দিনাজপুরের হাজী মোহাম্মদ দানেশ বিজ্ঞান ও প্রযুক্তি বিশ্ববিদ্যালয়ের (হাবিপ্রবি) ভাইস চ্যান্সেলর (ভিসি) প্রফেসর ড. মু. আবুল কাশেমের পদত্যাগের দাবিতে সংবাদ সম্মেলন করেছে দিনাজপুর সামাজিক অনাচার প্রতিরোধ কমিটি।

সোমবার (৩০ সেপ্টেম্বর) দিনাজপুর প্রেসক্লাবে আয়োজিত সংবাদ সম্মেলনে এই দাবি জানানো হয়। সংবাদ সম্মেলনে লিখিত বক্তব্য পাঠ করেন সামাজিক অনাচার প্রতিরোধ কমিটির আহ্বায়ক শফিকুল ইসলাম।

সংবাদ সম্মেলনে বলা হয়, বায়োকেমিস্ট্রি অ্যান্ড মলিকুলার বায়োলজি বিভাগের সাময়িক বহিষ্কৃত সহকারী অধ্যাপক মো. রমজান আলীকে বাঁচাতে ইউজিসির কাছে মিথ্যাচার করে প্রতিবেদন দিয়েছেন হাজী মোহাম্মদ দানেশ বিজ্ঞান ও প্রযুক্তি বিশ্ববিদ্যালয়ের ভিসি প্রফেসর আবুল কাশেম। এ ঘটনায় ইউজিসির কাছে প্রেরিত প্রতিবেদন প্রত্যাহারসহ হাবিপ্রবির ভিসি আবুল কাশেমের পদত্যাগ দাবি করা হয়।

সংবাদ সম্মেলনে আরও বলা হয়, হাবিপ্রবি প্রশাসনের কাছে রমজান আলীর বিরুদ্ধে ভুক্তভোগী এক ছাত্রী পরীক্ষায় পাশের জন্য হোটেলে থাকার জন্য চাপ, স্ত্রীর অনুপস্থিতিতে বাড়িতে যাওয়ার জন্য চাপ দেওয়ার অভিযোগ করেন। এসব অনুরোধ না রাখলে পরীক্ষায় ফেল করার হুমকিও দেন হাবিপ্রবির শিক্ষক রমজান আলী। লিখিত অভিযোগ এবং রমজান আলীর সঙ্গে মোবাইল ফোনে কথপোকথনের রেকর্ড জমা দেন ওই ছাত্রী। রমজান আলীর স্ত্রীও যৌতুকের জন্য নির্যাতন এবং ছাত্রীর সঙ্গে অনৈতিক সম্পর্কের বিষয়ে অভিযোগ দিয়ে উপযুক্ত বিচার দাবি করেছিলেন।

রমজান আলীর বিরুদ্ধে অভিযোগগুলো উচ্চ আদালতের নির্দেশে গঠিত বিশ্ববিদ্যালয় যৌন নির্যাতন অভিযোগ গ্রহণকারী কমিটিকে তদন্তের দায়িত্ব দেওয়া হয়। ৭ সদস্য বিশিষ্ট তদন্ত কমিটি গত ২০১৮ সালের ২৭ মে ছাত্রীকে যৌন হয়রানি এবং গৃহকর্মীর সঙ্গে অনৈতিক সম্পর্ক স্থাপনের সত্যতা রয়েছে মর্মে প্রতিবেদন দাখিল করলেও ভিসি প্রফেসর আবুল কাশেম ইউজিসির কাছে এ বিষয়গুলি উল্লেখ না করেই মিথ্যাচার করে প্রতিবেদন দিয়েছেন।

সংবাদ সম্মেলনে আরও বলা হয়, শিক্ষক রমজান আলীকে চাকরি থেকে চূড়ান্ত বহিষ্কার এবং যতদিন পর্যন্ত চূড়ান্ত বহিষ্কার না হয় ততদিন পর্যন্ত সাময়িক বহিষ্কারের সুপারিশ করে তদন্ত কমিটি। এরপরও ওই শিক্ষকের বিরুদ্ধে ব্যবস্থা না নেওয়ায় বিশ্ববিদ্যালয় প্রগতিশীল শিক্ষক ফোরাম ও দিনাজপুর মহিলা পরিষদ আন্দোলন শুরু করে। এরই পরিপ্রক্ষিতে গত ২০১৮ সালের ৩০ জুলাই যৌন নির্যাতনের ঘটনা প্রমাণিত হওয়ায় চাকরি থেকে রমজান আলীকে সাময়িক বহিষ্কার করে প্রশাসন।

চূড়ান্ত ব্যবস্থা গ্রহণের জন্য রিজেন্ট বোর্ডের সভায় বিষয়টি উত্থাপন করা হবে বলে প্রশাসনের পক্ষ থেকে একাধিকবার জানানো হয়। দীর্ঘ দেড় বছরে চারটি রিজেন্ট বোর্ডে কৌশলে রমজান আলীকে বাঁচাতে ভিসি আবুল কাশেম যে কলকাঠি নেড়েছেন এটি এখন পরিষ্কার।

তাই শিগগিরই রমজান আলীকে চূড়ান্ত বহিষ্কারের মাধ্যমে হাজী মোহাম্মদ দানেশ বিজ্ঞান ও প্রযুক্তি বিশ্ববিদ্যালয় এবং ইউজিসির কাছে প্রেরিত প্রতিবেদন প্রত্যাহারসহ হাবিপ্রবির ভিসি আবুল কাশেমকে পদত্যাগ করে দিনাজপুরকে কলঙ্কমুক্ত করার জন্য সামাজিক অনাচার প্রতিরোধ কমিটি জোর দাবি জানাচ্ছে। অন্যথায় সামাজিক অনাচার প্রতিরোধ কমিটি, মহিলা পরিষদসহ অন্যান্য প্রগতীশীল সংগঠন হাজী মোহাম্মদ দানেশ বিজ্ঞান ও প্রযুক্তি বিশ্ববিদ্যালয়ের শিক্ষার্থীদের নিরাপত্তা, ভাবমূর্তি রক্ষা তথা কলঙ্কমুক্ত করতে বৃহত্তর আন্দোলন গড়ে তোলা হবে।

সংবাদ সম্মেলনে উপস্থিত ছিলেন- সামাজিক অনাচার প্রতিরোধ কমিটির সদস্য সচিব ড. মারুফা বেগম, দিনাজপুর নাট্য সমিতির সাধারণ সম্পাদক রেজাউর রহমান রেজু, সম্মিলিত সাংস্কৃতিক জোটের সাধারণ সম্পাদক সুলতান কামাল উদ্দীন বাচ্চু, সামাজিক অনাচার প্রতিরোধ কমিটির সদস্য তারেকুজ্জামান তারেক, শেখ ছগির আহম্মেদ, রহমতুল্লাহ রহমত, মহিলা পরিষদের সহ সভাপতি মাহবুবা খাতুন, মিনতি ঘোষ, সহ-সাধারণ সম্পাদক মনোয়ারা সানু, প্রশিক্ষণ ও গবেষণা সম্পাদক রুবি আফরোজ, সাংগঠনিক সম্পাদক রুবিনা আকতার, লিগ্যাল এইড সম্পাদক জিন্নুরাইন পারু প্রমুখ।

মন্তব্য লিখুন (ফেসবুকে লগ-ইন থাকতে হবে)

মন্তব্য