রোহিঙ্গাদের ভোটার হওয়ার বিষয়টি নির্বাচন কমিশনের ব্যর্থতা নয় বলে দাবি করেছেন প্রধান নির্বাচন কমিশনার (সিইসি) কেএম নুরুল হুদা। তিনি বলেছেন, ‘নির্বাচন কমিশনের সার্ভারে ১০ কোটি ৪০ লাখ ভোটারের সব ডাটা আছে। সেখানে রোহিঙ্গাদের কারও নাম ওঠেনি। ১১ লাখ রোহিঙ্গা আছে, এদের মধ্যে দুষ্টু প্রকৃতির যারা তাদের আমরা প্রতিহত করেছি। নির্বাচন কমিশনের সার্ভার থেকে নয়, ওরা ভোটার আইডি কার্ড জালিয়াতি করার চেষ্টা করেছে। তবে খবর পাওয়ার সঙ্গে সঙ্গে তা প্রতিহত করা সম্ভব হয়েছে। এর সঙ্গে জড়িতদের শনাক্ত করা হয়েছে। তাদের বিরুদ্ধে কঠোর ব্যবস্থা নেওয়া হবে।’

আজ সোমবার (৩০ সেপ্টেম্বর) দুপুরে রংপুরের জেলা প্রশাসকের সম্মেলন কক্ষে রংপুর-৩ (সদর) আসনের উপনির্বাচন উপলক্ষে আইনশৃঙ্খলা বিষয়ক সভা শেষে সাংবাদিকদের সঙ্গে আলাপকালে এসব কথা বলেন তিনি।

রংপুরের উপ নির্বাচন প্রসঙ্গে তিনি বলেন, ‘ভোটকেন্দ্রে ভোটাররা নিরাপদে ভোট দিতে আসবেন এবং নিরাপদে ভোট দিয়ে বাড়িতে ফিরে যাবেন। এর জন্য সব ধরনের ব্যবস্থা নেওয়া হয়েছে। তবে নির্বাচনে কারচুপি কিংবা ভোটকেন্দ্র দখলসহ যে কোনও অনিয়মের তথ্য পেলে সেই ভোটকেন্দ্রে ভোটগ্রহণ বন্ধ করে দেওয়া হবে। এ ব্যাপারে কোনও অনিয়ম বরদাশত করা হবে না। আমরা এ সবের সঙ্গে কোনও কমপ্রোমাইজ করবো না।’

তিনি আরও বলেন, ‘রংপুর-৩ আসনের উপনির্বাচন অবাধ, সুষ্ঠু, নিরপেক্ষভাবে অনুষ্ঠানের জন্য সব প্রস্তুতি নেওয়া হয়েছে। ফলে নির্বাচন নিয়ে কোনও ধরনের আশঙ্কার কারণ নেই।’

সিইসি বলেন, ‘রংপুরে এর আগেও ইভিএমের মাধ্যমে সিটি করপোরেশন ও সংসদ নির্বাচন অনুষ্ঠিত হয়েছে। নির্বাচন নিয়ে কোনও অভিযোগ মেলেনি। আশা করি এ বারের নির্বাচনেও কোনও ধরনের সমস্যা হবে না। নির্বাচন সম্পন্ন করার জন্য ব্যালট পেপার ছাপানোসহ নির্বাচনি সরঞ্জাম ইতোমধ্যে চলে এসেছে। নির্বাচনে প্রতিটি ভোট কেন্দ্রে র‍্যাব, বিজিবি ও পুলিশের বিপুল সংখ্যক সদস্য নিয়োগ দেওয়া হচ্ছে। সেই সঙ্গে ম্যাজিস্ট্রেটসহ ভ্রাম্যমাণ আদালত এবং প্রয়োজনীয় সব পদক্ষেপ গ্রহণ০ করা হয়েছে।’

আইনশৃঙ্খলা কমিটির সভায় জেলা প্রশাসক আসিব আহসানের সভাপতিত্বে অন্যান্যদের মধ্যে বক্তব্য রাখেন নির্বাচন কমিশনের সিনিয়র সচিব আলমগীর হোসেনসহ নির্বাচন কমিশনের ঊর্ধ্বতন কর্মকর্তারা এবং আইনশৃঙ্খলা কমিটির কর্মকর্তারা।

মন্তব্য লিখুন (ফেসবুকে লগ-ইন থাকতে হবে)

মন্তব্য