ডাচ্ বাংলা মোবাইল ব্যাংকিং-এর ৩০২টি অফিসের মধ্যে ২৩৮টি উপজেলা অফিস চলতি এপ্রিল মাসেই বন্ধ হয়ে যাচ্ছে। ডাচ্ বাংলা ব্যাংকের একাধিক সূত্রে বিষয়টি নিশ্চিত হয়েছে বলে জানা গেছে। সেই সাথে প্রায় সহস্রাধিক কর্মকর্তা-কর্মচারী চাকরি হারানোর ভয়ে দিশাহারা হয়ে পড়েছে।  সংশ্লিষ্ট সূত্রে জানান গেছে, ডাচ্ বাংলা ব্যাকের মোবাইল ব্যাংকিং সেবাটি চালু হওয়ার পর থেকে দেশে বিদেশে এর সুনাম ছড়িয়ে পড়ে। গ্রাহকরা খুব সহজেই তাদের আর্থিক লেন-দেন করতে সক্ষম হন। যার ফলে ডাচ্ বাংলা ব্যাংক কর্তৃপক্ষ সারাদেশে ফ্লাট ভাড়ায় ৩০২টি মোবাইল ব্যাংকিং অফিস দেন। সেখানে একজন  ব্যবস্থাপক, ১জন সেলস ম্যানেজার, ১জন ফিল্ড কর্মকর্তা, ১জন জুনিয়র ফিল্ড কর্মকর্তা ও ১জন পিয়ন কাম সিকিউরিটি গার্ড সহ মোট ৫/৬জন কর্মকর্তা-কর্মচারী নিয়োগ দেয়া হয়। একারণে অতি অল্প সময়ে সারাদেশে মোবাইল ব্যাংকিংয়ে প্রায় ৪০ লাখ গ্রাহক সৃষ্টি হয়। এর মধ্যে ২৫লাখ গ্রাহক সক্রিয় হিসেবে লাখ লাখ টাকা আদান প্রদান করেন। কিন্তু ব্যাংকিং কার্যক্রমে গ্রাহকদের কিছু হয়রানির শিকার হওয়ায় গ্রাহক সৃষ্টি করতে ব্যাংকটি হিমসিমে পড়ে যায়। ফলে উপজেলা ভিত্তিক অফিসগুলোতে আয় কমে আসে। এ কারণে ব্যাংকটির ক্ষতি পুষিয়ে নিতে ব্যাংক কর্তৃপক্ষ ২৩৮টি মোবাইল ব্যাংকিং অফিস বন্ধ করার সিন্ধ্যান্ত গ্রহণ করেন। সেই সাথে কর্মকর্তা- কর্মচারী ছাটাই করারও সিন্ধ্যান্ত গৃহীত হয়। সেকারণে ওই অফিসগুলোতে ফ্লাটমালিককের চুক্তিপত্র বাতিল করার জন্য ব্যাংক  ব্যবস্থাপকের কাছে ম্যাসেজ পাঠিয়ে দেওয়া হয়। এর ফলে নিদিষ্ট সময়ের আগেই চুক্তি বাতিল হওয়ায় ফ্লাটের মালিকরা বিপাকে পড়ে যান। সেই সাথে উপজেলাভিত্তিক সুপার এজেন্টের মাধ্যমে কার্যক্রম পরিচালনা হবে বলে সংশ্লিষ্টরা জানিয়ে দেন। এমনকি আগামী মে মাসে উপজেলা অফিসগুলো বন্ধ হয়ে যাবে বলে সংশ্লিষ্ট সূত্রে জানান গেছে। খোঁজ নিয়ে জানা গেছে, এই ম্যাসেজে অফিসে পৌচ্ছার পর কর্মকর্তা-কর্মচারীদের মধ্যে চাকুরি হারানোর আতঙ্ক ছড়িয়ে পড়েছে। তাদের ভাষ্যমতে, অনেকে ভালো চাকুরি ছেড়ে দিয়ে ব্যাংকে যোগদান করেছে। আবার অনেকে অভিযোগ করেছে, এ প্রতিষ্ঠানে যোগদান করার পর অন্যান্য ব্যাংকের মতো সুযোগ-সুবিধা পাচ্ছে না। এ প্রতিষ্ঠান কর্মকর্তা-কর্মচারীদের ৮ঘণ্টার পরিবর্তে ১০/১২ ঘণ্টা কর্মস্থলে রেখেছে। আবার কর্মক্ষমতার চেয়ে অধিক পরিমাণ লোড চাপিয়ে দিয়ে বিড়ম্বনার সৃষ্টি করছে। যা শ্রম আইনের পরিপন্থী। এই ব্যাংকে মানি ট্্রান্সফার ছাড়া আর কোন কার্যক্রম নেই। তাছাড়া মাঠ পর্যায়ের কর্মকর্তা-কর্মচারীদের মতামত গ্রহণ করেন না ব্যাংকটির কর্তৃপক্ষ। এসব অফিস বন্ধ হলে সহস্রাধিক ব্যাংক কর্মকর্তা-কর্মচারীর পরিবার-পরিজন দিনাতিপাত করবেন। এছাড়া একার্যক্রমটি মাল্টিপারপার্স অফিসগুলোর মতো হয়ে যাওয়ার ভয়ে গ্রাহকদের মধ্যে উদ্বিগ্ন উৎকণ্ঠার সৃষ্টি হবে। এ ব্যাপারে ডিপুটি হেড অব মোবাইল ব্যাংকিং মেসবাহুল আলম কোন কথা বলতে রাজি হয়নি। (নি“ে এই নাম্বারগুলো দেওয়া হলো। তাদের মতামত নেয়া যেতে পারে। এই রিপোর্টটি রংপুর আরএম অফিস থেকে ইমেইলে আসা একধিক ম্যাসেজ ও ফ্লাট মালিক ও স্থানীয় ব্যাংকিং  ব্যবস্থাপকের তথ্য অনুযায়ী করা হয়েছে। সত্যতা যাচাইয়ের মাধ্যম রংপুর আর এম ০১৭১৫১৪০১৪৫, ডিপুটি হেড অব মোবাইল ব্যাংকিং মেসবাহুল আলম ০১৯৩৮৮০১৬১১, হেড অব মোবাইল ব্যাংকিং০২-৭১৭৬৩৯০-৩। )

মন্তব্য লিখুন (ফেসবুকে লগ-ইন থাকতে হবে)

মন্তব্য