আরিফ উদ্দিন, গাইবান্ধাঃ গাইবান্ধা ফুলছড়ি উপজেলার উড়িয়া গ্রামের মুক্তিযোদ্ধা মো. খবির উদ্দিন সরকারের মেয়ে খূশবা আকতারকে ফুলছড়িতে ক্রয় করে দেয়া হোটেলের ব্যবসা প্রতিষ্ঠানটি সন্ত্রাসীরা হামলা চালিয়ে জবর দখল করে নিয়ে তাতে তালা ঝুলিয়ে দিয়েছে।

এতে বাধা দিলে একই গ্রামের ইসমাইল, জুয়েল, ইয়াছিন ও তাদের সহযোগি সন্ত্রাসীরা বসতবাড়িতে হামলা চালায় এবং মুক্তিযোদ্ধার দুই মেয়ে খুশবা আকতার ও ফাতেমা আকতারকে বেদম মারপিট এবং তাদের শ্লীলতাহানি করে। এসময় বাধা দিলে জামাতা ইউসুফ আলীকেও মারপিট করে সন্ত্রাসীরা।

এতে ফাতেমা আকতার আত্মরক্ষার্থে মোবাইল ফোনের মাধ্যমে ৯৯৯ নম্বরে ফোন করে। তাৎক্ষনিক ফুলছড়ি থানার এসআই রফিক সিগন্যাল পেয়ে ঘটনাস্থলে গিয়ে তাদেরকে উদ্ধার করে সিএনজিযোগে চিকিৎসার জন্য গাইবান্ধা জেলা হাসপাতালে প্রেরণ করে। এব্যাপারে ফুলছড়ি থানায় একটি মামলা দায়ের করা হয়েছে।

বৃহস্পতিবার গাইবান্ধা প্রেস ক্লাবে এক সংবাদ সম্মেলনে মুক্তিযোদ্ধা মো. খবির উদ্দিন সরকার লিখিত বক্তব্যে এ তথ্য জানান। তিনি আরও উল্লেখ করেন তার বড় মেয়ে মোছা. খুশবা আকতারকে বিয়ে দেয়ার পর তাদের সংসারে অভাব দেখা দিলে একটি দোকান ক্রয় করে মেয়েকে দেন এবং সেই দোকানে জামাতা ইউসুফ আলী হোটেলের ব্যবসা শুরু করেন।

এই ব্যবসা প্রতিষ্ঠানটি ভালো ব্যবসা শুরু হলে জামাতার ছোট ভাই ইসমাইল, জুয়েল ও ইয়াছিন আলী সহযোগী সন্ত্রাসীদের নিয়ে জবর দখলের অপচেষ্টা চালায়। এতে নিরাপত্তার জন্য জামাতা ইউসুফ আলী ফুলছড়ি থানায় একটি জিডি করে। এতে ক্ষিপ্ত হয়ে সন্ত্রাসীরা গত ২৯ সেপ্টেম্বর সন্ধ্যায় তারা সন্ত্রাসীদের নিয়ে ব্যবসা প্রতিষ্ঠানটি জবর দখল করে নেয় এবং মারপিটের ঘটনা ঘটায়। ফলে ওই সন্ত্রাসীদের আসামি করে মুক্তিযোদ্ধার জামাতা থানায় মামলা দায়ের করে।

এই মামলা থেকে রেহাই পেতে নিজেরাই নিজেদের হা কেটে পায়ে, হাতে কৃত্রিম জখম দেখিয়ে ব্যান্ডেজ করে ফুলছড়ি থানার ওসির কাছে গত ১ অক্টোবর উল্টো মিথ্যা মামলা দায়ের করে। এতে মুক্তিযোদ্ধা, তার স্ত্রী, তার দুই মেয়ে, জামাতা ও নাতি নাতনিদের আসামি করা হয়। এব্যাপারে পুলিশ কোন ভূমিকা না রাখলে সন্ত্রাসীরা আরও বেপরোয়া হয়ে ওঠে এবং তারা মুক্তিযোদ্ধা ও তার পরিবারকে নানাভাবে ভয়ভীতি প্রদানসহ হত্যার হুমকি দিয়ে আসছে। এতে মুক্তিযোদ্ধার জামাতা, মেয়ে তারা পরিবার পরিজন নিয়ে আত্মরক্ষার্থে পালিয়ে বেড়াচ্ছে।

সংবাদ সম্মেলনে এব্যাপারে জেলা প্রশাসন, পুলিশ সুপার, ফুলছড়ি থানার কর্মকর্তা, মুক্তিযোদ্ধা সংসদসহ সংশ্লিষ্ট সকলের কাছে এই অন্যায়ের প্রতিকারসহ সন্ত্রাসীদের বিরুদ্ধে আইনানুগ ব্যবস্থা গ্রহণের দাবি জানানো হয়। সংবাদ সম্মেলনে উপস্থিত ছিলেন মুক্তিযোদ্ধা খবির উদ্দিন সরকারের স্ত্রী নুর আকতার, মেয়ে খুশবা আকতার ও ফাতেমা আকতার।

মন্তব্য লিখুন (ফেসবুকে লগ-ইন থাকতে হবে)

মন্তব্য