নীলফামারী চেক বিতরণ অনুষ্ঠানে সংস্কৃতিমন্ত্রী আসাদুজ্জামান নূর এমপি বলেছেন, “জামায়াত-শিবির বাংলাদেশের সকল সুযোগ-সুবিধা ভোগ করে কিন্তু বাংলাদেশের অস্তিত্বকে বিশ্বাস করে না। এমনকি তারা বাংলাদেশী পরিচয় বহন করে অথচ আজো জামায়াত-শিবিরের কোনো নেতাকর্মী বাংলাদেশের জাতীয় সঙ্গীত গায় না।”
গতকাল শনিবার দুপুরে জেলা প্রশাসককের সম্মেলন কক্ষে নীলফামারীর বিভিন্ন এলাকায় জামায়াত-শিবিরের সহিংসতায় ক্ষতিগ্রস্ত পরিবারের মাঝে প্রধানমন্ত্রীর ত্রাণ ও কল্যাণ তহবিল থেকে পাওয়া চেক বিতরণ অনুষ্ঠানে তিনি এ কথা বলেন।
এ সময় জেলা প্রশাসক মো. জাকীর হোসেন, পৌর মেয়র দেওয়ান কামাল আহমেদ, অতিরিক্ত জেলা প্রশাসক (সার্বিক) এস এ এম রফিকুন্নবী, সদর উপজেলা পরিষদের চেয়ারম্যান বক্তব্য দেন।
মন্ত্রী বলেন, “আওয়ামী লীগ সরকার সবসময় দেশের মানুষের সুখে-দুঃখে পাশে থাকেন। আমাদের প্রধানমন্ত্রী জননেত্রী শেখ হাসিনা অক্লান্ত পরিশ্রম করে যাচ্ছেন দেশের জনগণসহ দেশের জন্য। আর এই উন্নয়নের ধারাকে ব্যাহত করতে জামায়াত-বিএনপির ষড়যন্ত্র অব্যাহত রয়েছে। তাদের এই সকল ষড়যন্ত্রকে প্রতিহত করতে আমাদের সকলকে সজাগ থাকতে হবে।”
যুদ্ধাপরাধীদের রায় প্রসঙ্গে নূর বলেন, “ইতোমধ্যেই বেশ কিছু যদ্ধাপরাধীর রায় কার্যকর হয়েছে। আরো কয়েকজনের রায় কার্যকর হবে। এদের মধ্যে জামায়াতের নায়েবে আমির দেলাওয়ার হোসাইন সাঈদীর বিচারের রায় যেকোনো দিন ঘোষণা করবেন আদালত। আর সেই দিন ওই যুদ্ধাপারধী জামায়াত-শিবির দেশে পুনরায় নৈরাজ্য সৃষ্টি করবে।” প্রধানমন্ত্রীর ত্রাণ ও কল্যাণ তহবিল থেকে ১৮৭ জন ক্ষতিগ্রস্তকে ৫৮ লাখ ৯৭ হাজার টাকার চেক বিতরণ করা হয়।
গত বছরের ১২ ডিসেম্বরে জামায়াত নেতা কাদের মোল্লার রায় কার্যকর হওয়ার পর জামায়াত শিবির নীলফামারীর টুপামারী, লক্ষ্মীচাপ, কচুকাটা, পঞ্চপুকুরসহ বিভিন্ন ইউনিয়নে সহিংসতা চালায়। এছাড়া ১৪ ডিসেম্বর রামগঞ্জে সংস্কৃতিমন্ত্রী আসাদুজ্জামান নুরের গাড়িবহরে হামলার ঘটনাকে কেন্দ্র করে সৃষ্ট সংঘর্ষে আওয়ামী লীগের চার নেতা কর্মীসহ পাঁচজন নিহত হন।
এর আগে সকাল সাড়ে ১১টার দিকে নিজ বাড়িতে মন্ত্রী তার ব্যক্তিগত তহবিল থেকে নীলফামারী সদর উপজেলার বিভিন্ন ইউনিয়ন ও পৌরসভায় হতোদরিদ্র ও অসহায় ১০টি পরিবারকে একটি করে ঘর বিতরণ করেন।
এ সময় জেলা আওয়ামী লীগের সভাপতি দেওয়ান কামাল আহমেদ, জেলা কৃষক লীগের সভাপতি ও জেলা জজ আদালতের পিপি এডভোকেট অক্ষয় কুমার রায়, পৌর আওয়ামী লীগের সভাপতি মশফিকুল ইসলাম রিন্টু ও মন্ত্রী আসাদুজ্জান নূরের ব্যক্তিগত সহকারী তরিকুল ইসলাম উপস্থিত ছিলেন।

মন্তব্য লিখুন (ফেসবুকে লগ-ইন থাকতে হবে)

মন্তব্য