কুড়িগ্রামের রাজারহাটে নবম শ্রেণির ছাত্রীর কোলে পিতৃ পরিচয়হীন এক নবজাতকের জন্ম হওয়ায় এলাকায় দারুণ চাঞ্চল্যের সৃষ্টি হয়েছে। বর্তমানে ওই ছাত্রী তার কোলের শিশুকন্যার পিতৃত্বের পরিচয়ের জন্য প্রশাসন সহ এলাকার মাতব্বরদের দ্বারে দ্বারে ঘুরছে।

প্রতারনার শিকার ছাত্রী জানান, উপজেলার রাজারহাট ইউনিয়নের হরিশ্বর তালুক গ্রামের কলিম উদ্দিন ব্যাপারীর পুত্র সুমন মিয়া ওরফে সোনা মিয়া একই গ্রামের মতিয়ার রহমানের কন্যা মমতা আক্তারকে বিদ্যালয়ে আসা যাওয়ার পথে প্রেমের প্রস্তাব দিয়ে উত্ত্যক্ত করে আসতো। একপর্যায়ে তাদের দু’জনের মধ্যে প্রেমের সম্পর্ক গড়ে উঠে।

এ সুবাদে প্রতারিত প্রেমিক মমতা আক্তারের সাথে ফুসলিয়ে দৈহিক সম্পর্কে লিপ্ত হয়। মমতা আক্তার হরিশ্বর তালুক উচ্চবিদ্যালয়ের নবম শ্রেণির ছাত্রী। অবাধ মেলা-মেশার কারণে প্রেমিকা গর্ভবর্তী হলে পরিবারের লোকজন টের পায়। বিষয়টি প্রেমিক সুমনকে জানিয়ে বিয়ের জন্য বার বার চাপ সৃষ্টি করে। কৌশলে প্রতারক প্রেমিক অস্বীকার করে সটকে পড়ে।

প্রেমিকার পিতা মতিয়ার রহমান বিচারের জন্য স্থানীয় মাতব্বরদের শরণাপন্ন হয়। এ বিষয়ে স্থানীয়ভাবে কয়েক দফা শালিস বৈঠক হলেও এর কোন সুরাহা হয়নি। বাধ্য হয়ে ধর্ষিতার পিতা গত ২ফেব্রুয়ারী রাজারহাট থানায় নারী ও শিশু নির্যাতন দমন আইনে একটি মামলা দায়ের করে। যার নং ২। কিন্তু মামলাটি বিচারাধীন চলাকালীন সময়ে গত ১অক্টোবর মঙ্গলবার সন্ধ্যায় প্রেমিক কর্তৃক প্রতারনার শিকার মমতা আক্তার একটি কন্যাসন্তান প্রসব করে।

বিয়ের আগেই সন্তানের মা হওয়ায় এলাকায় চাঞ্চল্যের সৃষ্টি হয়। এদিকে প্রতারিত মমতা আক্তার তার গর্ভের সন্তানের পিতৃত্বের দাবী করে প্রশাসন ও এলাকার মাতব্বরদের দ্বারে দ্বারে ঘুরছে। ঘটনার পর থেকেই প্রতারক প্রেমিক গা ঢাকা দিয়েছে।

সুমনের বিষয়ে এলাকাবাসীরা অভিযোগ করেন, প্রতারক প্রেমিক ছাত্রলীগের নেতা নাম ভাঙ্গিয়ে ভয়ভীতি দেখিয়ে এলাকার একাধিক মেয়েকে উত্ত্যক্ত করে। এ ধরনের ঘটনায় বেশ কয়েক বার স্থানীয়ভাবে শালিসে সে জরিমানাও দিয়েছে। প্রতারিত মমতা আক্তারের পিতা অভিযোগ করে বলেন, আমরা গরিব হওয়ায় দীর্ঘদিন অতিবাহিত হলেও থানা থেকে মামলার চার্জশিট দেয়া হয়নি।

এ ব্যাপারে রাজারহাট থানার ওসি তদন্ত নজরুল ইসলাম বলেন, সুমন ছেলেটি দুষ্ট প্রকৃতির। তার বিরুদ্ধে মামলা দায়ের হওয়ায় পলাতক রয়েছে।

মন্তব্য লিখুন (ফেসবুকে লগ-ইন থাকতে হবে)

মন্তব্য