6_FNS_M_23-04-14তিস্তা নদীর পানির ন্যায্য হিস্যা আদায়ে সরকারের ব্যর্থতার প্রতিবাদে বুধবার নীলফামারী জেলার ডিমলা উপজেলার ডালিয়া পয়েন্ট অভিমুখে লংমার্চ কর্মসূচি শেষ করছে বিএনপি। ভারতের একতরফা ভাবে পানি প্রত্যাহার ও তিস্তাসহ সব নদীর পানির ন্যায্য হিস্যার দাবিতে তিস্তা ব্যারেজ অভিমুখী বাংলাদেশ জাতীয়তাবাদি দল বিএনপি’র ঢাকা থেকে দুই দিনের তিস্তা মার্চ, বুধবার বেলা ১১ টা ৫০ মিনিটে তিস্তা ব্যারেজ সংলগ্ন দোয়ানী সাধুর বাজারে এসে পৌঁছে। এরপর সমাবেশের মাধ্যমে দুই দিনের তিস্তা মার্চ কর্মসূচি শেষ করা হয়। সমাবেশে শুধু তিস্তার পানি বন্ঠন সমস্যা নয়, ভারতের সাথে ৫৪টি অভিন্ন নদী সহ ৫৭টি আন্তর্জাতিক নদীর পানি বন্ঠনের সমন্বিত পরিকল্পনা গ্রহণ এবং অভিন্ন নদীর পানি সমন্বিত ও যৌথ  ব্যবস্থাপনা ব্যবহার উন্নয়ন ও রক্ষণাক্ষেণ এবং এ  সংক্রান্ত বিরোধ নিষ্পত্তির জন্য বাংলাদেশ, ভারত, চীন, ভুটান ও নেপাল কে নিয়ে যৌথ অববাহিকা কর্তৃপক্ষ গঠনের আহবান জানান বক্তারা। বিএনপি’র ভারপ্রাপ্ত মহাসচিব মির্জা ফখরুল ইসলাম আলমগীর জনগণের চাওয়া ও আমাদের নায্য পাওনা আদায়ের লক্ষে জোড়ালো কন্ঠে তিস্তাসহ ৫৪ টি আন্তর্জাতিক নদীর পানির নায্য হিস্যার দাবি তুলেছেন। তিনি বলেন, আমরা তিস্তাসহ ৫৪ টি আন্তর্জাতিক নদীর পানির নায্য হিস্যা চাই। এসব নদীর পানি পাওয়া কারো দয়া নয় আমাদের অধিকার। ভারত জোরপূর্বক আমাদের সেই অধিকার থেকে বঞ্চিত করছে। তিস্তা অববাহিকায় পাশের দেশের বাঁধ নির্মাণের ফলে উত্তরাঞ্চলের ৮ টি জেলার প্রায় ৩ কোটি মানুষের জীবন জীবিকা আজ অনিশ্চিত হয়ে পড়েছে। প্রমত্তা তিস্তা এখন পানির পরিবর্তে বিশাল বালু রাশিতে পরিণত হয়েছে। তিনি বলেন, গত বছরেও তিস্তায় আড়াই হাজার কিউসেক পানি ছিল কিন্তু বর্তমানে চারশ কিউসেকেরও কম পানি রয়েছে তিস্তায়। আমাদেও লংমার্চ দেখে গতকাল ভারত কিছু পানি দিয়েছে। এটিই আমাদেও লংমার্চেও প্রাথমিক সাফল্য। ফখরুল বলেন, এ নতজানু সরকারের পক্ষে বাংলাদেশের জনগণের সমস্যার সমাধান করা সম্ভব নয়। কারণ তারা জনগণের সরকার নয় জনগণ তাদের ভোট দিয়ে ক্ষমতায় আনেনি। তারা অবৈধভাবে ক্ষমতায় এসে ক্ষমতা দখল করে রেখেছে। তাই সকল সমস্যার সমাধানের একমাত্র উপায় জনগণের সরকার প্রতিষ্ঠা করা। আর সে লক্ষেই সবাই মিলে এই সরকারের বিরুদ্ধে দূর্বার আন্দেলন গড়ে তুলতে হবে। তিনি আরো বলেন, এ সরকারকে দাবি জানিয়ে কোন লাভ নেই। এরা আমাদের নায্য অধিকার আদায় করতে পারবেনা। এরা হচ্ছে ভারতের তাবেদার সরকার। তাই কোন দাবি নয় রাজপথে আন্দোলনের মধ্যদিয়ে এ সরকারের পতন ঘটিয়ে দেশের জনগণের অধিকার আদায় করতে হবে। এ কর্মসূচিতে দলের স্থায়ী কমিটির সদস্য  সহ সিনিয়র নেতারা এবং যাত্রাপথে বিভিন্ন জেলার নেতাকর্মীরা অংশ নেন। বিএনপি বলছে, এ লংমার্চ শুধু দেশ ও দেশের জনগণের জন্য। বিএনপির লংমার্চ যাতে সফল না হয় সে জন্য তারা নানা স্থানে বাঁধা দিয়েছে বলে দলটির পক্ষ থেকে অভিযোগ করা হয়েছে। তিস্তা নদীর পানিহীনতার কারণে দেশের উত্তরাঞ্চল মরুভূমিতে পরিণত হচ্ছে। লংমার্চকে দেশের জনগণের ন্যায্য দাবি আদায়ের আন্দোলন আখ্যায়িত করে দলটির স্থায়ী কমিটির সদস্য  এম কে আনোয়ার বলেন, বাংলাদেশের জনগণের ন্যায্য পানির দাবি নিয়ে বিএনপি এই লংমার্চসহ আন্দোলন করছে। সমাবেশে অন্যান্যের মধ্যে বক্তব্য রাখেন বিএনপি’র স্থায়ী কমিটির সদস্য  নজরুল ইসলাম খান, লে .জনোরেল (অব) মাহবুবুর রহমান, বিএনপি’র ভাইস চেয়ারম্যান আব্দুল আল নোমান, ড.ওসমান ফারুক, মেজর (অব) হাফিজ উদ্দিন আহম্মেদ, সেলিমা রহমান, অ্যাডভোটেকেট আম্মদ আজম খান, শামসুজ্জামান দুদু, বিএনপি’র আন্তর্জাতিক বিষয়ক সম্পাদক ড.আসাদুজ্জামান খান রিপন, যুবদল সভাপতি সৈয়দ মোয়াজ্জেম হোসেন আলাল, জাতীয়তাবাদি মহিলা দলের সভাপতি নূরে আরা সাফা, বিএপি’র শিক্ষা বিষয়ক সম্পাদক খায়রুল কবির খোকন, শিরিন সুলতানা, জাতীয়তাবাদি ওলামা দলের সভাপতি হাফেজ মাওলানা আব্দুল মালেক ও সম্পাদক মাওলানা শাহ মোঃ নেছারুল হক। এছাড়া লংমার্চে উত্তরবঙ্গের ১৬টি জেলার নেতা কর্মীসহ কেন্দ্রীয় বিএনপি, মহানগর বিএনপি ও বিএনপির সকল অঙ্গ ও সহযোগী সংগঠনের নেতা কমী উপস্থিত ছিলেন। সমাবেশে সভাপতিত্ব করেন রংপুর বিভাগীয় বিএপি’র সাংগঠনিক সম্পাদক ও লালমনিরহাট জেলা বিএনপি’র সভাপতি আসাদুল হাবিব দুলু। মঙ্গলবার সকাল ৮টায় লংমার্চটি উত্তরার আজমপুরের আমিকমপ্লেক্রের সামনে থেকে দলের ভারপ্রাপ্ত মহাসচিব মির্জা ফখরুল ইসলাম আলমগীরের নেতৃত্বে শুরু করে। লংমার্চে ৬টি পথসভা ও ২টি সমাবেশ করার সিদ্ধান্ত অনুযায়ী মঙ্গলবার গাজীপুরের কালিয়াকৈর পৌঁছে সকাল সাড়ে ৯টায় প্রথম পথসভাটি অনুষ্ঠিত হয়। এরপর টাঙ্গাইলের বাইপাস মোড়ে সাড়ে বেলা ১১টায়, সিরাজগঞ্জর কড্ডার মোড়ে দুপুর সাড়ে ১২টায়, বগুড়ার মাটিডালি মোড়ে আড়াইটায়, গাইবান্ধার গোবিন্দগঞ্জে সাড়ে তিনটায় ও পলাশবাড়িতে সাড়ে ৪টায় পথসভা অনুষ্ঠিত হয়। রাত রংপুরে যাত্রা রিরতি শেষে গতকাল বুধবার সকাল ৯টায় রংপুর পাবলিক মাঠে সমাবেশের মাধ্যমে লংমার্চ যাত্রা শুরু করে তিস্তা ব্যারাজ অভিমুখে। এরপর সকাল ১১টা ৫০ মিনিটে ডিমলা উপজেলার তিস্তা ব্যারেজের ডালিয়া পয়েন্টে পৌঁছে সমাবেশের মাধ্যমে ২ দিনের কর্মসূচি শেষ করা হয়।

মন্তব্য লিখুন (ফেসবুকে লগ-ইন থাকতে হবে)

মন্তব্য