madokমোঃ আব্দুস সালাম- চিরিরবন্দর (দিনাজপুর) থেকে- দিনাজপুর জেলার চিরিরবন্দরের আমতলী আমবাড়ীতে  হাত বাড়ালেই পাওয়া যাচ্ছে হেরোইন ফেন্সিডিল গাঁজা নেশার ট্যাবলেট ও ইনজেকশন। বিজিবি’র চোখে ফাঁকি দিয়ে ভারত থেকে আসছে চোরাপথে অবাধে বাজারজাত হচ্ছে। আর মাদক দ্রব্য ব্যবসায়ীদের অভয়ারণ্যে পরিণত হচ্ছে। কখনো প্রকাশ্যেই, কখনো রাতের আঁধারে পাচার হচ্ছে দেশের বিভিন্ন স্থানে।

আমতলীতে মাদকদ্রব্য পাচারের মূল গড়ে ওঠায় এখানে নিত্য নতুন মাদক ব্যবসায়ীদের আগমন ঘটছে বলে অভিযোগ উঠেছে। সেই সঙ্গে মাদক দ্রব্য সহজলভ্য হওয়ায় মাদকাসক্তদের সংখ্যা আশঙ্কাজনক হারে বৃদ্ধি পাচ্ছে। যুব সম্প্রদায়সহ সমাজের একটি অংশ কোনো না কোনো ভাবে মাদকদ্রব্য বিক্রি ও ব্যবহারে জাড়িয়ে পড়েছে। এতো কিছু চলার পরও স্থানীয় বিজিবি প্রশাসনসহ পুলিশ প্রশাসন অজ্ঞাত কারণে রয়েছে নিশ্চুপ।

এলাকাবাসী নীরব দর্শকের মতো দেখছে। তাদের করার কিছু থাকে না। চিরিরবন্দর উপজেলার আমতলী, তাজপুর, মোহনপুর, দিনাজপুরে বিভিন্ন সীমান্ত দিয়ে প্রতিদিন হাজার হাজার বোতল ফেন্সিডিল বিস্কুটের কাটুন বস্তায় কালো পলিথিন ব্যাগ করে ট্রাক, বাস, মাইক্রোবাস, কার নছিমন, ভটভটি, রিক্শা, ভ্যান, মোটর সাইকেল, বাই-সাইকেল যোগে দেশের বিভিন্ন স্থানে পাচার হচ্ছে।

আমতলীতে বহিরাগত গ্রাহক ছাড়াও এদের মূল গ্রাহক কিছু পান সিগারেটের দোকানদার মাদকদ্রব্য সহজলভ্য হওয়ায় উপজেলার স্কুল কলেজগামী ছাত্র/যুবক মাঝবয়সী ছাড়াও বেশ কিছু পঞ্চাশোর্ধে ব্যক্তি মাদকাসক্ত হয়ে পড়েছে। আগে বাস, ট্রাক শ্রমিক শ্রেণীর মধ্যে মাদকাসক্তদের সংখ্যা লক্ষ্য করা যেত। এখন বর্তমানে দিনমজুর ও কৃষকরাও বাদ যাচ্ছে না। মাদকাসক্তদের সংখ্যা আশঙ্কাজনক হারে বৃদ্ধি পাওয়ায় এ এলাকার অপরাধ প্রবণতা বৃদ্ধি পেয়েছে। নেশার টাকা যোগাড় করতে গিয়ে অনেকেই ঘরের জিনিসপত্র বিক্রি করে। এতে পরিবারে নেমে আসছে অশান্তির ঝড়।

মাদকাসক্তরা যখন টাকা যোগাড় করতে পারে না তখন তারা বিভিন্ন অপরাধমূলক কর্মকান্ডে জড়িয়ে পড়ছে। উপজেলা মাদক ব্যবসায়ীদের অভয়ারণ্যে পরিণত হলেও স্থানীয় প্রশাসন ও পুলিশ প্রশাসন রয়েছে নিশ্চুপ। অভিযোগ উঠেছে- মাদক ব্যবসায়ীরা থানা পুলিশকে ম্যানেজ করে নির্বিঘেœ মাদক কারবার চালিয়ে যাচ্ছে।

মন্তব্য লিখুন (ফেসবুকে লগ-ইন থাকতে হবে)

মন্তব্য