চীনের স্বাধীনতা দিবসকে সামনে রেখে রবিবার উত্তপ্ত হয়ে উঠেছে হংকং। হংকংয়ের পূর্ণ স্বাধীনতার দাবিতে তিনমাস ধরে চলা গণতন্ত্রপন্থিদের আন্দোলনে প্রায় অচল হয়ে পড়েছে চীনশাসিত আধা-স্বায়ত্তশাসনের দেশটি।

আগামী ১ অক্টোবর চীনের স্বাধীনতা দিবসকে সামনে রেখে রবিবার বিক্ষোভকারীরা ঘেরাও করেছে কেন্দ্রীয় সরকারের প্রশাসনিক ভবনসহ হংকংয়ের বেশ কয়েকটি গুরুত্বপূর্ণ স্থান।

এ সময় কালো মুখোশধারী বিক্ষোভকারীরা পেট্রোল বোমা ও ইট-পাটকেল নিক্ষেপ করে। একটি পেট্রোল বোমা সরকারের প্রশাসনিক ভবনের সামনে পড়ে। পুলিশও পাল্টা বিক্ষোভকারীদের দিকে জলকামান, কাঁদুনে গ্যাসসহ রাবার বুলেট ছেঁড়ে। গ্রেফতার হন বিপুল সংখ্যক বিক্ষোভকারী। এদিন হতাহতের কোনো খবর পুলিশ এখনও প্রকাশ করেনি।

এদিকে চীনের প্রতিষ্ঠা বার্ষিকীকে সামনে রেখে রাস্তায় নেমে এসেছে ‘এক দেশ, দুই নীতি’র দেশটির চীনপন্থি নাগরিকরাও। দুইশরও বেশি চীনপন্থি নাগরিক লাল টি-শার্ট পড়ে হংকংয়ের ভিক্টোরিয়া পার্কে জমায়েত হয় গণতন্ত্রপন্থিদের বিরুদ্ধে পাল্টা প্রতিবাদ জানাতে। এ সময় তাদের হাতে দেখা যায়, ‘আমি চীনকে ভালবাসি’ লেখা প্ল্যাকার্ড।

এঞ্জেলা (৪০) নামে লাল টি-শার্টধারী একজন গৃহিণী বলেন, ‘গণতন্ত্রপন্থিরা অসহ্যকর। সরকার যদি তাদের বিরুদ্ধে চরমপন্থায় যায়, আমার তাতে কোনো বাধা নেই। আমরা অনেক সহ্য করেছি। তাদের কারণে আমরা নিরাপদে বাইরে বের হতে পারছি না।’

এ বছর চীন তার ৭০তম প্রতিষ্ঠা বার্ষিকী পালন করতে যাচ্ছে। হংকংয়ের গণতন্ত্রপন্থিরা তিন মাস আগে পূর্ণ স্বায়ত্তশাসনের দাবিতে ৫টি দাবি নিয়ে রাস্তায় নেমেছে। ব্যাপক চাপের মুখে দেশটির চীনপন্থি সরকার প্রত্যর্পণ নীতি তুলে নেয়।

কিন্তু গণতান্ত্রিক পদ্ধতিতে নির্বাচিত সরকারের দাবিসহ বাকি চারটি দাবি পূরণের জন্য রাস্তায় থেকে যায় গণতন্ত্রপন্থিরা। রবিবার তারা ‘পাঁচটি দাবি, একটিও কম নয়’ লেখা প্ল্যাকার্ডসমেত ভিড় করে প্রশাসনিক ভবন, সংসদ কাউন্সিল ভবন, শপিং মলসহ বেশ কয়েকটি জনগুরত্বপূর্ণ স্থানে।

এদিকে হংকংয়ের প্রধানমন্ত্রী ক্যারি ল্যাম চীনের ৭০তম প্রতিষ্ঠা বার্ষিকীতে অংশগ্রহণের জন্য সোমবার বেইজিং এর উদ্দেশ্যে দেশ ছাড়বেন।

মন্তব্য লিখুন (ফেসবুকে লগ-ইন থাকতে হবে)

মন্তব্য