ইন্দোনেশিয়ায় বিয়ের আগে যৌন সম্পর্ক স্থাপন নিষিদ্ধ ঘোষণা করে নতুন বিল পাসের প্রস্তাবের প্রতিবাদে দ্বিতীয় দিনের মতো বিক্ষোভ করেছেন স্থানীয় জনগণ। দেশটির পার্লামেন্ট ভবনের বাইরে আগুন জ্বেলে বিল পাসের প্রস্তাবের বিরোধিতা করেছেন বিক্ষোভকারীরা। বিক্ষোভকারীদের ঠেকাতে পুলিশ কাঁদানে গ্যাস ও জলকামান ব্যবহার করেছে।

বিবিসির প্রতিবেদনে বলা হয়েছে, রাজধানী জাকার্তাসহ বেশ কয়েকটি শহরে বিক্ষোভ চলছে। প্রস্তাবিত বিলটি এখনো পার্লামেন্টে পাস করা হয়নি। তবে বিক্ষোভকারীরা আশঙ্কা করছেন, বিলটি শেষ পর্যন্ত পাস করা হবে। বিলটি যেন পাস করা না হয়, সে কারণেই বিক্ষোভ করছেন তাঁরা।

ইন্দোনেশিয়া সরকারের প্রস্তাবিত এই বিলে বলা হয়েছে, বিয়ের আগে যৌন সম্পর্ক স্থাপন করাকে অপরাধ হিসেবে গণ্য করা হবে। অপরাধের শাস্তি হিসেবে সর্বোচ্চ এক বছর কারাবাস করতে হতে পারে। শুধু যৌন সম্পর্ক নয়, বিয়ে না করে কোনো নারী-পুরুষ একত্রে বসবাস বা ‘লিভ টুগেদার’ করলে দুজনকেই ছয় মাসের কারাদণ্ড ভোগ করতে হবে। গর্ভপাতের বিষয়েও কঠোর নতুন এই বিল।

জরুরি স্বাস্থ্যবিষয়ক সমস্যা থাকলে কিংবা ধর্ষণের শিকার হয়ে গর্ভবতী হলেই কেবল গর্ভপাত করানো যাবে। এই দুই কারণ ছাড়া কেউ গর্ভপাত করালে বা করতে বাধ্য করা হলে সংশ্লিষ্ট ব্যক্তিকে চার বছরের কারাদণ্ড দেওয়া হবে। এ ছাড়া প্রেসিডেন্ট, ভাইস প্রেসিডেন্ট, ধর্ম, সংবিধান, জাতীয় পতাকা কিংবা জাতীয় সংগীতকে অপমান করাও বেআইনি ঘোষণা করা হয়েছে নতুন এই বিলে।

বিক্ষোভ ঠেকাতে বিক্ষোভকারীদের ওপর লাঠিপেটা করেছে পুলিশ। ছবি: রয়টার্সবিক্ষোভ ঠেকাতে বিক্ষোভকারীদের ওপর লাঠিপেটা করেছে পুলিশ।

গতকাল মঙ্গলবার এই বিলের ওপর ভোট হওয়ার কথা ছিল। কিন্তু নির্ধারিত সময়ের তিন দিন আগে গত শুক্রবার প্রেসিডেন্ট জোকো উইদোদো ভোটদান স্থগিত ঘোষণা করেন। বিলটি নিয়ে আরও পর্যালোচনার প্রয়োজন আছে—এই কারণ দেখিয়ে ভোটদান স্থগিত করেন তিনি।

পুলিশের সঙ্গে সংঘর্ষে আহত হন বেশ কয়েকজন শিক্ষার্থী। ছবি: এএফপিপুলিশের সঙ্গে সংঘর্ষে আহত হন বেশ কয়েকজন শিক্ষার্থী। ছবি: এএফপিকিন্তু আপাতত স্থগিত করা হলেও ইন্দোনেশিয়ার অনেক বাসিন্দার আশঙ্কা, বিলটি শেষ পর্যন্ত পার্লামেন্টে ঠিকই পাস হবে। যে কারণে পার্লামেন্ট ভবনের বাইরে বিক্ষোভে নেমেছেন তাঁরা। হাজার হাজার বিক্ষোভকারী প্রস্তাবিত এই বিলের বিরোধিতা করে রাস্তায় নেমে এসেছেন। বিক্ষোভকারীদের মধ্যে বেশির ভাগই শিক্ষার্থী।

বিক্ষোভের একপর্যায়ে পুলিশের সঙ্গে বিক্ষোভকারীদের সংঘর্ষের ঘটনাও ঘটেছে। মূল সংঘর্ষ হয়েছে রাজধানী জাকার্তাতে। বিক্ষোভকারীরা স্পিকার বামবাং সোয়েসাতিয়োর সঙ্গে দেখা করতে চাইলে পুলিশ বাধা দেয়। এ সময় দুই পক্ষের মধ্যে সংঘর্ষ হয়। বিক্ষোভকারীরা পুলিশের দিকে ইট-পাথর ছুড়ে মারলে পুলিশও কাঁদানে গ্যাস ছোড়ে। নিরাপত্তা রক্ষায় জাকার্তায় ৫ হাজার পুলিশও নামানো হয়েছে।

মন্তব্য লিখুন (ফেসবুকে লগ-ইন থাকতে হবে)

মন্তব্য