ভারতের সংবিধানে জম্মু ও কাশ্মীরকে দেওয়া বিশেষ মর্যাদা বাতিলের দুই মাস পর উপত্যকাটি ভ্রমণে পর্যটকদের ওপর থেকে নিষেধাজ্ঞা তুলে নেওয়া হয়েছে।

মঙ্গলবার গভর্নর সত্যপাল মানিকের নির্দেশনা অনুযায়ী বৃহস্পতিবার থেকে ভূস্বর্গখ্যাত কাশ্মীরের দরজা খুলে গেছে বলে জানিয়েছে এনডিটিভি।

সন্ত্রাসী হামলার আশঙ্কায় অগাস্টের শুরুতে ভারতের কেন্দ্রীয় সরকার সতর্কতা জারি করলে হাজার হাজার পর্যটক, শ্রমিক, শিক্ষার্থী ও তীর্থযাত্রী এলাকাটি ছেড়ে যান।

সেসময় উপত্যকাটিতে ২০ থেকে ২৫ হাজার পর্যটক ছিলেন বলে ভারতের পর্যটন বিভাগের কর্মকর্তারা বলেছিলেন।

কেবল ৩ অগাস্টই কাশ্মীর থেকে ফিরে যায় ৬ হাজারেরও বেশি পর্যটক; সহিংসতার আশঙ্কায় বিভিন্ন রাজনৈতিক দলের নেতাকে গৃহবন্দি করার পাশাপাশি পাঠানো হয় বাড়তি সেনা।

ইন্টারনেট ও টেলিফোন সংযোগ বিচ্ছিন্ন করে দেয়ার পর ৫ অগাস্ট নরেন্দ্র মোদীর সরকার সংবিধানে কাশ্মীরকে দেওয়া বিশেষ মর্যাদা বাতিল করে সেটিকে দুটি কেন্দ্রশাসিত অঞ্চলে ভাগ করে দেয়।

অবরুদ্ধ কাশ্মীরের বাসিন্দাদের ওপর আরোপ করা হয় নানান বিধিনিষেধ। সেই থেকে ভূস্বর্গখ্যাত উপত্যকাটি ছিল পর্যটকশূন্য।

সাম্প্রতিক সপ্তাহগুলোতে সরকার কাশ্মীরের ওপর থেকে বেশকিছু বিধিনিষেধ প্রত্যাহার করে নিলেও বেশিরভাগ এলাকার ইন্টারনেট ও টেলিফোন যোগাযোগব্যবস্থা এখনও সচল হয়নি।

পর্যটন বিভাগ জানিয়েছে, চলতি বছরের জুনেই কাশ্মীর ঘুরে গেছেন প্রায় পৌনে দুই লাখ পর্যটক। জুলাইয়ে এ সংখ্যা কিছুটা কমে ছিল দেড় লাখ। রমরমা সেই অবস্থার বিপরীত চিত্র এখন উপত্যকাটির বিভিন্ন পর্যটন কেন্দ্র, হোটেল ও ব্যবসা প্রতিষ্ঠানে।

বৃহস্পতিবার থেকে দ্বার খুললেও ব্যাপক সেনা অধ্যুষিত অঞ্চলটি আগের মতো পর্যটক পাবে কিনা, তা নিয়েও শঙ্কা অনেকের। কর্তৃপক্ষ অবশ্য পর্যটকদের সব ধরনের সহযোগিতা দেয়ার আশ্বাস দিয়েছে।

মন্তব্য লিখুন (ফেসবুকে লগ-ইন থাকতে হবে)

মন্তব্য