দিনাজপুর সংবাদাতাঃ মরনাই আবাসন সরকারী প্রাথমিক বিদ্যালয়টির পার্বতীপুর শহর থেকে প্রায় ২৫ কিলোমিটার দূরে হাবড়া ইউনিয়নের মরনাই আবাসন প্রকল্পের কাছাকাছি বিল বাড়িয়ায় (বিলের মাঝে)। ২০১৩ সালে ৩৩ শতক জায়গার ওপর বিদ্যালয়টি স্থাপতি হয়।

এটি প্রতিষ্ঠিার উদ্দেশ্য ছিল তিন আবাস প্রকল্পে যে সব গরীব, অসহায় মানুষ বাস করেন তাদের ছেলে মেয়েরা যেন এখানে লেখাপড়া করতে পারে। কিন্তু বিদ্যালয়টি বিলের মাঝে হওয়ায় বৃষ্টি ও বন্যার পানিতে চতুর দিকে ডুবে যায়।

এসময় ছোট ছোট ছেলে মেয়েদের পানি মাড়িয়ে বিদ্যালয়ে আসা-যাওয়া করতে হয়। এতে পরনের কাপড় ভিজে যায়। বইখাতা ভিজে যাওয়ার ঝুঁকি থাকে। গত এক সপ্তাহে ভারী বর্ষণে এ ঝুঁকি আরও বেড়ে গেছে। বিদ্যালয় মাঠ ও একমাত্র রাস্তাটি ডুবে যাওয়ায় শিক্ষার্থীদের চরম দূর্ভোগ পোহাতে হচ্ছে।

জানা যায়, বিদ্যালয়টি প্রতিষ্ঠাকালে একটি অফিস কক্ষ ও ৩টি শ্রেণি কক্ষের জন্য এক তলা ভবন নির্মাণ করা হয়। বর্তমানে শিশু শ্রেণি থেকে শুরু করে ৫ম শ্রেণি পর্যন্ত ৮০জন ছাত্র-ছাত্রী অধ্যায়ন করছে। বিদ্যালয়ে সরেজমিন গিয়ে আজ বুধবার দুপুরে ৫ম শ্রেণির ৩ ছাত্র-ছাত্রীর সাথে কথা হয়। ছাত্র শোয়ায়েব বাবু নাসিম ও আব্দুল্লা আল মামুন জানায়, আমাদেরকে খুব কষ্ট করে স্কুলে আসা যাওয়া করতে হয়। বই ভিজে যায় কারো কারো।

বিদ্যালয়ে আসা যাওয়ার জন্য একটি উঁ”ু সড়ক থাকলে এত কষ্ট করতে হতো না। মোছাঃ ইয়াজ জেবুন বলেন, আমরা তো গরীব মানুষের ছেলে-মেয়ে। তাই আমাদের অসুবিধার কথা শোনার ও দেখার কেউ নাই। বিদ্যালয়ের প্রধান শিক্ষক মোঃ জিয়াউর রহমান জানান, এ বিদ্যালয়টি প্রতিষ্ঠার উদ্যোগটি ছিল ভাল।

এখান থেকে অন্যান্য গ্রামের দুরত্ব দেড় থেকে দুই কিলোমিটার দূরে। বিলের মাঝখানে বিদ্যালয়টিতে আবাসনের ছেলে-মেয়েরা শুধু মাত্র লেখাপড়া করে থাকে। এখানকার ছাত্র-ছাত্রীদের উপস্থিতি অত্যান্ত সন্তোষজনক। লাগাতার বর্ষার মধ্যেও শতভাগ উপস্থিতি রয়েছে।

এব্যাপারে পার্বতীপুর উপজেলা নির্বাহী অফিসার (ইউএনও) শাহনাজ মিথুন মুন্নীর সাথে আজ বুধবার কথা হয়েছে। মোবাইল ফোনে তিনি বলেন, বিদ্যালয়ে আমি যাবো এবং প্রয়োজনীয় ব্যবস্থা গ্রহণ করবো।

মন্তব্য লিখুন (ফেসবুকে লগ-ইন থাকতে হবে)

মন্তব্য