আজিজুল ইসলাম বারী, লালমনিরহাটঃ উজানের পাহাড়ি ঢল ও কয়েকদিনের বর্ষণে তিস্তা নদীর পানি ফের বৃদ্ধি পেয়েছে। এতে নতুন করে বন্যার আশঙ্কা দেখা দিয়েছে। বুধবার রাত ৯ টায় দোয়ানী পয়েন্টে তিস্তা নদীর পানি বিপৎসীমার ১৫ সেন্টিমিটার ওপর দিয়ে প্রবাহিত হচ্ছে।

এর আগে, সেপ্টেম্বর মাসের মধ্যবর্তী পর্যন্ত তিস্তার পানিপ্রবাহ বিপদসীমার ৩৫/৪০ সেন্টিমিটার নিচ দিয়ে প্রবাহিত হলে অর্ধমৃত হয়ে পড়ে তিস্তা। সোমবার (১৬ সেপ্টেম্বর) রাত থেকে হঠাৎ বাড়তে থাকে তিস্তার পানিপ্রবাহ। যা ক্রমেই বৃদ্ধি পেয়ে বিপদসীমার ২৫ সেন্টিমিটার উপর দিয়ে প্রবাহিত হয়ে বন্যার সৃষ্টি করে। ৩০/৩৫ ঘণ্টার মধ্যে পানি কমে বন্যা পরিস্থিতির উন্নতি ঘটে। মুক্তি পায় জেলার পানিবন্দি প্রায় ৭/৮ হাজার পরিবার। সেই ধকল কাটতে না কাটতে আবারও বুধবার (২৫ সেপ্টেম্বর) সকাল থেকে বাড়তে থাকে পানি প্রবাহ। যা ক্রমেই বেড়েই চলছে।

স্থানীয়রা জানায়, উজানের পাহাড়ি ঢল ও কয়েকদিনের বৃষ্টিতে তিস্তা নদীর পানিপ্রবাহ বৃদ্ধি পেয়েছে। এতে আবারও বন্যায় প্লাবিত হয়েছে তিস্তার তীরবর্তী নিম্নাঞ্চল। বন্যার পানিতে ডুবে আছে শতশত হেক্টর আমন ধানের ক্ষেত। গেল বন্যার ধকল না কাটতে আবারও বন্যার আশঙ্কায় শঙ্কিত হয়ে পড়েছেন তিস্তাপাড়ের কৃষকরা।

আদিতমারী উপজেলার গোবর্দ্ধন পাসাইটারী তিস্তা চরাঞ্চলের কৃষক মানিক মিয়া বাংলানিউজকে বলেন, নদীর কিনারে জেগে উঠা ৩ দোন (২৭ শতাংশে দোন) জমিতে আগাম জাতের আমন ধান রোপণ করেছিলাম। সেই আমন ক্ষেতের কিছু অংশ নদী ভাঙনে বিলীন যায়। বাকি অংশ প্রথম বন্যায় ডুবে থাকার পর সবেমাত্র দাঁড়িয়েছে। সেই ধানক্ষেত আবারও ডুবে গেছে। যাতে পচে নষ্ট হওয়ার সম্ভবনা রয়েছে।

হাতীবান্ধা উপজেলার পাটিকাপাড়া ইউনিয়নের চর হলদিবাড়ি গ্রামের আব্দুর রহমান ও আনেচ আলী বলেন, গত বন্যার পানি সরে যাওয়ায় কয়েকদিন পরেই আবারও বাড়ছে তিস্তার পানিপ্রবাহ। এতে তিস্তারপাড়ের নিম্নাঞ্চলে পানি প্রবেশ করেছে। ডুবছে নিম্নাঞ্চলের রাস্তাঘাট, বসতবাড়িসহ ফসলি জমি।

দেশের বৃহত্তম সেচ প্রকল্প তিস্তা ব্যারাজের ডালিয়ার নির্বাহী প্রকৌশলী রবিউল ইসলাম বলেন, উজানের পাহাড়ি ঢলে তিস্তার পানিপ্রবাহ বুধবার (২৫ সেপ্টেম্বর) সকাল থেকে বাড়তে থাকে। সন্ধ্যা ৬টায় বিপদসীমার ১০ সেন্টিমিটার নিচ দিয়ে প্রবাহিত হচ্ছে। আপাতত সবগুলো জলকপাট খুলে দেওয়া হয়েছে। ভারত ও বাংলাদেশের এ অঞ্চলে বৃষ্টিপাতের কারণে পানিপ্রবাহ ক্রমেই বাড়ছে। তবে বড় ধরনের বন্যার কোনো সতর্কবাণী নেই।

মন্তব্য লিখুন (ফেসবুকে লগ-ইন থাকতে হবে)

মন্তব্য