সংবাদ সম্মেলনঃ হানিফ এন্টারপ্রাইজের এক যাত্রীর মাদক দিয়ে আরেক যাত্রীকে মাদক মামলায় ফাঁসানোর অভিযোগ উঠেছে বগুড়ার মোকামতলা পুলিশ তদন্ত কেন্দ্রের পুলিশ সদস্যদের বিরুদ্ধে। নিজের ছেলেকে নির্দোষ দাবী করে বৃহস্পতিবার ঠাকুরগাঁও প্রেসক্লাবে সংবাদ সম্মেলনে লিখিত বক্তব্য পাঠ করেন ভুক্তভুগি তপন মহন্তের বাবা অরুণ চন্দ্র মহন্ত। তপন মহন্তের বাড়ি ঠাকুরগাঁওয়ের বালিয়াডাঙ্গী উপজেলার বড়বাড়ী এলাকায়।

তপন মহন্তের বাবা অরুণ চন্দ্র মহš সংবাদ সম্মেলনে বলেন, আমার বড় ছেলে তপন মহন্ত ঢাকায় তামিশনা এ্যাপারেলস লিমিটেড ইউনিট এক এ সাধারণ জ্যার্কাড অপারেটর পদে ১০ অক্টবর ২০১৭ তারিখ থেকে নিয়মিত চাকুরি করে আসছে। সে শারীরিক ভাবে অসু¯’ হলে কোম্পানীর চিকিৎসক ১৫ দিনের ছুটি দিলে ২২ আগস্ট ২০১৯ তারিখে সে গ্রামের বাড়িতে আসে।

ছুটি শেষ হওয়ায় ঠাকুরগাঁওয়ের বালিয়াডাঙ্গী হতে ৪ সেপ্টেম্বর রাত ৭ টা ৪৫ মিনিটে হানিফ এন্টারপ্রাইজের ঢাকা মেট্রো ব-১৪-৭১৭২ নম্বর গাড়ীতে ঢাকার উদ্দেশে রাওনা হয়। আনুমানিক রাত ১ টা সময় গাড়ীটিকে বগুড়ার মোকামতলা পুলিশ তদন্ত কেন্দ্রে পুলিশ সদস্যরা তল্লাশি করে লকার থেকে একটি চালের বস্তা ৫০ বোতল ফেনসিডিল উদ্ধার করে।

বস্তায় কোন টোকেন না থাকায় পুলিশ গাড়ীর ড্রাইভার, সুপারভাইজার ও হেলপারকে আটক করে ব্যাপক জিজ্ঞাসাবাদ করে। গাড়ীর ড্রাইভার, সুপারভাইজার ও হেলপার সুনির্দিষ্ট করে কারও নাম বলতে না পারায় তারা টাকা দিয়ে ছাড়া পায়। পরে পুলিশ আমার ছেলে তপন মহন্তকে গাড়ী থেকে নামিয়ে নিয়ে কিছুদূর যাওয়ার পর এক লাখ বিশ হাজার টাকার বিনিময়ে ছেড়ে দেয়ার প্রস্তাব দেয়। তপন তাদের প্রস্তাবে রাজী না হলে পুলিশ উদ্ধারকৃত মালামালের সাথে মামলা দিয়ে কোর্টে চালান দেয়। বগুড়া, শিবগঞ্জ থানায় মামলা নম্বর ০৭, তারিখ-০৫/০৯/২০১৯।

পুলিশ মামলায় উল্লেখ্য করেছে তপনের দুই পায়ের মাঝে দুই বস্তায় ১৬ কেজি চালসহ ৫০ বোতল ফেনসিডিল উদ্ধার করেছে। যা সম্পূর্ণ ভিত্তিহীন কারণ হানিফ গাড়ীতে বস্তাসহ উপরে উঠার কোন সুযোগ নেই। বস্তা লকারে দিয়ে গাড়ীতে উঠতে হয়। এবং বস্তার ট্যাগ ও গাড়ীর সীট নম্বর একই হয়।

পরে আমরা গাড়ীর অন্য যাত্রী, সুপার ভাইজার ও ড্রাইভারের মাধ্যমে জানতে পারি যে বস্তায় কোন ট্যাগ ছিল না এবং বস্তার মালিক তপন নয়। সুপার ভাইজার ও ড্রাইভারের কাছে জানতে চাইলে তারা বলেন, ওই বস্তা কোথায় কার কাছে নিয়েছে হেলপার মানিক হোসেন বলতে পারবে। কিš‘ ঘটনার পর থেকে ওই গাড়ীর হেলপার মানিক হোসেন পলাতক থাকায় প্রকৃত ঘটনা ও তথ্য জানা যায়নি। গত ২৫ সেপ্টেম্বর’১৯ হেলপার মানিক হোসেনকে পাওয়া গেলে সে বলে বস্তা তপনের নয়।

সংবাদ সম্মেলনে হানিফ এন্টার প্রাইজের ওই গাড়ীর হেলপার মানিক হোসেন বলেন, চালের বস্তার মালিক ঠাকুরগাঁও সদর উপজেলার ভেলাজান আলাদীহাট এলাকার আবুল হোসেনের ছেলে মোস্তফা কামালের। পুলিশ গাড়ী তল্লাশী করার সময় বস্তার মালিক উপ¯ি’ত ছিল না। পুলিশকে বলার পরেও কথা শুনেনি। পুলিশ অন্যায় ভাবে তপনের নামে মামলা দিয়েছে।

যে হেলপার গাড়ীতে চালের বস্তা তুলেছে তাকে স¦াক্ষী করা হয়নি। অথচ গাড়ীর ড্রাইভার, সুপারভাইজার ও একজন পুলিশ সদস্যকে স্বাক্ষী করা হয়েছে। প্রকৃত ঘটনা উৎঘাটনের মাধ্যমে নিরপরাধ তপনকে মিথ্যা মামলা থেকে মুক্তি দেওয়ার জন্য পুলিশ প্রশাসনের উধর্বতন কর্তৃপক্ষের সুদৃষ্টি কামনা করেছেন তপনের পরিবার, স্বজন ও এলাকাবাসীর।

মন্তব্য লিখুন (ফেসবুকে লগ-ইন থাকতে হবে)

মন্তব্য