জ্বালানি তেলে গত কয়েক দশক ধরে চলে আসা ভর্তুকি প্রত্যাহারের ঘোষণার পর একুয়েডরে সরকারবিরোধী বিক্ষোভ ও সহিংসতা ছড়িয়ে পড়েছে।

পরিস্থিতি মোকাবেলায় বৃহস্পতিবার প্রেসিডেন্ট লেনিন মোরেনো দেশটিতে জরুরি অবস্থা জারি করেন বলে বিবিসি জানিয়েছে।

সরকারের বার্ষিক সংস্কার কর্মসূচির অংশ হিসেবে মোরেনো সম্প্রতি জ্বালানি তেলের ভর্তুকি তুলে নেয়ার ঘোষণা দিয়েছিলেন।

ভর্তুকি তুলে নেওয়ায় দেশটিতে গ্যালনপ্রতি ডিজেলের দাম ১ দশমিক ৩ ডলার থেকে বেড়ে ২ দশমিক ৩০ ডলার হয়েছে। পেট্রলের দাম গ্যালনপ্রতি ১ দশমিক ৮৫ ডলার থেকে হয়েছে ২ দশমিক ৩৯ ডলার।

বৃহস্পতিবার থেকে এ সিদ্ধান্ত কার্যকর হলে এর প্রতিবাদে সকাল থেকেই বাস-ট্রাক ও ট্যাক্সিচালকরা রাজধানী কুইটো ও সমুদ্র উপকূলবর্তী গ্যেকুইলের বিভিন্ন সড়ক অবরোধ করে।

পরে আদিবাসী বিভিন্ন গোষ্ঠীর সদস্য, শিক্ষার্থী ও শ্রমিক সংগঠনগুলো এতে যোগ দেয়; তারা পাথর ফেলে ও টায়ার জ্বালিয়ে যান চলাচলে বিঘ্ন ঘটায়।

কুইটোতে দাঙ্গা পুলিশ মুখোশধারী তরুণ বিক্ষোভকারীদের দিকে কাঁদানে গ্যাস ছুড়ে তাদেরকে ছত্রভঙ্গ করে দেয় বলে জানিয়েছে বিবিসি। সড়কগুলোতে সাঁজোয়া যান মোতায়েন করা হয়েছে।

সরকারি কর্মকর্তারা বলছেন, চোরাচালান বন্ধ ও অর্থনীতির দুর্দশা কাটাতেই জ্বালানি তেল থেকে ভর্তুকি তুলে নেয়ার এ সিদ্ধান্ত হয়েছে।

২০১৭ সালে বামপন্থি রাফায়েল কোরেয়ার স্থলাভিষিক্ত হওয়া মোরেনো বলেছেন, গত ৪০ বছর ধরে যে বিপুল পরিমাণ ভর্তুকি দেয়া হয়েছে, তা দেশের অর্থনীতিকে পঙ্গু করে দিয়েছে।

“নাগরিকদের নিরাপত্তা নিশ্চিত করতে ও বিশৃঙ্খলা এড়াতে আমি জরুরি অবস্থা জারির নির্দেশ দিয়েছি। দেশের জন্য সঠিক সিদ্ধান্ত নেওয়ার সাহস আমার আছে,” বলেছেন তিনি।

মন্তব্য লিখুন (ফেসবুকে লগ-ইন থাকতে হবে)

মন্তব্য