আজিজুল ইসলাম বারী, লালমনিরহাট প্রতিনিধিঃ দৃষ্টিপ্রতিবন্ধী প্রতিভাবান সঙ্গীত শিল্পী জবা আক্তার শ্যামলী ভবিষ্যতে একজন বড় শিল্পী হতে চায়। লালমনিরহাটের কালীগঞ্জ উপজেলার চন্দ্রপুর ইউনিয়নের লতাবর গ্রামের দিনমজুর জালাল উদ্দিনের মেয়ে জবা আক্তার শ্যামলী।

মায়ের গর্ভে থাকাকালীন সময়ে তার মা প্যারালাইসিস আক্রান্ত ও অপুষ্টিজনিত কারণে দৃষ্টি প্রতিবন্ধী হয়ে জন্ম গ্রহণ করে শ্যামলী।দিনমজুর জালাল উদ্দিন চিকিৎসার জন্য জেলার হাড়িভাংগা চক্ষুক্লিনিকে ভর্তি করলেও তার একটি চোখ স্থায়ীভাবে ক্ষতিগ্রস্ত হয় ও অন্যটি দিয়ে সামান্যই দেখতে পায়।

অভাবের তাড়নায় মেয়ের উন্নত চিকিৎসার চিন্তাও করতে পারেনি তার বাবা-মা। দিনমজুর দরিদ্র মা-বাবা তার মেয়ের এ অবস্থায় ভবিষৎ চিন্তায় দিশাহারা। ৪ ভাই-বোনের মধ্যে শ্যামলী তৃতীয়।

জানাগেছে, জবা আক্তার শ্যামলী লালমনিরহাটের হাড়িভাংগায় আর ডি আর এস কর্তৃক পরিচালিত প্রতিবন্ধী স্কুলে ভর্তি হয়ে লেখাপড়ার পাশাপাশি নৃত্য ও সঙ্গীত চর্চা শুরু করে ৬ষ্ঠ শ্রেনীতে উত্তীর্ণ হয়।

পরে লালমনিরহাট শিল্পকলা একাডেমিতে ভর্তি হয়ে লেখাপড়ার পাশাপাশি ৩ বৎসর নৃত্য ও সঙ্গীত চর্চা করেন। লালমনিরহাট শিল্পকলা একাডেমির সৌজন্যে দলগতভাবে সে তিনবার বিটিভির ‘তারানা’ নৃত্য অনুষ্টানে অংশগ্রহন করে ব্যপক সাফল্য লাভ করে। প্রতিবন্ধকতাই যেন হার মানাতে পারেনি দৃষ্টি প্রতিবন্ধী শ্যামলীকে। বিভিন্ন স্থানে সঙ্গীত প্রতিযোগিতায় অংশগ্রহণ করে পুরষ্কার সামগ্রী ও প্রশাংসা অর্জন করতে সক্ষম হয়েছে।

বাংলাদেশ বেতার রংপুরে ভাওয়াইয়া ও পালাগান গেয়ে অসংখ্য শ্রোতার হৃদয়ে স্থান করে নিয়েছে দৃষ্টিপ্রতিবন্ধী এ শিল্পী। দৃষ্টি প্রতিবন্ধী জবা আক্তার শ্যামলী ২০১৬ সালে ব্রাক কর্তৃক আয়োজিত ’চ্যানেল আই’ এ ’তারায় তারায় দ্বীপশিখা’ অনুষ্ঠানে ঙ গ্রুপে ৩য় স্থান দখল করে স্থানীয় ভাবে নতুন করে আলোচিত হন শ্যামলী।

এখন তার স্বপ্ন সমাজের কোনো বিত্তবান ব্যক্তি কিংবা সরকারি সাহায্য- সহযোগিতায় প্রাতিষ্ঠানিক শিক্ষালাভ করে সঙ্গীত প্রতিভায় স্বাক্ষর রাখা। এ প্রত্যাশা এলাকাবাসীরও।

মন্তব্য লিখুন (ফেসবুকে লগ-ইন থাকতে হবে)

মন্তব্য