কুড়িগ্রামের রাজারহাট উপজেলার মেকুরটারি গ্রামে সেলাই কাজের পারিশ্রমিক হিসেবে পাওয়া ৯শ টাকা না দেয়ায় স্ত্রীর গায়ে আগুন দিয়েছে এক স্বামী। অগ্নিদগ্ধ গৃহবধূ ইসমত আরাকে কুড়িগ্রাম সদর হাসপাতালে ভর্তি করা হয়েছে। মঙ্গলবার দিবাগত রাত ৩টার দিকে টাকা নিয়ে ঝগড়ার এক পর্যায়ে স্ত্রীর গায়ে কোরোসিন ঢেলে আগুন ধরিয়ে দেয় স্বামী শহিদুল। এতে ইসমত আরার বুক থেকে নাভি পর্যন্ত অংশ ঝলসে যায়। পরে ইসমত আরা স্বজনরা তাকে কুড়িগ্রাম সদর হাসপাতালে ভর্তি করে দেয়।

জানা গেছে, ৫ বছর আগে রংপুরের শ্যামপুর এলাকার ইসমত আরার সাথে কুড়িগ্রামের রাজারহাট উপজেলার মেকুরটারি গ্রামের নির্মাণ শ্রমিক শহিদুলের বিয়ে হয়। তাদের চার বছরের একটি ছেলেও রয়েছে। ইসমত আরা জানান, কিছুদিন ধরে শহিদুল তাকে প্রায়ই টাকার জন্য চাপ দিতো।

কয়েকদিন আগে সেলাই করে ৯শ টাকা পেয়েছিলেন। এই টাকার মধ্যে ৮০০ টাকা তিনি পাওয়নাদারকে দিয়েছেন। কিন্তু শহিদুলকে এই টাকা না দেয়ায় তাদের মধ্যে মনোমালিন্য চলছিলো।

এনিয়ে ঝগড়ার এক পর্যায়ে ইসমত আরার গায়ে কেরোসিন ঢেলে আগুন ধরিয়ে দেন স্বামী শহিদুল। ইসমত আরা জীবন বাঁচাতে নিজের শরীরে পানি ঢেলে দেন। পরে তার ভাসুর এসে তাকে গুরুত্বর অবস্থায় সদর হাসপাতালে ভর্তি করান।

বুধবার দুপুরে কুড়িগ্রাম সদর হাসপাতালের গাইনী সার্জারি ওয়ার্ডে গিয়ে দেখা যায়, অসহ্য যন্ত্রণায় ইসমত আরা কাতরালেও পাশে তার কোন স্বজন নেই। বুকের নিচে থেকে নাভির উপর পর্যন্ত পুরোটাই বড় বড় ফোসকা পড়ে জ্বালা যন্ত্রনা করছে। তার স্বামী ঘটনার পর থেকে উধাও হয়ে গেছেন। গভীর রাতে তার ভাসুর আশরাফুল তাকে হাসপাতালে ভর্তি করে দেন। সকালে শ্বশুড়িও এসেছিলেন। কিন্তু পরে তারাও সটকে পড়েছেন। খবর দেয়া হলেও এখনও ইসমত আরা বাবা মা আসেনি। তাকে দেখাশোনা করছেন পাশের বেডের এক রোগীর স্বজন।

কুড়িগ্রাম সদর হাসপাতাল তত্বাবধায়ক ডা. আবু মো: জাকিরুল ইসলাম জানান, ইসমত আরার শরীরে ১০ ভাগ পুড়ে গেছে। আশা করা যায় তিনি চিকিৎসায় সুস্থ হয়ে উঠবেন। তার প্রয়োজনীয় চিকিৎসা ও ওষুধ দেয়া হচ্ছে। সরবারহ নেই এমন ওষুধ কেনার জন্য সমাজসেবা অধিদপ্তরের সহায়তা নেয়া হচ্ছে।
এ বিষয়ে রাজারহাট থানার ওসি কৃষ্ণ কুমার সরকার বলেন, ‘বিষয়টি জানতে পেরে একজন অফিসারকে হাসপাতালে পাঠানো হয়েছে। বিষয়টি খতিয়ে দেখে প্রয়োজনীয় আইনগত ব্যবস্থা নেয়া হবে।’

মন্তব্য লিখুন (ফেসবুকে লগ-ইন থাকতে হবে)

মন্তব্য