মাসুদ রানা পলক, ঠাকুরগাঁওঃ ঠাকুরগাঁওয়ের পীরগঞ্জ উপজেলার থুমনিয়া এবং সাগুনি শালবনের বেহাত হওয়া প্রায় সাড়ে তিন শত বিঘা জমি বছরের পর বছর ধরে প্রভাবশালীরা দখল করে রাখলেও উদ্ধারের কােনাে উদ্যােগ নেই কর্তপক্ষের। তবে স্থানীয় প্রশাসন বলছে, অচিরেই ব্যবস্থা নেওয়া হবে।

শালবনের জমি দখল করে অবাধে চলছে চাষাবাদ। কেউ কেউ আবার বাড়িও করেছেন। লিজ দিয়েছেন অন্যের কাছে।

পীরগঞ্জ বন বিভাগ সূত্রে জানা যায়, উপজেলার সৈয়দপুর ইউনিয়নের টাঙ্গন নদীর পূর্বপাড়ের থুমনিয়া শালবনের আয়তন প্রায় ৫ শত একর আর পশ্চিম পাড়ের সাগুনি শালবনের আয়তন প্রায় ২ শত একর।

প্রাচীন এ শালবন দুটির গাছগুলি ক্রমই কমে আসছে। বনের পাশ্বে বড় বড় গাছগুলাে অনেক আগেই চুরি হয়ে গেছে। চারাগাছ গুলাে কেটে খড়ি হিসেবে বাজারে বিক্রি করা এখনো অব্যাহত রয়েছে। এসব কারণে দিন দিন ছােট হয়ে আসছে শালবনের আয়তন। স্বাধীনতার পর থেকেই শালবনের জমি বেহাত হয়ে আসছে।

এলাকার প্রভাবশালীরা বনের চারপাশ্বের জমি দখল করে চাষাবাদ করছেন। কেউ বাড়ি করেছেন। আবার কােনাে কোনো প্রভাবশালী ব্যাক্তি দখল করে লিজও দিয়েছেন অন্যের কাছে। বিগত তত্ত্বাবধায়ক সরকারের আমলে বেহাত হওয়া বনের জমি উদ্ধার উদ্যােগ নেয় কর্তপক্ষ।

এ সময় জরিপে দেখা যায়, থুমনিয়া শালবনের প্রায় তিন শত বিঘা এবং সাগুনি শালবনের প্রায় ৫০ বিঘা জমি বেহাত হয়েছে। এসব জমি উদ্ধার দখলদারদের নােটিশও দেওয়া হয়। কিছু কিছু জমি উদ্ধারও হয়েছে। সরকার পরিবর্তনের পর আবারাে বেহাত হয়ে যায় বনের জমি যা উদ্ধারে কােনাে উদ্যাগ নেই কর্তপক্ষের।

থুমনিয়া ইউপি চেয়ারম্যান একরামুল হক বলেন, ঐতিহ্যবাহী থুমনিয়া শালবনের প্রায় ৩ শত বিঘা জমি দীর্ঘদিন ধরে প্রভাবশালীরা দখল করে রেখেছে। তিনি তা উদ্ধার করে ভূমিহীনদের দেওয়ার জন্য উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তাকে অনেকবার অনুরােধ জানিয়েছেন।

সম্প্রতি একটি মিটিংয়ে তিনি বিষয়টি তুলে ধরেছেন। সাগুনি শালবন এলাকার ইউপি চেয়ারম্যান কার্তিক চদ্র রায় বলেন, বিষয়টি প্রশাসনকে জানানাে হয়েছে। কাজ হচ্ছে না।

পীরগঞ্জ উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা এ ডাব্লিউ এম রায়হান শাহ বলেন, শালবনের জমি বেহাত হওয়ার বিষয়টি তিনি মৈাখিক জেনেছেন। বন বিভাগের সাথে কথা বলে অচিরেই ব্যবস্থা নেবেন বলে জানান তিনি।

মন্তব্য লিখুন (ফেসবুকে লগ-ইন থাকতে হবে)

মন্তব্য