আজ ২৭ এপ্রিল। ১৯৭১ এর এই দিনে পাক হানাদার বাহিনী ও তাদের দোসর রাজাকাররা হিন্দু সম্প্রদায়ের প্রায় চারশ’ মানুষকে নির্বিচারে ব্রাশ ফায়ার করে। এসব মৃত অর্ধমৃত মানুষকে একটি গর্তে দেয়া হয় মাটি চাপা। তাদের স্মরনে নির্মিত স্মৃতি সৌধ অবজ্ঞা-অবহেলায় অনেকটাই ম্লান হয়ে গেছে। আর স্মৃতি ফলকে খোদাই করা নামগুলোর বেশিরভাগই আজ অস্পষ্ট।

নীলফামারীর জলঢাকা উপজেলা সদর থেকে ৮ কিলোমিটার পশ্চিমে একটি ছোট বাজার কালিগজ্ঞ। যা বর্তমানে বঙ্গবন্ধু বাজার নামে পরিচিত। ৭১ এর এই দিনে নিরাপদ আশ্রয়গামী প্রায় চাঁরশ’ হিন্দু সম্প্রদায়ের মানুষ ভারতে যাওয়ার উদ্দেশ্যে সমবেত হয় কালিগজ্ঞে। এ সময় স্থানীয় রাজাকারদের মাধ্যমে সংবাদ পেয়ে পাক হানাদার বাহিনীর চাঁরটি কনভয়ে এসে নামে সেনা সদস্যরা। তাদের সঙ্গে যোগ দেয় রাজাকাররা। ভারতগামী সমবেত মানুষজন কোন কিছু বুঝে ওঠার আগেই তাদের উপর নির্বিচারে চালানো হয় ব্রাস ফায়ার। এতে অনেকেই মারা যায়। অনেকেই থাকে অর্দ্ধ মৃত। এ অবস্থায় তাদেরকে দেয়া হয় মাটি চাপা।

জলঢাকা উপজেলার কালিগঞ্জের মুক্তিযোদ্ধা আব্দুস সাত্তার বলেছেন, শহীদদের স্মরনে নির্মিত নাম ফলক দীর্ঘদিন থেকে সংস্কার না করায় অনেকটাই মুছে গেছে। অযতœ অবহেলায় শহীদ মিনারটি অনেকটাই নষ্ট প্রায়। আগামী প্রজন্মের কাছে কালিগঞ্জের পাক হানাদার ও রাজাকারদের হত্যাযজ্ঞের ইতিহাস তুলে ধরতে এর সংস্কারের বিকল্প নেই। এই বদ্ধভুমিটি আধুনিকায়ন করা না হলে এর প্রকৃত ইতিহাস আগামী প্রজন্মের কাছে অজানাই থেকে যাবে।

পাক হানাদার বাহিনীর ব্রাস ফায়ারে শহীদ অশ্বিনী কুমার অধিকারীর ছেলে গুলি খেয়েও বেঁচে যাওয়া অমর চন্দ্র অধিকারী (৫৮) জানিয়েছেন, ওই দিন পাক হায়েনা ও রাজাকারদের ব্রাস ফায়ারে শহীদ প্রায় চাঁরশ’ জনের মধ্যে তাদের পরিবাররই ১৩জন শহীদ হয়েছেন। কালিগঞ্জ বদ্ধভুমিতে যেনতেনভাবে নির্মিত স্মৃতি ফলকে খোদাই করা শহীদদের নাম প্রায় মুছে গেছে। শহীদ মিনারটিও নষ্ট প্রায়। স্বাধীনতার ৪৩ বছরেও কালিগঞ্জ বদ্ধভুমিকে আধুনিকায়ন করা হয় নাই। একদিন মানুষ ভুলেই যাবে কালিগঞ্জে পাক হানাদাররা চাঁরশ’ মানুষকে নির্বিচারে হত্যা করেছে।

বাংলাদেশ মুক্তিযোদ্ধা সংসদ নীলফামারী জেলা ইউনিটের কমান্ডার জয়নাল আবেদীন বলেছেন, আগামী প্রজন্মের কাছে কালিগঞ্জে পাক হায়েনা ও তাদের দোসরদের হত্যাযঞ্জের সঠিক ইতিহাস তুলে ধরতে কালিগঞ্জ বদ্ধভুমি সংস্কারের বিকল্প নেই। পাশাপাশি শহীদ পরিবারগুলোকে সরকারীভাবে স্বীকৃতি দিয়ে তাদের পুনর্বাসন করা উচিত।

মন্তব্য লিখুন (ফেসবুকে লগ-ইন থাকতে হবে)

মন্তব্য