pic-1মিজান, দিনাজপুরঃ একজন বৃক্ষ প্রেমিক এর নাম আবুল কাশেম। যার নিজ হাতে উৎপাদিত প্রায় ১ কোটি চারা রোপিত হয়েছে বৃহত্তর দিনাজপুরের বিভিন্ন অঞ্চলে। ছোট কাল থেকেই আবুল কাশেম একজন প্রকৃতি প্রেমিক। সবুজের সমারোহ আর বৃক্ষের বনায়ন তাকে আকৃষ্ট করে। তাই এই অঞ্চলে বৃক্ষ রোপনের সবুজ বিপ্লব ঘটাতে তিনি বোচাগঞ্জ উপজেলার ১ নং নাফানগর ইউপির সুলতানপুর বাজার সংলগ্ন রাস্তার পাশে ১৯৯৭ সালে ১ বিঘা জমির উপর আবুল কাশেম প্রতিষ্ঠা করেন কাশেম  নার্সারী। প্রতিষ্ঠার প্রথম বছরে ব্যাপক সাড়া পেয়ে তিনি নার্সারীর আয়োতন বাড়িয়ে ৩ একর করেন।২০০৪ সালে এর আয়োতন  ১০একর।বর্তমানে নার্সারীটি সেনেহারী গ্রামে ২টি সুসজ্জিত উৎপাদন কেন্দ্র,বড় সুলতানপুর এলাকায় পাকা সড়ক সংলগ্ন দৃষ্টি ন্দন সাজে প্রজাতি ভেদে আলাদা আলাদা বেডে একটি বিক্রয় কেন্দ্র ছাড়াও ৬ নং রনগাঁও ইউপির ভান্ডারখন্ড গ্রামে আরো একটি উৎপাদন কেন্দ্র ছাড়াও বিভিন্ন প্রজাতির মাদার প্লান্ট নিয়ে বর্তমানে এর আয়োতন ১৫ একর।

কাশেম নার্সারীর প্রধান বৈশিষ্ট হলো নার্সারীতে সাধারন গাছের পাশাপাশি বিভিন্ন দুর্লভ গাছের চারা সংগ্রহ করে এবং নিজস্ব মাতৃ গাছের বাগান থেকে উৎপন্ন শতভাগ বিশুন্ধ,গুনগত মান সম্পন্ন চারা উৎপাদন করা। ফলে জাতের বিশুদ্ধতা  চারার সঠিক বৃদ্ধি মাটিতে রোপনের পরে মৃত্যুরহার কম হওয়ায় নার্সারীটি অত্র বোচাগঞ্জ সহ পীরগঞ্জ, রানীসংকৈল, হরিপুর, নেকমরদ, জাদুরানী, বালিয়াডাঙ্গী, শিবগঞ্জ, ঠাকুরগাঁও.বিরল, কাহারোল, বীরগঞ্জ, দিনাজপুর সহ বিভিন্ন এলাকার মানুষের কাছে জনপ্রিয়তা অর্জন করেছে।উল্লেখিত এলাকাগুলোতে “কাশেম নার্সারীর” চারা দিয়ে বিভিন্ন ফলদ,বনজ ও ঔষধী গাছের শত শত পরিকল্পিত বাগান গড়ে উঠেছে।  এই কাশেম নার্সারীর সফলতা দেখে পাশাপাশি আরো অনেক বেকার যুবক নার্সারী করতে আগ্রহী হয়ে উঠে। ঐ সুলতান পুর এলাকায় গড়ে উঠে আরো বেশ কয়টি ছোট বড় নার্সারী।

ঐ কাশেম নার্সারীতে এখন ৪ টি অঙ্গনে কর্মরত শ্রমিকের সংখ্যা ৩৬ জন এরা সকলে এই নার্সারীতে কর্ম করে পরিবারের ভোরন পোষন করে যাচ্ছে। এ ক্ষেত্রে কাশেম নার্সারী বেকারত্ব মোচনে ব্যাপক সফলতা অর্জন করে চলছে।এ ছাড়া গাছের চারা উৎপাদন মৌসুমে প্রতিদিন প্রায় ৪০ জন শ্রমিক দিন হাজিরা হিসাবে কাজ করে থাকেন এ কাজ চলে প্রায় ২ মাস।বোচাগঞ্জ এলাকায় অনেক দুর্লভ প্রজাতির গাছ রোপনে ও তৈরীতে কাশেম নার্সারী ব্যাপক ভুমিকা পালন করে চলছে। পাম,ষ্টবেরী,বিলুপ্ত প্রায় পেরাল,এই এলাকায় নতুন গাছ হিসাবে যাত্রা শুরু করে কাশেম নার্সারীর মাধ্যমে।প্রতি বছর কোন না কোন জাতের নতুন গাছের চারা এই নার্সারীর মাধ্যমে এই এলাকার মানুষের মাঝে ছড়িয়ে দেয় কাশেম নার্সারী। শুধু চারা উৎপাদন করে অর্থ আয় করা এই নার্সারীর প্রধান লক্ষ্য নয় বলে জানালেন নার্সারীর মালিক আবুল কাশেম ।

প্রতি বছর গড়ে ফলদ,বনজ,্ ফুল ও ঔষধী সহ প্রায় ৫ লক্ষ চারা উৎপাদন করে থাকেন এই কাশেম নার্সারী যার শতকরা ৮০ভাগ বিক্রয় হয়ে যায়।আবুল কাশেমের নেশা দেশের বিভিন্ন এলাকায় আবিস্কৃত ও নতুন প্রজাতির মাতৃ গাছ সংগ্রহ করে তা থেকে নতুন চারা উৎপাদন করে এলাকায় বিস্তার ঘটানো। তিনি ব্যক্তিগত উদ্দেগে বিভিন্ন রাস্তার পাশে গোর স্থানে ঈদগাঁও ময়দান সহ বিভিন্ন স্থানে চারা রোপন করে থাকেন। প্রতিষ্ঠার পর থেকে বিভিন্ন প্রজাতির ফলদ যেমন প্রায় ৩০ জাতের আম ও বিভিন জাতের লিচু  কুল, লেবু, পেয়ারা, কাঠাল,জাম, সফেদা, নারিকেল, সুপারী, আমড়া, ডালিম, কমলা, তেজপাতা, জলপাই, কামরাঙ্গা, লটকন, চালতা, জামরুল, পেরাল, বেল, আঙ্গুর, ষ্টবেরী, জাম্বুরা, প্রভৃতি বনজ মেহগনি, আকাশমনি, ঘোড়ানিম, লম্বু, ইউক্যালিপিটাস, প্রভৃতি ঔষধির মধ্যে-জাতনিম,অর্জুন,আমলকি,হরতকি,বহেড়া,প্রভৃতি শোভা বর্ধন কারী ও ফুলের মধ্যে-গোলাপ,থুজা,সাইকাস,পাইন,দেবদারু,রঙ্গন,বকুল,জবা,অরকোরিয়া,পাতা বাহার ,ক্যাকটাস,দোলন চাপা ,কামিনী,পলাশ,জারুল,সহ অসংখ্য ফুলের সমারোহ এই কাশেম নার্সারীতে।

শুধু তাই নয় দেশের বিভিন্ন অঞ্চল থেকে মাদার প্লান্ট সংগ্রহ করে এই এলাকায় কলমের মাধ্যমে ঐ সব দৃর্লভ গাছের চারা আবা দে   আগ্রহী মানুষের হাতে তুলে দিচ্ছেন এই কাশেম নার্সারী। গত ২০১৩ সালের  জুলাই মাসে বোচাগঞ্জ অঞ্চলে আকস্মিক ভারতীয় ঢলের পানিতে নিম্মাঞ্চল প্লাবিত হলে কাশেম নার্সারীর প্রায় ৫৫ হাজার  বিভিন্ন গাছের চারা মারা যায়। প্রাকৃতিক এই বিপর্যয় দমাতে পারেনি কাশেম নার্সারীর কার্যক্রম নব উদ্দেগে তারা আবারো নতুন করে শুরু করে চারা উৎপাদন । প্রতিষ্ঠার পর থেকে অদ্যবধি প্রায় এক কোটি বিভিন্ন প্রজাতির চারা উৎপাদন করেছে এই কাশেম নার্সারী, উৎপাদিত চারা সমুহ সব চারা বিভিন্ন প্রতিষ্ঠান ও ব্যাক্তি উদ্দেগে রোপিত হয়েছে। এই এক কোটি চারা রোপনের মধ্যে দিয়ে এই অঞ্চলে বৃক্ষ রোপনে ও সামাজিক বনায়নে ব্যাপক সফলতা লাভ করেছে।  এত সফলতার পরেও আবুল কাশেম পাননি কোন সম্মাননা জোটেনি কোন স্বীকৃতি,পাননি কোন পুরস্কার। তাতেও কোন আক্ষেপ নেই বলে জানালেন আবুল কাশেম, পঞ্চাশোর্ধ বয়সের অসীম প্রান শক্তির অধিকারী  এই আবুল কাশেম ও তার প্রতিষ্ঠান কাশেম নার্সারী দৃঢ় প্রত্যয়ে কাজ করে চলছেন দেশ ও মানুষের কল্যানে।

মন্তব্য লিখুন (ফেসবুকে লগ-ইন থাকতে হবে)

মন্তব্য