aborodদিনাজপুর শহরের মুন্সিপাড়াস্থ লুৎফুন নেছা টাওয়ারের দোকান মালিকদের সাথে টাওয়ার মালিক পক্ষের অসৌজন্যমূলক আচরণ ও মার্কেটের বিদ্যুৎ সংযোগ বন্ধ করে দেয়ার প্রতিবাদে দোকান মালিক ব্যবসায়ী সমিতি দোকান বন্ধ করে টাওয়ারের সামনের রাস্তা অবরোধ করে বিক্ষোভ করেছে। এ সময় ওই এলাকায় ব্যাপক যানজটের সৃষ্টি হয় ও দুর্ভোগে পড়েন সাধারণ মানুষ। খবর পেয়ে পুলিশ ঘটনাস্থলে পৌঁছে মালিক পক্ষের সাথে কথা বলে পুনরায় বিদ্যুৎ সংযোগ দিলে ব্যবসায়ীরা অবরোধ তুলে নেয় এবং পরিস্থিতি নিয়ন্ত্রণে স্বাভাবিক হয়।

টাওয়ার দোকান মালিক ব্যবসায়ী সমিতির পক্ষে টাওয়ার মালিকের বিরুদ্ধে তোকয়ালী থানায় দায়ের করা অভিযোগ সূত্রে জানা গেছে, মুন্সিপাড়াস্থ লুৎফুন নেছা টাওয়ার এন্ড শফিং কমপ্লেক্সের ভাড়াটিয়া দোকান মালিকরা ২০০৮ সাল হতে ব্যবসা পরিচালনা করে আসছেন। গত ২১ এপ্রিল রাত আনুমানিক সাড়ে ৯টায় দোকান মালিকরা দোকান বন্ধ করে চলে যাওয়ার পর টাওয়ার মালিক লুৎফর রহমান মিন্টু ও মার্কেটের ম্যানেজার সাজ্জাদসহ অজ্ঞাতনামা ৮/১০ জনের উশৃঙ্খল যুবক মার্কেটের তালা খুলে ভিতরে প্রবেশ করে দোকানের সামনে রাখা মূল্যবান সামগ্রী ও মার্কেটের দোকানের সামনে ঝুলানো প্রচারণা বোর্ড ও সাইনবোর্ড খুলে নিয়ে যায়।

এ সময় বাংলাদেশ মেডিকেল নামে একটি ওষুধের দোকান খোলা থাকায় ওই দোকান মালিক আব্দুল বারীকে অকথ্য ভাষায় গালিগালাজ ও অবৈধ ভাড়াটিয়া বলে হুমদি দিয়ে চলে যায়। এ ব্যাপারে পর দিন দোকান মালিক সমিতির পক্ষ থেকে কোতোয়ালি থানায় একটি সাধারণ ডায়রি করে ও জেলা প্রশাসক বরাবর একটি অভিযোগও দায়ের করে। গত ২২ এপ্রিল রাতে টাওয়ার মালিকের লোকজন মার্কেটের নিচতল ও দ্বিতীয় তলার বিদ্যুৎসংযোগ বন্ধ করে দেয়া হয়। বুধবার সকালে দোকান মালিকরা দোকান খোলে মার্কেটের বিদ্যুৎ সংযোগ বন্ধ দেখতে পেয়ে তারা সব দোকান বন্ধ করে টাওয়ারের সামনে রাস্তা অবরোধ করে বিক্ষোভ করে। খবর পেয়ে কোতোয়ালি থানা পুলিশ ঘটনাস্থলে পৌঁছে মালিক পক্ষের সাথে কথা বলে পুনরায় বিদ্যুৎসংযোগ দেয়ার  ব্যবস্থা করলে দোকান মালিকরা অবরোধ তুলে নেয় এবং দোকান খুলে দেয়ায় পরিস্থিতি স্বাভাবিক হয়।

লুৎফুন নেছা টাওয়ার এন্ড শফিং কমপ্লেক্স দোকান মালিক ব্যবসায়ী সমিতির সাধারণ সম্পাদক আসিফ তোজা ও সহ-সাধারণ সম্পাদক মোঃ সেলিম, দোকান মালিক মোঃ রুবেলসহ অন্যান্য দোকান মালিকরা জানান, লুৎফুন নেছা টাওয়ারের ভিতরে মোবাইল অপারেটর “রবি” ও “বাংলা লিংক” এর টাওয়ারের মেশিন স্থাপন করা হয়েছে। এ কারণে টাওয়ারের মেশিনের রেডিয়েশনে আক্রান্ত হয়ে গত মাস খানিক আগে “ফাষ্ট চয়েস” নামে দোকানের কর্মচারী আমিনুল ইসলাম (২৮) মারা যায় এবং পাশের “মির্জা কসমেটিক্স” দোকানের মালিক তপু মাস্টার নামে একজন গুরুতর আহত হয়ে হাসপাতালে দীর্ঘদিন চিকিৎসা নেন। পরে দোকান মালিকদের প্রতিবাদের কারণে মার্কেটের ভিতরে মোবাইল টাওয়ারের মেশিনপত্র বন্ধ রাখা হয়। দোকান মালিকরা টাওয়ারের ভিতর থেকে দ্রুত মোবাইল টাওয়ারের মেশিনপত্র সরিয়ে নেয়ার দাবি জানিয়েছেন।

মন্তব্য লিখুন (ফেসবুকে লগ-ইন থাকতে হবে)

মন্তব্য