Dinajpur-Foridpur School-01 (1)শাহ্ আলম শাহী,দিনাজপুর থেকেঃ ব্যাপক অনিয়ম,দূর্নীতি আর স্বেচ্চাচারিতার রাহু গ্রাসে বিনষ্ট হতে চলেছে প্রাথমিক ও গণশিক্ষা মন্ত্রীর নির্বাচনী এলাকা দিনাজপুরের পার্বতীপুর উপজেলার ঐতিহ্যবাহী ফরিদপুর এসএম দ্বি-মূখী উচ্চ বিদ্যালয়।এর প্রতিবাদে বিদ্যালয়ের সম্মুখে মানববন্ধন ও বিক্ষোভ প্রদর্শন অব্যাহত রেখেছে শিক্ষার্থী,অভিভাবক ও এলাকার সচেতন মনুষ। এসব অনিয়ম ও দুর্নীতি বন্ধে সংশ্লিষ্ট মন্ত্রনালয় ও স্থানীয় মন্ত্রীর কাছে অভিযোগপত্র দিয়েছে অভিভাবক ও স্থানীয় এলালাকাবাসী। এ নিয়ে দু’টি পক্ষের মাঝে বিরাজ করছে চরম উত্তেজনা। যে কোন মূহুর্তে ঘটতে পারে রক্তক্ষয়ী ঘটনা-এমতি মন্তব্য সচেতন মানুষের।

শিক্ষার্থীদের পড়া-লেখার শেখানোর কোন তাগিদ নেই বিদ্যালয় কর্তৃপক্ষের।ব্যাপক অনিয়ম,দূর্নীতি আর স্বেচ্চাচারিতার রাহু গ্রাসে বিনষ্ট হতে চলেছে দিনাজপুরের পার্বতীপুর উপজেলার ঐতিহ্যবাহী ফরিদপুর এসএম দ্বি-মূখী উচ্চ বিদ্যালয়টি। স্কুল কমিটি’র সচেতন সসদ্য, কর্মচারী, অভিভাবক ও এলাকারবাসীর  অভিযোগ  ব্যাপক অনিয়ম,দূর্নীতি আর স্বেচ্চাচারিতার রাহু গ্রাসে বিনষ্ট হতে চলেছে  এ বিদ্যালয়টি। এ জন্য তারা বিদ্যালয় সম্মুখে মানববন্ধন ও বিক্ষোভ প্রদর্শন অব্যাহত রেখেছে।

১৯৬১ স্থাপিত এ ভাদুয়ারী দ্বি-মূখী উচ্চ বিদ্যালয়টি এখন তার ঐতিহ্য হারাতে বসেছে। অনিয়ম ও দুর্নীতির পাশাপাশি বিদ্যালয় কর্তৃৃপক্ষের খামখেয়ালীপনায় শিক্ষার্থীদের অবিষ্যত বিনষ্ট হতে চলেছে ।খেলা ধুলার কোন ব্যবস্থা নেই। এমনটি জাতীয় কোন দিবসেই পালন হয়না বিদ্যালয়ে। এ কারণে অনেক শিক্ষার্থী অন্যত্র চলে যাচ্ছে। এমন অভিযোগ শিক্ষার্থীদের।

অভিভাবকদের অভিযোগ,মেধা বিবেচনা নয়,টাকার বিনিময়ে শিক্ষার্থীদের বৃত্তি পরীক্ষায় অংশ গ্রহণের সুযোগ দেয়া হচ্ছে। সেই সাথে বিদ্যালয়ে পরীক্ষার সময় অবাধে চলছে নকল।বিদ্যালয়ের উন্নয়নের জন্যে সরকারী বরাদ্দ ও সংসদ সদস্য কাছ থেকে প্রাপ্ত অর্থ কোন কাজে না লাগিয়ে তা আত্মসাৎ করছে বিদ্যালয় কর্তৃপক্ষ। এমন অভিযোগ খোদ বিদ্যালয়ের সাবেক অফিস সহকারী মোফাজ্জল হোসেনের।তার মতে. প্রধান শিক্ষকেই সব কিছু করেন। কোন হিসেব-নিকাশে মাথা ঘামাতে দেন না তিনি। ম্যানেজিং কমিটির কয়েকজন সদস্যের অভিযোগ,নিজেদের খেয়াল-খুশি মত মোটা অংকের অর্থের বিনিময়ে কমিটির সভাপতি ও প্রধান শিক্ষক  স্কুলে শিক্ষক ও কর্মচারী নিয়োগ করছে।

বিদ্যালয়ের প্রধান শিক্ষক মকবুল হোসেন ও ম্যানেজিং কমিটির সভাপতি সৈয়দ আলীর সাড়ে ২৩ লাখ টাকা আতœসাতের অভিযোগ এনে বিদ্যালয়ের ২০ জন অভিভাবক বৃন্দগত ১০র্মাচ সংশিষ্ট দপ্তরে লিখিত অভিযোগ করেছেন।বর্তমানে স্কুলে ২টি শুন্য পদে সহকারী শিক্ষক(গনিত) ও আফিস সহকারী নিয়োগে চলছে ব্যাপক অনিয়ম। সভাপতি, প্রধান শিক্ষক ও ম্যানেজিং কমিটি ইতোমধ্যে কয়েক জনের কাছ থেকে মোট অংকের উৎকোচ গ্রহন করেছেন।  গত ১২ জানুয়ারী’১৪ আফিস সহকারী পদের জন্য ১৪ জন এবং সহকারী শিক্ষক গনিত পদের জন্য ১২জন প্রার্থী আবেদন করেন। গত ২৭ এপ্রিল দিনাজপুর জিলা স্কুলে প্রার্থীদের নিয়োগের জন্য লিখিত  ও মৌখিক পরীক্ষা গ্রহনের জন্য প্রবেশ পত্র দিলেও সে প্রবেশ পত্রে প্রধান শিক্ষকের কোন স্বাক্ষর নেই। , স্কুল কমিটি’র সদস্য বাবু সাহা জানান,পরীক্ষার আগেই মৌখিকভাবে নিয়োগ দিয়েছেন প্রধান শিক্ষক ও কমিটির সভাপতি।

স্কুলে আয়া পদে যে মহিলা কর্মরত রয়েছেন তার নাম রোস্তমা পিতা ওসমান আলী ৮ নং ঢাকুলা মরনাই হাবড়া। সে দীর্ঘদিন থেকে মর্জিনা নামে চাকুরি করে বেতন তুলে আসছে। এ দিকে মর্জিনা পিতা সফি উদ্দিন পার্বতীপুর উপজেলার ৫ নং চন্ডিপুর ইউপির দলবাড়ীপাড়ায় মানবেতর জীবন যাপন করছে।

এসব অভিযোগ অস্বীকার করলেন,ম্যানেজিং কমিটি’র সভাপতি। তিনি বলেন, আমি যা করছি,সব মন্ত্রীর নির্দেশে। মন্ত্রী ( প্রাথমিক ও গণশিক্ষা মন্ত্রী ্এ্যাড. মোতাফিজুর রহমান ফিজার এমপি) যা বলেন,আমি তা করি।

এ ব্যাপারে  প্রাথমিক ও গণশিক্ষা মন্ত্রী ্এ্যাড. মোতাফিজুর রহমান ফিজার এমপি’র সাথে যোগাযোগ করা হলেও তাকে পাওয়া যায়নি। তবে নাম প্রকাশে অনিচ্ছুক মন্ত্রীর এক ঘনিষ্ঠজন জানান, স্কুলের সভাপতি (সৈয়দ) একজন টাউট প্রকৃতির মানুষ। নাম ভাঙ্গিয়ে  চলেন তিনি। তার কথা সত্য নয়।

খোজ নিয়ে  জানা গেছে, স্কুল কমিটির সভাপতি সৈয়দ আলী স্কুলের সভাপতি হওয়ার পর আলাদীনের চেরাগ হাতে পেয়েছেন। কয়েক দিনের ব্যবধানে নির্মাণ করেছেন,আলীশান বাড়ী। ক্রয় করেছেন, অসংখ্য জায়গা জমি।

চাকুরী হারানোর ভয়ে প্রধান শিক্ষক মকবুল হোসেন স্কুল ম্যানেজিং কমিটি সভাপতির সব অবৈধ কাজে সায় দিচ্ছেন। ভীতস্ত্র থাকছেন সব সময়। তবে তার বিরুদ্ধে উপস্থাপিত সব অভিযোগ  অস্বীকার করছেন তিনি। তবে তিনি বলেন, আমি জানিনা। জানে সব সভাপতি।

ঐতিহ্যবাহী ফরিদপুর এসএম দ্বি-মূখী উচ্চ বিদ্যালয়টি টিকিয়ে রাখতে এ বিয়য়ে সংশ্লিষ্ট মন্ত্রনালয় ও স্থানীয় প্রাথমিক ও গণশিক্ষা মন্ত্রীর হস্তক্ষেপ কামনা করেছেন শিক্ষার্থী-অভিভাবক ও এলাকার সচেতন মানুষ।

মন্তব্য লিখুন (ফেসবুকে লগ-ইন থাকতে হবে)

মন্তব্য