালিয়ে বেড়াচ্ছে।

ওসিএইচএ’র প্রতিবেদনে বলা হয়েছে, তুরস্কের বোমা হামলায় পানি স্টেশনের মতো অন্যান্য সেবামূলক বেসামরিক স্থাপনাগুলো ক্ষতিগ্রস্ত হয়েছে। হাসাকেহ এলাকায় খাবার পানির সংকটে রয়েছে হাজার হাজার মানুষ।

বিশ্লেষকরা বলেছেন, যুক্তরাষ্ট্র ওই এলাকা থেকে সেনা প্রত্যাহারের মাধ্যমে তুরস্ককে সেখানে সামরিক অভিযানের সবুজ সংকেত দিয়েছে। ওই সেনা প্রত্যাহারের ঘোষণায় প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্পের সমালোচনা করেছেন যুক্তরাষ্ট্রের আইনপ্রণেতারা। তারা বলেছেন, প্রেসিডেন্টের ওই সিদ্ধান্তের মাধ্যমে সেখানে যুক্তরাষ্ট্রের মিত্র কুর্দিসদের ওপর হামলা করতে তুরস্ককে সুযোগ দেওয়া হয়েছে। যারা মধ্যপ্রাচ্যে আইএসের বিরুদ্ধে লড়াইয়ে ওয়াশিংটনকে সহায়তা করছে।

সেখানে ২০১১ সালে গৃহযুদ্ধ শুরু হওয়ার পর অধিকাংশ এলাকার নিয়ন্ত্রণ হারায় সিরিয়া সরকার। পরে ২০১৫ সাল থেকে ওই এলাকাগুলো নিয়ন্ত্রণ করে কুর্দি নেতৃত্বাধীন সিরিয়ান ডেমোক্র্যাটিক ফোর্সেস (এসডিএফ)।

শুক্রবার তুরস্কের প্রেসিডেন্ট রিসেপ তাইয়েপ এরদোয়ান বলেন, ‘যে যাই বলুক না কেন, আমরা কোনও অবস্থাতে এটা (সামরিক অভিযান) বন্ধ করবো না।’

মন্তব্য লিখুন (ফেসবুকে লগ-ইন থাকতে হবে)

মন্তব্য